ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে

নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে
×

মো. এহতেশামুল হক খান

মো. এহতেশামুল হক খান এমডি ও সিইও, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল: এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কী কী পণ্য ও সেবা রয়েছে? 

এহতেশামুল হক খান: ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সমন্বিত আর্থিক সমাধান দিচ্ছে, যাতে তারা ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ এবং কার্যকরী মূলধনের চাহিদা সহজে পূরণ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে চলতি মূলধন ঋণ, টার্ম লোন, নারী উদ্যোক্তা ঋণ, ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং, স্টার্টআপ অর্থায়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতাধীন ঋণসুবিধা। অর্থায়নের পাশাপাশি আমানত হিসাব, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট, পেমেন্ট সল্যুশন এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তার ব্যবসার ধরন, নগদপ্রবাহ এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় উপযোগী আর্থিক সমাধানের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

সমকাল: নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে এবং তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আপনার ব্যাংক কোনো বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে?

এহতেশামুল হক খান: নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে আমরা সহজতর ডকুমেন্টেশন, প্রযুক্তিনির্ভর ঋণ প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন ও ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা কাজে লাগাচ্ছি। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘অংকুর’ স্টার্টআপ ফান্ড চালু রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত এসআইসিআইপির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই পরে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এসে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করছেন।

সমকাল: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার ব্যাংকের বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি ও সহায়তা কার্যক্রম কী কী? এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সাড়া পাচ্ছেন?

এহতেশামুল হক খান: নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নকে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে দেখি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের দুটি বিশেষায়িত ঋণপণ্য–‘সফলতা’ এবং ‘উৎসাহ’-এর আওতায় বার্ষিক ৫ শতাংশ সুদে ক্যাশ ক্রেডিট ও টার্ম লোন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সহজ ডকুমেন্টেশন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ, আর্থিক সাক্ষরতা, উদ্যোক্তা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ব্যবসা উন্নয়ন পরামর্শের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং তারা ব্যবসা পরিচালনা ও ঋণ পরিশোধে উল্লেখযোগ্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন।

সমকাল: গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের জন্য কী কী কর্মসূচি রয়েছে? 

এহতেশামুল হক খান: বর্তমানে আমাদের ২৪৩টি শাখা, ৩৪৪টি উপশাখা, ৬,৩২৯টি সিআরএম ও এটিএম, ৫,৬৩৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং শক্তিশালী ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৬.৫৮ কোটিরও বেশি গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার এবং ৪১ শতাংশের বেশি নারী, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ছাড়া ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা, ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। 

সমকাল: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের এমএসএমই খাতকে আপনি কোথায় দেখতে চান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কীভাবে এ খাতের পাশে থাকবে?

এহতেশামুল হক খান: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের এমএসএমই খাত আরও প্রযুক্তিনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের অবদান আরও বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এ খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত সমাধান, সবুজ অর্থায়ন এবং উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যের মাধ্যমে এমএসএমই উদ্যোক্তাদের আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে তুলতে আমরা কাজ করে যাব। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা এবং টেকসই ব্যবসায়িক চর্চাই এমএসএমই খাতের ভবিষ্যৎ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আরও পড়ুন

×