সাক্ষাৎকার
ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে
মো. আলতাফ হুসাইন
মো. আলতাফ হুসাইন এমডি (ভারপ্রাপ্ত), ইসলামী ব্যাংক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমকাল : এসএমই খাতের বর্তমান অবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এ খাতের প্রধান অর্জন কী কী?
মো. আলতাফ হুসাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাত একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ খাত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাতের অবদান ক্রমেই বাড়ছে।
সমকাল : উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসএমই উদ্যোক্তারা বর্তমানে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন?
মো. আলতাফ হুসাইন : বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসএমই উদ্যোক্তারা ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের অনিশ্চয়তা এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনার চাপে রয়েছেন। উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ সীমিত থাকে, যা লাভজনকতায় প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনা অনেক উদ্যোক্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সমকাল : এসএমই খাতের বিকাশে নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কোন বাধাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?
মো. আলতাফ হুসাইন : এসএমই খাতের বিকাশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশের ঘাটতি। বিশেষ করে লজিস্টিকস, সংরক্ষণ, বিপণন এবং বাজার সংযোগের সীমাবদ্ধতা অনেক উদ্যোক্তার প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি অভিযোজন এবং তথ্যভিত্তিক সেবার আরও বিস্তার প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ এসএমই খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সমকাল : কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশে এসএমই খাতের সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন?
মো. আলতাফ হুসাইন : এসএমই খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। কম বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ অঞ্চলে নতুন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাত আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দীর্ঘ মেয়াদে এসএমই খাত বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
সমকাল : চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ই-কমার্সের বিস্তারের ফলে বাংলাদেশের এসএমই খাতের সামনে কী ধরনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে?
মো. আলতাফ হুসাইন : ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ই-কমার্সের প্রসার এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার সম্প্রসারণের অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখন একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, ডেটানির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনলাইন বিপণন ব্যবসার দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
সমকাল : এসএমই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মো. আলতাফ হুসাইন : এসএমই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাজারমুখী সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, মানোন্নয়ন এবং রপ্তানি সংযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে একটি কার্যকর উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারলে এসএমই খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরও শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
