সন্তান হারানো মানুষের আখ্যান
হাতে দুধের বোতল আর নাকে অক্সিজেনের নল। হামের মতো একটি রোগ ছোট্ট শরীরটাকে বড় বেশি ক্লান্ত করে দিয়েছে ছবি :: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
শাহেরীন আরাফাত
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৫ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ১৭:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পৃথিবীতে সন্তানের অকাল প্রয়াণের চেয়ে ভারী কোনো শোক নেই। সন্তান হারানোর এই নিদারুণ যন্ত্রণা কেবল সেই মা-বাবাই বোঝেন, যাদের কোল চিরতরে শূন্য হয়ে যায়। তেমনই এক বুকভাঙা বেদনার গল্প শুনিয়েছেন সদ্য সন্তানহারা এক বাবা। তাঁর আদরের কন্যা অমরাতের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা সিয়াম তাঁর না-বলা কথা, স্মৃতির মণিকোঠায় জমিয়ে রাখা অম্লান মুহূর্তগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘অন্য সন্তানদের চেয়ে অমরাত ছিল একেবারেই অন্যরকম, বড্ড আলাদা। বাবার প্রতি তার টান আর বাবারও তার প্রতি যে নিবিড় মায়া, তা সাধারণ কোনো শব্দের ফ্রেমে বাঁধা কঠিন।’
পেশায় অক্টোপ্যাড বাদক সিয়ামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। গত ৪ এপ্রিল তাঁর প্রথম সন্তান অমরাত চলে যায় না ফেরার দেশে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অমরাতের আট বছর পূর্ণ হতো জুলাইয়ের ৮ তারিখে। বয়সটা নিতান্তই কম হলেও অমরাতের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত পরিণত বোধ। সে যেন ছিল বাবার ছোট্ট এক অভিভাবক।
স্মৃতি হাতড়ে সিয়াম বলেন, ‘‘যখনই খেতে বসতাম, ছোট্ট অমরাত ছুটে আসত। মায়ের আগে সে প্লেট ধুয়ে দিত, পানি এগিয়ে দিত। পাশে দাঁড়িয়ে পরম আদরে জিজ্ঞেস করত, ‘বাবা, আপনার কি আর কিছু লাগবে?’ কাজের তাগিদে বাইরে গেলে, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছোট্ট কণ্ঠটি সাবধান করে দিত, ‘বাবা, সাবধানে যাইয়েন।’ কোনোদিন যদি আমার ফিরতে দেরি হতো, অস্থির হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত মেয়েটা।’’
অমরাতের মৃত্যুর কিছুদিন আগে জ্বর এসেছিল। মা-বাবা ভেবেছিলেন সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর। আগে থেকেই ওর কিডনির সমস্যা ছিল। চার বছর বয়সে তার নেফ্রোটিক সিনড্রোম ধরা পড়ে। সে কারণেও জ্বর আসতে পারে। সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে কিডনির ভালো চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় অমরাতের বাবা সিয়াম ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। ওর কিডনির চিকিৎসা ঢাকার যে প্রাইভেট হাসপাতালে করা হয়, সেখানে অনেক টাকার দরকার। সে জন্য সিয়াম টাকা গোছাচ্ছিলেন। পরে শরীরে র্যাশ বের হয়। হঠাৎই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শেষ রক্ষা হয়নি। কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকার সঙ্গে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় অমরাতের ছোট্ট শরীরটা আর লড়াই করতে পারেনি।

মৃত্যুর মিছিল ও ভেঙে পড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা
অমরাতের মতোই মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হয়েছে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২ মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহকে। গত ২৩ মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা রাসেল বলেন, ‘আমার ছেলে প্রথমে বেশ সুস্থই ছিল। ওর শরীরে শুধু সামান্য ঘামাচির মতো র্যাশ আর জ্বর ছিল। প্রথমদিকে চিকিৎসাও চলছিল ঠিকমতো, ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর, দ্রুতই সেরে উঠবে। কিন্তু আকস্মিকভাবে ওর অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে।’
হামের ভাইরাসের প্রভাবে আব্দুল্লাহর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি শুরু হয়। রাসেলের আক্ষেপ, ‘হঠাৎ করেই চিকিৎসকরা জানালেন, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। চোখের সামনে আমার তরতাজা ছেলেটা শেষ হয়ে গেল, বাবা হয়েও আমি কিছুই করতে পারলাম না!’
