ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সম্ভাবনাময় পণ্য

চুল ও পরচুলার রপ্তানি বাড়ছে

চুল ও পরচুলার রপ্তানি বাড়ছে
×

.

সমকাল প্রতিবেদক  

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৫

পরচুলা মানে পর নয়। আপন হয়েও ফিরতে পারে মাথায়। ন্যাড়া মাথায় বিকল্প চুল হিসেবে পরচুলা ব্যবহার এখন অতি সাধারণ। আবার ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেও পরচুলাকে আপন করে নিয়েছেন অনেকে। বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা, অভিনেতা বা মডেল পরচুলা ব্যবহার করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরচুলার চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী। এ কারণে অনেকটা শিল্পের পর্যায়ে উঠে এসেছে ঝরা চুল। কখনও কৃত্রিম চুলও হয়ে উঠছে বিকল্প চুল। রপ্তানিও হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়ায়। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) উপাত্ত বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর চুল ও পরচুলা রপ্তানি বেড়েছে ২১ শতাংশের মতো। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর আরও ভালো রপ্তানির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৮৯ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে দুই কোটি ৯৪ লাখ ডলারের চুল ও পরচুলা। গত অর্থবছরের এই দুই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এই অর্থবছর এ খাতে ১৪ কোটি ২৯ কোটি ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। 
ডাবলিনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের তথ্যমতে, পরচুলার বিশ্ববাজার  প্রায় ৬০০  কোটি ডলারের। সেই হিসাবে পরচুলা রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ২ শতাংশ। চুল ও পরচুলা রপ্তানি আরও অনেক বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চীন, কোরিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে উইগ বা পরচুলার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 
ইপিবির রপ্তানি তালিকায় চুল ও পরচুলাকে ‘হিউম্যান হেয়ার উইগ’ বলা হয়। চাহিদা থাকায় স্বাভাবিকভাবে দেশে এ খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এখন পরচুলা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা চুল সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত শেষে তা দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। সাধারণত বিভিন্ন বিউটি পার্লার, বাসাবাড়ি, বিউটি পারলার ও ময়লার ভাগাড় থেকে চুল সংগ্রহ করা হয় ক্ষুদ্র আয়ের বিভিন্ন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে। এরপর শুরু হয় পরচুলার জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। সংগ্রহ করা চুল প্রক্রিয়ার পর সরাসরি চুল বা পরচুলা হিসেবে রপ্তানি করা হয়। 

চুলের রয়েছে বাহারি নাম। রেমি, নন রেমি, সিঙ্গেল ড্রওন। চুল সংগ্রহের পর শুরু হয় নতুন কর্মযজ্ঞ। প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ধাপ সম্পন্ন করে তৈরি করা হয় একেকটি পরচুলা। প্রথমে সংগৃহীত চুল বাছাইয়ের জন্য আলাদা করা হয়। এরপর বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে চুল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় পরচুলার মূল ভিত্তি বা বেইস। 
পরচুলার জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার পর শুরু হয় বুননের কাজ। ওয়েফট বা ক্যাপে চুল আটকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় আঠা বা ক্লিপ। এভাবে সম্পন্ন হয় একেকটি পরচুলা তৈরি। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ইপিজেডে অন্তত ২০টি পরচুলা উৎপাদন ও রপ্তানি কারখানা আছে। নতুন করে আরও এ ধরনের কারখানায় বিনিয়োগ নিয়ে আসছে বিদেশি উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইজিনটোন হেয়ার প্রোডাক্টস কোম্পানি ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) এ ধরনের কারখানা নির্মাণে চুক্তি সই করেছে। এই কারখানা থেকে বছরে ৭০  লাখ পিস পরচুলা ও পরচুলা জাতীয় পণ্য তৈরি হবে। 

আরও পড়ুন

×