ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

বিশেষ লেখা

ইউসিবি এসএমই খাতে বড় ডিজিটাল পরিবর্তন আনছে

ইউসিবি এসএমই খাতে বড়  ডিজিটাল পরিবর্তন আনছে
×

মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ

মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এমডি ও সিইও, ইউসিবি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। দেশে মোট কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ এ খাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদন, সেবা, কৃষি, রপ্তানি এবং স্থানীয় বাজারকে সচল রাখতে এসএমই উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে এ খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং এবং উদ্যোক্তাবান্ধব আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এসএমই খাতকে আরও গতিশীল করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংকটির এসএমই ও কৃষি ব্যাংকিং বিভাগ বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে আর্থিক সেবা দিচ্ছে। প্রায় সাত হাজার ২৫৯ কোটি টাকার ঋণ পোর্টফোলিও নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করছে। পোর্টফোলিওর প্রায় ৮৩ শতাংশই স্ব-তহবিলভিত্তিক, যা ব্যাংকটির শক্তিশালী আমানত ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থায়ন সক্ষমতার প্রতিফলন।

ইউসিবির শক্তিশালী অর্থায়ন সক্ষমতার মূল ভিত্তি গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আস্থা। গত সাড়ে ১৮ মাসে ব্যাংকটির মোট আমানত বেড়ে ৭২ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ আমানত এসেছে রিটেইল ও এসএমই গ্রাহকদের কাছ থেকে– যা তৃণমূল পর্যায়ে ইউসিবির প্রতি মানুষের গভীর আস্থা, ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের এক অনন্য প্রতিফলন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সঞ্চয়কারী– দেশজুড়ে লাখো গ্রাহক ইউসিবিকে তাদের নির্ভরযোগ্য আর্থিক অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় আমানতভিত্তি শুধু ব্যাংকটির বিস্তৃত বাজার উপস্থিতি এবং গ্রাহকনির্ভর প্রবৃদ্ধির সাক্ষ্য বহন করে না; বরং এর আর্থিক স্থিতিশীলতা, টেকসই অর্থায়ন সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেও আরও সুদৃঢ় করেছে।

শুধু ঋণ বিতরণ নয়, ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে ডিজিটাল রূপান্তরেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউসিবি। ঋণ আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন ও বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লিড জেনারেশন, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ঋণসেবা এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ফলে উদ্যোক্তারা কম সময়ে, কম জটিলতায় এবং আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও ইউসিবি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্থরতা এবং দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যে চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকটির এসএমই ট্রেড বিজনেসে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। চলতি বছরে ইউসিবির এসএমই রপ্তানি ব্যবসায় প্রায় ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে একই সময়ে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যেও দেশের সামগ্রিক প্রবণতার তুলনায় তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। ট্রেড হেল্পডেস্ক, শাখাভিত্তিক বিশেষায়িত সেবা, ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং উদ্যোক্তাদের জন্য দ্রুত ও সহজ ট্রেড ফাইন্যান্স সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইউসিবি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান সময়ে শুধু অর্থায়নই যথেষ্ট নয়; উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সমান গুরুত্বপূর্ণ।  বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউসিবি নিয়মিতভাবে সম্পর্ক ব্যবস্থাপক (রিলেশনশিপ ম্যানেজার) প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন আরও গভীরভাবে অনুধাবন করে বাস্তবসম্মত আর্থিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছে ব্যাংকটি।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এসএমই খাতের বিকল্প নেই। এ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে ইউসিবির প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক সেবার সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

ব্যাংকটি ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা চালু করেছে, যাতে ঋণ দ্রুত ও সহজে অনুমোদন করা যায়। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ঋণসেবা সহজ করতে তারা ‘সক্রিয় টেকনোলজিস’ এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করেছে। ২০২৬ সালের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউসিবি ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন চালু করার পাশাপাশি এসএমই আমানত সংগ্রহে ‘বাংলা কিউআর কোড’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে লেনদেন আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে ব্যাংকটি নতুন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করছে। যেমন– স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি ‘চা চক্র’ আয়োজন এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় যোগাযোগ। এতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যাংকের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×