অমরাত ও আব্দুল্লাহর ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, হামের ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল মনে হলেও যে কোনো মুহূর্তে সেকেন্ডারি ইনফেকশন বা ফুসফুস-কিডনির জটিলতা প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
রোগের চেয়েও ভয়ংকর চিকিৎসা ব্যয়
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আকাশচুম্বী ব্যয় কীভাবে একটি দরিদ্র পরিবারকে পথে বসিয়ে দেয়, তার এক করুণ ও বাস্তব দলিল হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো। একটি সংক্রামক ব্যাধি কেবল একটি শিশুর শরীরকেই কুরে কুরে খায় না, বরং একটি পরিবারের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের কর্ণসূতি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ১৩ মাস বয়সী মেয়ে সাবরিনা। জ্বর, কাশি নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকার শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে সিসিইউতে রাখা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে সাবরিনা ফিরে এলেও, ততদিনে পরিবারটির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াই লেগেছে দশ হাজার টাকা। বাইরের ওষুধ, থাকা-খাওয়া মিলিয়ে খরচ পেরিয়েছে লাখ টাকা। এই টাকা জোগাড় করতে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে হেলালকে। একমাত্র সম্বল বাজারের মুদি দোকানটাও বন্ধ।
প্রায় একই গল্প টাঙ্গাইলের মধুপুরের সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলামের। দশ মাস বয়সী ছেলে আয়মান হামে আক্রান্ত হওয়ার পর শফিকুলের সাজানো-গোছানো সাধারণ জীবন এক নিমেষেই তছনছ হয়ে যায়। ময়মনসিংহের এক বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউতে মাত্র একদিনেই বিল আসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পরে সরকারি হাসপাতালে নিলেও বাইরের ওষুধ আর আনুষঙ্গিক খরচে লক্ষাধিক টাকা দেনা হয়ে যান তিনি।
সন্তানের জীবন বাঁচাতে গিয়ে আজ শফিকুল ও হেলাল উদ্দিনের মতো অগণিত প্রান্তিক মানুষ চড়া সুদের ঋণের জালে বন্দি। রোগের চেয়েও যেন বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে চিকিৎসার বিল।
বাণিজ্যিকীকরণের জাঁতাকলে স্বাস্থ্যসেবা
সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশে ভয়ংকরভাবে অনিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত গড়ে উঠেছে। দেশে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই বেসরকারি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারির অভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোয় সেবার নামে চলছে বেসামাল বাণিজ্য। রোগীর সুস্থতার চেয়ে মুনাফাই যেখানে মুখ্য।
অথচ সমাধানের পথ অজানা নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ খানের নেতৃত্বাধীন ‘হেলথ সেক্টর রিফর্ম কমিশন’ একটি সমন্বিত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখাসংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সংবিধান সংশোধন করে চিকিৎসাকে কেবল ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব’ নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রস্তাবনায় একটি স্বাধীন ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ এবং ‘জনস্বাস্থ্য বিভাগ’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল, যা আজও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ে আছে।
কেন এই মহামারি?
বাংলাদেশ একসময় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বিশ্বদরবারে একটি সাফল্যের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বা ‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। শিশুদের টিকাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের হার ছিল ৯৭-৯৮ শতাংশ, যা অনেক উন্নত দেশের জন্যও ছিল ঈর্ষণীয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালে দেশে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি–এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে একত্র করে একটি সমন্বিত ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়। এর ফলে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ নিরবচ্ছিন্ন যাত্রায় ছন্দপতন ঘটে পরবর্তী সময়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, অদূরদর্শী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে সফল এই ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’টি বাতিল করে এটিকে ‘প্রজেক্ট প্রোগ্রাম’ বা রাজস্ব খাতের অধীনে নেওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যত থমকে যায়। ৯৮ শতাংশের টিকাদানের হার ধসে পড়ে ৬০ শতাংশে নেমে আসে। লাখ লাখ শিশু হাম, রুবেলা, পোলিওর মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূত্রমতে, বড় একটি জনগোষ্ঠী টিকার আওতার বাইরে থাকলে সমাজের ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। আজ দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা মূলত এ টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ারই প্রত্যক্ষ ফল। গত কয়েক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়।
ডা. লেলিন চৌধুরী এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের জন্য দায়ী নীতিনির্ধারকদের বিচার দাবি করে বলেন, ‘এটি নিছক কোনো ভুল নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার বিচার হওয়া উচিত।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বিষয়টিকে অমার্জনীয় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘যে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেখানে মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
উত্তরণের পথ: ‘ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’
আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুধু রোগ বাঁধলে চিকিৎসা করার সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। অথচ নজর দেওয়া উচিত ছিল ‘পাবলিক হেলথ’ বা রোগ প্রতিরোধের দিকে। এই অচলায়তন ভাঙতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ‘ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ বা একীভূত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা বলছেন। ডা. লেলিন চৌধুরী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট স্তম্ভের প্রস্তাব দিয়েছেন:
১. প্রমোটিভ হেলথ কেয়ার: স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা, যেন মানুষ নিজেই নিজের প্রথম রক্ষাকবচ হয়।
২. প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার: সঠিক সময়ে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা, খাদ্যে ভেজাল রোধ এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের মজবুত প্রাচীর গড়ে তোলা।
৩. কিউরেটিভ বা মেডিকেল কেয়ার: উন্নত সুযোগ-সুবিধাসহ চিকিৎসাসেবা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা।
৪. রিহ্যাবিলিটেটিভ হেলথ কেয়ার: বড় রোগ বা দুর্ঘটনার পর একজন মানুষকে সমাজে ও কর্মজীবনে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন সেবার ব্যবস্থা করা।
৫. প্যালিয়েটিভ হেলথ কেয়ার: নিরাময়-অযোগ্য রোগীদের জীবনের শেষ দিনগুলো যেন যন্ত্রণামুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তার জন্য দেশব্যাপী উপশমমূলক সেবার ব্যবস্থা করা।
জনস্বাস্থ্য কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি একটি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। টিকাদানে অবহেলা যেমন হামের মহামারি ডেকে এনে শিশুর প্রাণ কাড়ছে, তেমনি দূষণ ও ভেজাল ঘরে ঘরে মরণব্যাধি পৌঁছে দিচ্ছে।
অমরাত বা আব্দুল্লাহর মতো আর কোনো শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায় এবং শফিকুল বা হেলালের মতো কোনো পিতাকে যেন সন্তানের চিকিৎসার দায়ে সর্বস্বান্ত হতে না হয়–তার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য খাতের আমূল ও মানবিক সংস্কার। নতুবা উন্নয়নের সব গল্প এই শূন্য কোল আর সর্বস্বান্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাসের কাছে ম্লান হয়েই থাকবে।
