ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কাঠমান্ডুতে রাজনৈতিক দলের পিআর তালিকার প্রতিবাদে অধিকারকর্মীরা

কাঠমান্ডুতে রাজনৈতিক দলের পিআর তালিকার প্রতিবাদে অধিকারকর্মীরা
×

শুক্রবার কাঠমান্ডুতে নারী অধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ ছবি: দীপক কেসি/টিকেপি

হিল্লোল চৌধুরী

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৬ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের সাংবিধানিক নীতি ক্ষুণ্ন করছে, ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা অনেক কম–এমন অভিযোগ এনে গত ২ জানুয়ারি কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ করেছে নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। এই বিক্ষোভ মিছিল মাইতিঘর মণ্ডলা থেকে শুরু হয়ে নয়া বানেশ্বরের হোটেল এভারেস্টে গিয়ে শেষ হয়। এতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘উইমেনস রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার (ওরে নেপাল)’ এবং দেশব্যাপী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সহায়তা ও সমন্বয়কারী সংগঠন ‘ফেডারেশন অব নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস নেপাল’ যৌথভাবে এ কর্মসূচি সমন্বয় করে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কার্নালি থেকে আসা তিল কুমারী বুদামাগার বলেন, ‘আনুপাতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও নারীরা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থানগুলো থেকে কাঠামোগতভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।’ অংশগ্রহণকারীরা যুক্তি দেখান, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশিত সাম্প্রতিক আনুপাতিক প্রার্থী তালিকা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থি এবং তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মিছিল চলাকালে কর্মীরা নারীর রাজনৈতিক অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব এবং গণতান্ত্রিক শাসনের সমর্থনে ‘রাজনৈতিক দল সাবধান’ এবং ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগান দেন। নারী অধিকারকর্মী, তরুণ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই বিক্ষোভে যোগ দেন।

আরেক বিক্ষোভকারী মনিকা নিরোলা বলেন, ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব কারও দয়া বা অনুগ্রহ নয়; বরং দীর্ঘ ও ধারাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করার যে কোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।’

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব উইমেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারসের চেয়ারপারসন শ্যাম কুমারী শাহ বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য ভয়াবহ হুমকি। রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের আসন কেনাবেচা করছে। এ কারণেই আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে জানাতে চাই, নাগরিকরা সচেতন এবং সতর্ক। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, যা সঠিক তার পক্ষে আমরা কথা বলবই।’

একইভাবে ফেডারেশন অব নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস নেপালের সিনিয়র ভাইস চেয়ার নানি মায়া থাপা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নারীর বৈচিত্র্য, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের ভূমিকাকে খাটো করছে। সরকার কেন নারী ও শিশুর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে উপেক্ষা করে কেবল নির্বাচনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে? সবার দৃষ্টি যদি ভোটের দিকেই থাকে, তবে তাদের হয়ে কে কথা বলবে? এ কারণেই অর্থবহ প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত জরুরি।’

আয়োজকরা দাবি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে অবিলম্বে সাংবিধানিক নীতি মেনে তাদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের তালিকা সংশোধন করতে হবে। সেই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং আনুপাতিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচনসহ অন্তত ৫০ শতাংশ নারী প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ওরে নেপালের নির্বাহী পরিচালক সুনিতা মইনালি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে থাকে, তবে আমরা চুপ থাকব না। আমাদের কণ্ঠস্বর এটি নিশ্চিত করবে যে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর কোনোভাবেই একঘরে বা কোণঠাসা করে রাখা যাবে না।’ ০

সূত্র: কাঠমান্ডুপোস্ট

আরও পড়ুন

×