বাসার ছাদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে ইডকল
এস এম মনিরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত এমডি ইডকল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৩ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসাতে এতদিন বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। এবার বাসাবাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল বসাতে অর্থায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। এ জন্য নতুন কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির ছাদে সব মিলিয়ে এক হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চায় তারা। এর অর্ধেক শিল্পকারখানায়, বাকি অর্ধেক বাসাবাড়িতে।
ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্পে অর্থায়ন তাদের ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা। দুই হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোর চেষ্টাও থাকবে। হাতে সময় কম থাকায় কাজটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। মনিরুল ইসলামের মতে, শুধু বাসাবাড়ির ছাদেই ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
নতুন কর্মসূচির আওতায় বাসাবাড়ির মালিকদের কাছে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করবে ইডকল। এ বিষয়ে চুক্তির প্রস্তুতি চলছে। সরঞ্জামের মান নির্ধারণ, সরবরাহব্যবস্থা ও প্রকল্পের তদারকিও করতে হবে। মনিরুল ইসলাম জানান, কর্মসূচির প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার আশা করছেন তারা।
বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নেট মিটারিংও গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যবস্থায় ছাদে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের প্রয়োজন মেটানোর
পর উদ্বৃত্ত অংশ গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় যুক্ত হওয়া গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন। তবে এ সুবিধা পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। শিল্পকারখানায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ সাধারণত নিজস্ব কাজে লাগে। এতে বিদ্যুৎ বিল কমে। অন্যদিকে, বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও সরকারি স্থাপনায় ছাদের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার কম হলে গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ বেশি থাকে।
শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করে ইডকল। ঋণের মেয়াদ ১০ বছর। জামানত বা ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী সুদের হার ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ। ইডকলের তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থায়নের সঙ্গে প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা ও তদারকির ব্যবস্থাও রয়েছে। এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, কোনো কারখানা গ্রিড থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকার বেশি দরে কিনলেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতে পারে প্রায় পাঁচ টাকা। ফলে নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যয় কমানো যায়।
ঋণ পেতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ রয়েছে উদ্যোক্তাদের কারও কারও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান মানতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জামানতের শর্ত পূরণেও সময় লাগে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মূল ব্যবসার জন্য একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। তাদের সম্পদ আগে থেকেই জামানত রাখা থাকায় নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন নিতে জটিলতা তৈরি হয়। জামানত-সংক্রান্ত নথি সংশোধন করতে একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
এ সমস্যা কমাতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পদের জামানতের বদলে ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়ার সুযোগ নিয়ে কাজ করছে ইডকল। এতে ঋণপ্রক্রিয়া সহজ হবে বলে আশা করছেন মনিরুল ইসলাম।
বিদ্যুতের কম দামও বাধা
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ার কারণ হিসেবে বিদ্যুতের তুলনামূলক কম দাম ও সচেতনতার ঘাটতির কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর মতে, পাকিস্তানে গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় সৌর প্যানেল বসিয়ে সাশ্রয়ের সুযোগ গ্রাহকরা সহজেই বুঝতে পেরেছেন। প্যানেল আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবাসিক গ্রাহকদের একাংশ তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ পান। ফলে সৌরবিদ্যুৎ বসাতে যে বিনিয়োগ করতে হবে, তার বিপরীতে কতটা সাশ্রয় হবে, তা অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে প্যানেল আমদানিতে করছাড়, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ ও সহজ শর্তে ঋণ এ হিসাব বদলাতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ইডকলের সৌর হোম সিস্টেম কর্মসূচি নিয়ে অতীতে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচিতে একাধিক উন্নয়ন সহযোগী যুক্ত রয়েছে এবং প্রকল্প পর্যালোচনায় তৃতীয় পক্ষও অংশ নেয়। তাঁর দাবি, পর্যালোচনায় অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ দাবি কিংবা নির্ধারিত মানের বাইরে সরঞ্জাম ব্যবহারের ঘটনা চিহ্নিত হয়নি।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার