ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাইবার আক্রমণ

নারীর কণ্ঠরোধের হাতিয়ার

নারীর কণ্ঠরোধের হাতিয়ার
×

শিল্পকর্ম :: ইরা খান

শাহেরীন আরাফাত

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৪ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাইবার জগতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বহু আগে থেকেই বিদ্যমান। তবে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এটিকে আরও দ্রুত ও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাইবার বুলিং বা আক্রমণ নারীর ব্যক্তিগত সম্মানহানি ঘটিয়ে ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসর থেকে বিতারিত করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই ডিজিটাল আক্রমণ নারীর আত্মবিশ্বাস এবং জনপরিসরে অংশগ্রহণের ক্ষমতাকে ভয়াবহভাবে ব্যাহত করছে। লিখেছেন শাহেরীন আরাফাত
-----------------------------------------------------------------------

সাইবার বুলিং বর্তমানে বাংলাদেশের সমাজে একটি জ্বলন্ত এবং গভীর প্রোথিত সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একুশ শতকের এ ডিজিটাল যুগে পুরোনো সামাজিক সহিংসতা এবং পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো নতুন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা নারীর জন্য একটি প্রতিকূল ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করেছে। এ ধরনের সহিংসতাকে কেবল সাধারণ অনলাইন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তিযুক্ত নয়। এটিকে টেকনোলজি-ফ্যাসিলিয়েটেড জেন্ডারবেজড ভায়োলেন্স বা প্রযুক্তি-সহায়তায় সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডিপফেক ছবি বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়।  

সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানগুলো এ সমস্যার ভয়াবহতা নির্দেশ করে। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন।  

সাইবার বুলিংয়ের মূল শিকড় খুঁজতে গেলে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে নজর দিতে হয়। সাইবার জগৎ সমাজের গভীরে প্রোথিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যেরই একটি বর্ধিত রূপ, যা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং ডিজিটাল হয়রানি ছড়ানোর জন্য একটি অনিয়ন্ত্রিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। 

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অনলাইনে আমরা যা দেখি, সেই সাইবার বুলিং কেবল ভার্চুয়াল জগতের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আসলে বাস্তব সমাজের বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনারই এক স্পষ্ট প্রতিফলন। অনলাইনে যে আক্রমণ দেখা যায়, তা সাইবারের ত্রুটি নয়; বরং এটি সমাজের মধ্যেই গেঁথে থাকা বৈষম্যমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীর ওপর এই আক্রমণ হলো পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এ ক্ষমতা প্রায়ই ধর্মের আবরণে বা ধর্মকে আশ্রয় করে নারীর প্রতি আক্রমণ পরিচালনা করে, যা তাদের জন্য একটি খুবই সুবিধাজনক মাধ্যম। ধর্ম ও সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে এক ধরনের সম্মিলিত আক্রমণ সংঘটিত হয়। এই পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা চায় যে নারী সমাজ সবসময় অধঃস্তন হয়ে থাকুক। নারী যখন খেলাধুলা, রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বা সমাজ-সংস্কৃতিবিষয়ক কোনো ক্ষেত্রে জীবন্ত বা সজীব ভূমিকা পালন করে, তখন এই ক্ষমতা তা সহ্য করতে পারে না।’

দুই.
সমাজে নারীকে এক ধরনের ‘ভোগ্য’ হিসেবে মনে করার যে ধারণা বিদ্যমান, সেটিই চরিত্র হননের প্রধান চালক। এই মানসিকতার কারণে নারীকে চরিত্রগতভাবে আক্রমণ করা হলে তাঁকে সহজে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় এবং সমাজে একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু করা যায়। যখন কোনো নারী চিরাচরিত সামাজিক নিয়ম ভঙ্গ করেন, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তাঁকে ‘কলঙ্কিত’ করার কাজে নিযুক্ত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, নাটোরের একজন কলেজশিক্ষিকা বয়সে কম একজন ছাত্রকে ব্যক্তিগত পছন্দে বিয়ে করা এবং এতে নির্মম সামাজিক বিচারের কথা। বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যম এ ঘটনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতাশূন্যভাবে তুলে ধরে। তিনি শিরোনাম হন ‘কলেজছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকা’ নামে এবং অনলাইনে ভয়াবহ ট্রল, বুলিং এবং সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হন। এই মানসিক চাপ এতটাই তীব্র ছিল, অল্পদিনের ব্যবধানে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার হয়। অর্থাৎ নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যদি সমাজের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো মেনে না চলে, তবে ডিজিটালমাধ্যম ভয়াবহ সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘সাইবার বুলিংয়ের শিকার মূলত নারীরাই বেশি হন। এ প্ল্যাটফর্মটি এখন নারীর মুখ বন্ধ করে দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। যে নারীর কণ্ঠস্বর আছে, যারা মন খুলে সাহস করে কিছু বলতে চাইছেন, তাদের সবার বিরুদ্ধেই সাইবার বুলিং হচ্ছে। এ বুলিং এতটাই ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, অনেক তরুণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তারা নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, কথা বলতে বা জনপরিসরে সামনে আসতে চাইছে না।’

