গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে এগোচ্ছে আইইউবিএটি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইইউবিএটি দীর্ঘদিন ধরে কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।
বাস্তবজীবন ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী শিক্ষা
আইইউবিএটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবজীবন ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং নৈতিক মূল্যবোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে। ব্যবসা, প্রকৌশল, কৃষি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, নার্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়োপযোগী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে আইইউবিএটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল শিক্ষাক্রম বাংলাদেশ প্রকৌশল শিক্ষা স্বীকৃতি বোর্ডের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সমঝোতার অধীনে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি আইইউবিএটি ব্যবসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায় শিক্ষা স্বীকৃতি পরিষদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। এসব অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় ভূমিকা
আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তার গবেষণার সক্ষমতা। আইইউবিএটি গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। দেশি-বিদেশি গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত গবেষণায় উৎসাহ প্রদান এবং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প এবং মানসম্পন্ন গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ, শিল্প ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরভিত্তিক গবেষণাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলায় গুরুত্ব
বর্তমান কর্মক্ষেত্রে শুধু একটি সনদ অর্জন যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতারা এখন বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতা, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় আইইউবিএটি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে। শিক্ষানবিশ কার্যক্রম, বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প, সেমিনার, কর্মশালা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং পেশাজীবন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার
আইইউবিএটির প্রধান লক্ষ্য হলো মানসম্মত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ, দায়িত্বশীল, নৈতিক ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা। এর পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইইউবিএটি মনে করে, ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের প্রতিষ্ঠান হবে না; বরং জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী পাঁচ বছরে আইইউবিএটি
আগামী পাঁচ বছরে আইইউবিএটিকে আরও শক্তিশালী, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক একাডেমিক নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। গবেষণার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় আরও ভালো অবস্থান তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলাও আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
- বিষয় :
- গবেষণা