ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কার্ডে ঝামেলাহীন কেনাকাটা

কার্ডে ঝামেলাহীন কেনাকাটা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২৫ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১৩:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্য টুকটাক কেনাকাটা কি মাসের বাজার– প্রায় সব ধরনের লেনদেনেই ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার এখন সহজ, সাধারণ ও সুলভ। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি নেই। দুই ক্রোশ পায়ে হেঁটে কিংবা ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে ব্যাংকে যাওয়ার জরুরি কাজটাকে ‘গুডবাই’ বলে দেওয়া যায়। শহরের বড় বিপণিবিতান কিংবা পাড়ার অনেক দোকানেও পয়েন্ট অব সেল বা পজ মেশিনে বোতাম টিপেই খালাস। আধুনিক জীবনে লেনদেনে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার এখন যতটা না আভিজাত্যের, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজনের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন মানি ব্যাগে একটা দুইটা ডেবিট কি ক্রেডিট কার্ড চাই-ই। এ রকম সহজলভ্য হওয়ায় কার্ডের কারণে মাসের ব্যয় একটু বাড়ে বটে, তবে নির্দিষ্ট আউটলেটে ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড পয়েন্টের সুবিধায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। 
ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এবার ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার কেমন কী, তা বোঝার চেষ্টা করতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশান আড়ংয়ের পেমেন্ট কাউন্টারগুলোতে দুই ঘণ্টা দৃষ্টি রাখা হয়। এতে প্রায় সব লেনদেনেই বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহার দেখা গেছে। নগদ টাকার ব্যবহারও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তবে তা খুব কমই নজরে এসেছে। 
১০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আট হাজার টাকার বিল কার্ডে পরিশোধ করেন রাজধানীর নিকেতনের বাসিন্দা স্থপতি ড. আয়েশা সিদ্দিকা। কার্ড ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে বলেন, সহজেই ঝামেলামুক্ত লেনদেন। নগদ টাকা বহন করার ঝামেলা নেই। টাকা গুনে নেওয়ার কিছু নেই। নগদ টাকা দিতে হলে আসল না নকল, খুচরা টাকা আছে কিনা– এ রকম অনেক ঝামেলা থাকে। কার্ডে এসব ঝামেলা নেই। গত ১০ বছর ধরে বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের কার্ড ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আসছেন বলে জানান তিনি। 
বেসরকারি আহ্ছান উল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যার অধ্যাপক ড. আয়েশা আরও বলেন, কেনাকাটা ছাড়াও বিভিন্ন সেবা মাশুলও তিনি ব্যাংক কার্ডে পরিশোধ করে থাকেন। বাচ্চাদের স্কুলের টিউশন ফি, গাড়ির ফুয়েল কেনা, বিভিন্ন জার্নালের ফি– সবই কার্ডে ব্যবহার করে থাকেন তিনি। 

কয়েকজনের পেছেনে ঝুড়িভর্তি ড্রেস নিয়ে কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সরকারি কর্মকর্তা মেরাজ হোসেন শাকিলকে। তিনি বলেন, কার্ডের ব্যবহারে ছাত্রজীবন থেকেই অভ্যস্ত। এখন আর নগদ টাকা নিয়ে মানিব্যাগ ভারী করে রাখার ঝুঁকি নিতে হয় না। বেশ কয়েকবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মানিব্যাগসহ টাকা খোয়ানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আর সেই ভয় থাকে না মনে। কার্ডও বেশ কয়েকবার হারানো গেছে, তবে ব্যাংকে যোগাযোগ করে আবার তুলে ফেলা যায়। কার্ড হারানো গেলে কিছুটা ঝামেলা হয় বটে, তবে নগদ টাকা বহন করার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভার থাকা যায়।
গতকাল আড়ংয়ে সব কাউন্টার ঘুরে এমন লেনদেন দেখা যায়। এক কাউন্টারে দুজনকে দেখা গেল নগদ টাকায় লেনদেন করছেন। জানতে চাইলে পূর্বাচল থেকে আসা মোহাম্মদ আদনান বলেন, একসময় কার্ডেই লেনদেন করতেন তিনি। এক পর্যায়ে ব্যাংকে আবেদন করে কার্ড সারেন্ডার করেছেন। তিনি জানান, তার লেনদেন খুব বেশি হয় না। অযথা ব্যাংক কার্ডের জন্য বছরে 
একটা ফি গুনতে হয়। এ ছাড়া কার্ড থাকলে খরচ করতে গায়ে লাগে না। এ কারণে হিসাব করে দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় অনেক কেনাকাটা হয়ে যাচ্ছে। একবার নগদ ক্যাশ তুলে অনেক টাকা সুদ দিতে হয়েছে। এ কারণে কার্ড ছেড়ে নগদ ক্যাশেই এখন লেনদেন করছেন তিনি। কার্ডের এসব অসুবিধার পাশাপাশি কিছু সুবিধা ছিল বলেও জানান তিনি। 
রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় কয়েকটি শোরুম ঘুরেও লেনদেনে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। একটি দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ম্যানেজার জানালেন, লেনদেনে কার্ডের ব্যবহারই বেশি পাচ্ছেন তারা। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দিনে যদি ১০০টি লেনদেন হয়, তার মধ্যে অন্তত ৮০টিই বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহারে বিভিন্ন হারে ছাড়, অফার থাকে। ছাড়টা মোটামুটি কম নয়। এতে দেখা যায়, কেনাকাটা শেষে বড় একটা সাশ্রয় সুবিধা থাকে। গত কয়েক বছর ধরেই এই প্রবণতা চলছে। এ কারণেই কার্ডের ব্যবহার বেশ বেড়েছে। 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাদের সঙ্গে কথা হয় বসুন্ধরার বাটা শুর শোরুমে। অনেকক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। কথা বলতে চাইলে মুখে হাসি টেনে বলেন, কার্ডের ব্যবহারের সুবিধা। সাদ জানান, কেনাকাটাতেই কার্ডের মূল ব্যবহার করে থাকেন তিনি। মাসে খুব বেশি ব্যবহার করতে হয় না। মোটামুটি সুবিধা আছে। তবে অসুবিধা হচ্ছে, কার্ড হারিয়ে গেলে বিপদ। একবার

বসুন্ধরায় তার ওয়ালেট 
হারানো যায়, কিন্তু তিনি বুঝতে পারার আগেই মোবাইলে লেনদেনের বার্তা পান। তখন বুঝতে পারেন কার্ডটি হারিয়েছেন। বুঝতে বুঝতে আরও একটি লেনদেন। ব্যাংকে ফোন করে কার্ডটি অচল করার আগেই মোটামুটি ৪০ হাজার টাকার লেনদেন শেষ। এর পর থেকে কার্ড নিয়ে তিনি খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন

×