তিনি সম্প্রতি এক গবেষণার কথা বললেন, যেখানে তিনি নিজেও যুক্ত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় নারীদের বক্তব্য নিয়ে ওই গবেষণা পরিচালিত হয়। সেখানে দেখা গেছে, আন্দোলনে সক্রিয় বেশির ভাগ নারী জনপরিসরে হাজির হতে চান না। তারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় জনপরিসরে আন্দোলন নিয়ে কিছু বলতে চান না।

যখন আক্রমণকারীরা নারীর ব্যক্তিগত পছন্দের (যেমন পোশাক বা জীবনযাপন) ওপর আক্রমণ করে সাইবার আক্রমণ চালানো হয়, তখন এটি সমাজের অন্য নারীর প্রতি একটি বার্তা দেয় যে ‘নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই শাস্তি নিশ্চিত’। যদি একজন নারী ক্রমাগত সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড পূরণে ব্যস্ত থাকেন, তবে তিনি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজে কম মনোযোগ দেবেন। এটি পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য বজায় রাখার একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া।

তিন.
যেসব নারী সক্রিয়ভাবে জনপরিসরে, বিশেষত রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সক্রিয়তার ক্ষেত্রে যুক্ত, তারা প্রযুক্তি-সহায়তায় সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। নারী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে লিঙ্গীয় পরিচয়ের কারণে সুসংগঠিত আক্রমণ হচ্ছে। 

রাজনৈতিক সাইবার বুলিংয়ের লক্ষ্য শুধু নারীকে হয়রানি করা নয়; বরং তাদের রাজনৈতিক বৈধতা নষ্ট করা। আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো তাদের ব্যক্তিগত জীবন, নৈতিক চরিত্র এবং যৌনতা। এর মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

সম্প্রতি কয়েকজন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এমন ডিপফেক ভিডিও এবং ব্যক্তিগত জীবনের কথোপকথন ও তথ্য প্রকাশ করে আক্রমণ হয়েছে। এ নিয়ে অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে তেমন প্রতিরোধের জায়গা দেখা যায়নি। পরে ওইসব দলের সমর্থক-কর্মীদের বিরুদ্ধেও একইরকম আক্রমণ হতে দেখা গেছে। 

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় নারীদের যদিও অফলাইনে তাদের হয়রানি তুলনামূলকভাবে কম ছিল, কিন্তু সামাজিকমাধ্যমে তাদের ব্যাপক হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে অনলাইনে। তারা অশ্লীল মন্তব্য, ইনবক্সে আপত্তিকর বার্তা এবং এমনকি ধর্ষণের হুমকিও পেয়েছেন। অনেকে সামাজিকমাধ্যম থেকে সব পাবলিক ছবি ব্যক্তিগত করে দিয়েছেন, অনেকে পোস্টের কমেন্ট অপশন বন্ধ রেখেছেন, আবার অনেকে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। ফলে সমাজে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সমাজের ক্ষমতার বিন্যাসে নারীর ক্ষমতায়ন বা সক্রিয়তা দেখে ভেতরে সন্ত্রস্ত থাকা পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা এখনও যথেষ্ট ক্ষমতাশালী। সাইবার বুলিং হলো সে ক্ষমতারই একটি আধুনিক বহিঃপ্রকাশ।’

সামিনা লুৎফা বলেন, ‘এমনিতেই রাজনীতি নারীদের জন্য একটি কঠিন ক্ষেত্র। সেখানে এ সম্মানহানি মোকাবিলা করে রাজনীতিতে টিকে থাকা মেয়েদের পক্ষে আরও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবার ও আশপাশের মানুষজন নিরুৎসাহিত করেন। যেহেতু এ ঘটনাগুলো জনপরিসরে থেকে যায়। তাই এর একটি সামাজিক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নারীরা, যারা রাজনীতিতে আসতে চাইছেন, তাদের জন্য এটি খুবই বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

