সাক্ষাৎকার
৯ হাজার উদ্যোক্তা আমাদের সেবা পাচ্ছেন
মো. রাফাত উল্লা খান এমডি
মো. রাফাত উল্লা খান এমডি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমকাল: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সিএমএসএমই খাতকে কেন অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করে?
মো. রাফাত উল্লা খান: আমাদের কাছে সিএমএসএমই খাত শুধু একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়; জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার একটি কার্যকর মাধ্যম। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল দর্শনের মধ্যে রয়েছে সম্পদের সুষম বণ্টন, উৎপাদনমুখী অর্থায়ন এবং সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। সিএমএসএমই খাত এ দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে এই খাত। তাই শুরু থেকেই আমরা এ খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি। বর্তমানে আমাদের সিএমএসএমই বিনিয়োগ পোর্টফোলিও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা এবং এর আওতায় ৯ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা আর্থিক সেবা পাচ্ছেন। এ সংখ্যা আমাদের জন্য কেবল একটি অর্জন নয়; বরং দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সমকাল: নতুন, ক্ষুদ্র ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার ব্যাংকের বিশেষ বিনিয়োগ পণ্য বা আর্থিক সেবাগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
মো. রাফাত উল্লা খান: সকল উদ্যোক্তার প্রয়োজন এক রকম নয়। একজন নতুন উদ্যোক্তার চাহিদা যেমন ভিন্ন, একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তার প্রয়োজনও তেমন আলাদা। এ বাস্তবতা বিবেচনা করেই আমরা কয়েকটি বিশেষায়িত বিনিয়োগ পণ্য চালু করেছি। এর মধ্যে ‘তিজারা’ সাধারণ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন বিনিয়োগ সুবিধা দেয়। ‘নিসা’ বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি জামানতবিহীন। অন্যদিকে ‘আত-তাওফিক’ এবং ‘আল-আওয়ানা’ জামানতের বিপরীতে বৃহত্তর বিনিয়োগ সুবিধা দেয়। এর ফলে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার আকার, প্রয়োজন এবং সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত অর্থায়ন পণ্য নির্বাচন করতে পারেন। এর পাশাপাশি ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
সমকাল: গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে আপনার ব্যাংক কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
মো. রাফাত উল্লা খান: বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে গ্রামকেন্দ্রিক। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না করে টেকসই জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে আমরা সারাদেশে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, একজন উদ্যোক্তা কোথায় থাকেন তা নয়; বরং তাঁর ব্যবসার সম্ভাবনাই যেন অর্থায়নের মূল বিবেচ্য বিষয় হয়। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, গ্রামীণ উৎপাদনমুখী কার্যক্রম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
