ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জলাশয়ে দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

জলাশয়ে দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
×
×

হাসনাইন ইমতিয়াজ, গাজীপুর থেকে ফিরে

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৪ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটপাতের ওপর সৌর প্যানেলের শেড। রোদ-বৃষ্টি থেকে পথচারীদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে বিদ্যুৎ। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ শেডের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১ দশমিক ১ মেগাওয়াট। একটু এগোলেই বিশাল জলাশয়। পানির ওপর ভাসছে সারি সারি সৌর প্যানেল। সেখানে মাছ চাষের পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে বিদ্যুৎ।
গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক পার্কে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারখানার ছাদ, হাঁটার পথ, গাড়ি রাখার জায়গা ও জলাশয়– বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এসব জায়গা কাজে লাগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ মেটানো যাচ্ছে, কমছে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা।
ওয়ালটন হাই-টেক পার্কের জলাশয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পানির ওপর বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জলাশয়ে মাছ চাষও চলছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট।

প্যানেল ভাসিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের ড্রাম। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদা জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে না। একই জলাশয় কাজে লাগছে মাছ চাষেও। শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদ ও খোলা জায়গার পাশাপাশি জলাশয় ব্যবহারেরও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ওয়ালটন।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, প্রতিষ্ঠানটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ৩২ মেগাওয়াট। এটি বাড়িয়ে ৫০ মেগাওয়াট করার লক্ষ্য রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ থেকে চাহিদার বড় অংশ মেটাতে চায় ওয়ালটন।

কারখানার বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। কিছু জায়গায় প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ছাদের বিকল্প হিসেবেও কাজ করছে। গাড়ি রাখার জায়গায় তৈরি করা হয়েছে সৌর প্যানেলের ছাউনি। এতে জায়গার আলাদা ব্যবহার না করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে।
কৃষিতেও সৌর প্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে কৃষিবিদদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেসব ফসলের জন্য একটানা কড়া রোদ ক্ষতিকর, সেসব ফসলের জমিতে সৌর প্যানেল ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করা হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ছাদ ও খোলা জায়গা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ, জায়গার উপযোগিতা এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালটনের উদ্যোগে একই শিল্পপ্রাঙ্গণে একাধিক জায়গা কাজে লাগানোর উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এ খাতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেশেই তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যাটারি এবং সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। এসব উদ্যোগে অর্থায়ন করছে অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেড–ইডকল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী মাসে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। দেশে এসব সরঞ্জাম তৈরি হলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা রেখে পরে ব্যবহারের ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত হতে পারে।
সূর্যের আলো না থাকলে সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। এ সময় ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ কাজে লাগানো যায়। তাই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে মোট ১৪৪ কোটি টাকা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইডকল। এর মধ্যে ৪৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×