এই সমাজবিজ্ঞানীর মতে, ‘যেহেতু সামনে নির্বাচন আসছে, তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আদর্শগত জায়গা থেকে সবাই একে অপরের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণ করছেন এবং এই পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে। যাদের অর্থ ও পুঁজি বেশি আছে, তারা তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনা বা অন্য প্রার্থীকে হেয় করার জন্য এ ধরনের কাজ বেশি করতে পারেন।’

চার.
সামাজিক নীরবতা এবং ন্যায়বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি করে, যেখানে ডিজিটাল হয়রানিকে ভুক্তভোগীরা একটি ‘অপরিহার্য বাস্তবতা’ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হন। এ প্রক্রিয়ায় সমাজে নারীর ওপর ডিজিটাল নিপীড়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তাদের ডিজিটাল আত্মবিশ্বাস এবং জনপরিসরে অংশগ্রহণে বাধা দেয়।

মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) উপদেষ্টা সালমা আলী বলেন, ‘সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে যারা এর ভিকটিম, তারা প্রায়ই জানে না কীভাবে এ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের মতো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে তাদের মনোযোগ কম। এ সুযোগে সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা বারবার সামনে আসছে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও এর শিকার হচ্ছে। এসব সমস্যা যেমন যথাযথভাবে উত্থাপন করতে হবে, তেমনি শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না। আইনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য লাভের সুযোগ, বিচার লাভের সুযোগ, নারীবান্ধব কমপ্লেইন ব্যবস্থাসহ ভিকটিমের জন্য উপযুক্ত সহায়তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যখন এ ধরনের সাইবার আক্রমণ করা হয়, তখন এটি একটি ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এটি এক সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি মানুষের কাছে ছড়িয়ে যেতে পারে, যা মানুষের জীবন ও পরিবার পর্যন্ত শেষ করে দিতে পারে। তাই এটি সমাজের জন্য খুবই ভয়ংকর একটি বিষয়।’

পাঁচ.
সাইবার বুলিং কেবল সাধারণ হয়রানি নয়– এটি নারীর কণ্ঠস্বর, বিশেষত রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের ভিন্নমত স্তব্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ডিপফেক এবং ভুল তথ্য এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইউএন উইমেন এবং অন্যান্য সংস্থা তথ্য সংগ্রহের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। কেবল অভিযোগের সংখ্যা নয়– বরং সহিংসতার ধরন, চালক এবং প্রভাব বোঝার জন্য তথ্যভিত্তিক গবেষণা অপরিহার্য। নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি ‘সামাজিক-বাস্তুসংস্থানগত’ লেন্স ব্যবহার করে সমাজের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন, শিক্ষা এবং নীতিগত হস্তক্ষেপের সমন্বয় প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, ‘প্রথমে এটি স্বীকার করতে হবে, নারী পুরুষের সমপর্যায়ের মানুষ এবং তাঁর প্রতি যা করা হচ্ছে তা অন্যায়। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাইবার বুলিং ও সহিংসতা কমাতে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ সমস্যার সমাধান হলো এই পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাকে মোকাবিলা করা। এ ক্ষমতা চায় নারী চুপ হয়ে যাক, কিন্তু তাকে প্রতিহত করার একমাত্র পথ হলো– নারীর সক্রিয়তা আরও বাড়ানো, আরও বেশি সরব হওয়া এবং নারী নিজের সজীব ক্ষমতা ও ভূমিকা আরও বেশি করে সমাজের সামনে বহিঃপ্রকাশ করা।’

সাইবার বুলিং বাংলাদেশের নারীর জন্য একটি নিছক অনলাইন সমস্যা নয়– এটি গভীর সামাজিক বৈষম্য, পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণের ডিজিটাল প্রতিফলন। এ সমস্যার সমাধান কেবল আইন করে বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন সামাজিক মানসিকতার মৌলিক পরিবর্তন। লিঙ্গ সমতাভিত্তিক মূল্যবোধ পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান– সব স্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যতক্ষণ না সাইবার সহিংসতাকে একটি জেন্ডারভিত্তিক নিপীড়ন এবং গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নারীর জন্য ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ এবং অংশগ্রহণমূলক করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন

×