সালতামামি
বিবিসি জরিপে ১০০ প্রভাবশালী নারীর একজন রিকতা
রিকতা আখতার বানু
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২৩:০৭ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১২:৫৯
বিবিসি জরিপে বিশ্বে সেরা ১০০ প্রভাবশালী নারীর মধ্যে বাংলাদেশের রিকতা আখতার বানু জায়গা করে নিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জন্ম। পেশায় নার্স রিকতা সেখানে অটিস্টিক শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়।
রিকতা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পাস করার পর রংপুরের নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। পেশাগত কারণে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। এক ছেলে, এক মেয়ের ছোট পরিবার। মেয়েটি প্রকৃতগতভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে।
রিকতা আখতার বানু বলেন, ‘আমার মেয়ে জন্মগ্রহণ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হিসেবে। এটিতে তো আমার হাত নেই। কিন্তু তা নিয়ে আমাকে প্রচণ্ডভাবে হয়রানি হতে হয়। এক পর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। কখনও মনে হয়েছে দুনিয়ায় আমার কোনো জায়গা নেই। মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাই। আবার মনে করি, আমি আত্মহত্যা করে মারা গেলে তো সমাধান হবে না। আমার মেয়ের মতো এ দুনিয়ায় আরও অনেক মেয়ে আছে। তারাও আত্মহত্যা করে মারা যাবে। তার চেয়ে নিজে বেঁচে থাকার পাশাপাশি, সমাজে এসব শিশু ও তার পরিবারকে কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’
মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি করাতে চায় না স্কুল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে চাকরি করতেন, আরও অনেক শিশুর এমন দৃশ্য দেখতেন। তখন যেন তাঁর বেদনাগুলো নতুন করে জেগে ওঠত। তিনি বলেন, ‘‘আমার ভেতরে একটা জেদ কাজ করছিল। যেভাবেই হোক একটা কিছু করা দরকার। এরপর আমার স্বামীকে এসে বলি, আমার জীবনে তুমি অনেক কিছুই দিয়েছ। আর কিছু চাওয়ার নেই। তবে একটা অনুরোধ– আমি একটি স্কুল খুলতে চাই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য। এরপর আমার স্বামী চাষের জমি দেন স্কুলের জন্য। বাবার বাড়ি থেকে যা জমি পেতাম, সেটি বিক্রি করি অন্য খরচ মেটানোর জন্য। ২০০৯ সালে গড়ে তুলি ‘রিকতা আখতার বানু-লুৎফা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’।’’ সেখানে বাচ্চাদের খেলাধুলা, তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন কাজ, কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়। শুরুতে ১৬ শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় ২০ জন শিক্ষক ও প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সমাজ, পরিবার যে সন্তানদের মেনে নেয়নি। তিনি তাদের নিজের ঘরে রেখেছেন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তারা বিভিন্ন খেলা শিখেছে। ফলে বাজার বা দোকানে গিয়ে টাকা দিয়ে জিনিস কিনে আবার ফেরত নিয়ে আসতে পারছে।