ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চায়ের দেশে বৈচিত্র্যের সম্ভার

চায়ের দেশে বৈচিত্র্যের সম্ভার
×

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান - সমকাল

 ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩২ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:০৯

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত প্রাচীন জনপদ সিলেট। বনজ ও খনিজ সম্পদে ভরপুর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সিলেটে রয়েছে চা বাগান, পাহাড়, টিলা। রয়েছে প্রকৃতিকন্যা জাফলং। দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল জলারবন, হাকালুকি হাওর, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, তামাবিল। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে রয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার শরিফ। পর্যটনের নানা বৈচিত্র্যের সম্ভার এ সিলেটেই।

জাফলং
প্রকৃতিকন্যা হিসেবে পরিচিত জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি আর পাথর জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতের ডাউকি পাহাড় থেকে প্রবহমান জলপ্রপাত, ডাউকির ঝুলন্ত ব্রিজ, গহিন অরণ্য যে কাউকেই বিমোহিত করে। নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলংয়ের অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। 
সিলেট থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এক থেকে দেড় ঘণ্টায় যাওয়া যায় জাফলং। সেখানে থাকার জন্য সাজেকের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু কটেজ। এ ছাড়া রয়েছে জেলা পরিষদের মোটেল। 

রাংপানি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর রাংপানি। পাহাড়-ঝরনা আর সাদাপাথরের মিতালির দেখা মেলে রাংপানিতে। সড়কের উভয় পাশে সুপারি বাগান আর উঁচু-নিচু পথ। নগরী থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি এলাকায় পর্যটনকেন্দ্রটির অবস্থান। ব্যক্তিগত যানবাহন কিংবা জাফলং যাওয়ার সার্ভিস বাসে সেখানে যাওয়া যায়। মোকামপুঞ্জি প্রবেশমুখ থেকে ভেতরে যেতে হয়। এজন্য একজন গাইডও নিতে পারেন। মোকামপুঞ্জিতে বাস করেন খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। 

লালাখাল
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একটি পর্যটন এলাকা লালাখাল। লালাখালে রয়েছে অসংখ্য বাঁক। এর দুই কূলে পাহাড়ি বন, চা বাগান এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি রয়েছে। লালাখালের পানি নীল। লালাখাল স্থানটি খাল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সারি গোয়াইন নদীর অংশ হলো এই চার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত আঁকাবাঁকা নদী।

পান্তুমাই
ভারত সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে সিলেটের পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের গ্রাম পান্তুমাই। এটি দেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। পাহাড় ঘেঁষা আঁকাবাঁকা রাস্তা পান্তুমাই গ্রামের বৈশিষ্ট্য। গাঁয়ের মেঠোপথ, বাঁশ বাগান, হাঁটুজলের নদী পার হয়ে প্রতাপপুর গ্রাম। এর পরের গ্রাম পান্তুমাই।
মেঘালয় পাহাড় আর পিয়াইন নদীর পারে অবস্থিত প্রকৃতির আরেক অপরূপ নিদর্শন পান্তুমাই ঝরনা। স্থানীয় মানুষের কাছে পান্তুমাই ঝরনা বিভিন্ন নামে পরিচিত। 

সাদাপাথর
নগরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান। সিলেট থেকে বিআরটিসি বাস, বাস, সিএনজি, লেগুনা বা প্রাইভেট কারে যাওয়া যায় ভোলাগঞ্জ। সম্প্রতি সাদাপাথরের সব পাথর লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত কয়েকদিনে চিরচেনা সাদাপাথরের দৃশ্য অনেকটা ফেরানো হয়েছে।

রাতারগুল    
দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। রাতারগুল বনের আয়তন ৩ হাজার ৩২৫.৬১ একর, এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারত উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলঙ্কায় আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল। সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। 

বিছনাকান্দি
ভারতের মেঘালয় পর্বত থেকে নেমে আসা একটি ঝরনা সৃষ্টি করেছে একটি হ্রদ। পিয়াইন নদীর সঙ্গে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে সেটি। আর সেই হ্রদটিই বর্তমানে বিছনাকান্দি হিসেবে পরিচিত। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত এটি। এখানকার ছোট-বড় পাথরের ওপর দিয়ে ছলছল করে বয়ে চলছে স্বচ্ছ পানি। নৌকায় ঘুরতে এবং সাঁতার কাটতে ভালো লাগে সেখানে। 

লোভাছড়া    
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনন্য রূপ হচ্ছে লোভাছড়া। চারদিকে সবুজ বেষ্টিত চা বাগান, সারি সারি গাছ, পাহাড় আর বালিসমৃদ্ধ স্বচ্ছ পানির বহমান নদী লোভাছড়া। কানাইঘাট লঞ্চঘাট থেকে লোভারমুখ বা পাথর কোয়ারি পর্যন্ত নৌকা চলাচল করে নিয়মিত। কেউ ইচ্ছা করলে নৌকা রিজার্ভ করতে পারেন নৈসর্গিক লোভাছড়া যাওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন

×