খনার বচন
×
--
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০
বাংলার জ্যোতিষশাস্ত্র ও কৃষি সংস্কৃতির অনন্য বচন রচয়িতা বিদুষী নারী খনা। তার আবির্ভাবকাল ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে অনুমান করা হয়। বাংলার লোকজীবন সম্পর্কে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি, যা 'খনার বচন' নামে পরিচিত। বচনগুলোতে জলবায়ু, জ্যোতিষচর্চা, ঋতুভেদে শস্যের ক্ষয়ক্ষতি ও ফলন সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তার অনেকটাই বৈজ্ঞানিক সত্যের খুব কাছাকাছি। খনার উপদেশবাণী দীর্ঘকাল বাংলার জলবায়ু ও কৃষিকাজের দিকদর্শন হিসেবে কাজ করেছে। সেগুলোর অধিকাংশের গুরুত্ব আজও অম্লান।
হ
চৈত্রে কুয়া ভাদ্রে বান। নরের মুণ্ডু গড়াগড়ি যান
অর্থাৎ, যে বছর চৈত্র মাসে কুয়াশা আর ভাদ্র মাসে বন্যা হয়, সে বছর প্রচুর লোকক্ষয় হয়ে থাকে।
হ
যদি বর্ষে মাঘের শেষ। ধন্য রাজার পুণ্য দেশ
অর্থাৎ, যদি মাঘ মাসের শেষে বৃষ্টি হয়, তাহলে প্রচুর রবিশস্য উৎপন্ন হয়। চাষির হাতে পয়সা আসে, মানুষের অভাব-অনটন থাকে না।
হ
শ্রাবণের পুরো, ভাদ্রের বারো, এর মধ্যে যত পারো
অর্থাৎ, সমস্ত শ্রাবণ আর ভাদ্রের দ্বাদশ, ধান্যাদি রোপিবে এই কয়েক দিবস।
হ
ষোলো চাষে মুলা। তার অর্ধেক তুলা
তার অর্ধেক ধান। বিনা চাষে পান
অর্থাৎ, মুলার ক্ষেত ষোলো দিন ধরে চাষ করবে; তুলায় আট দিন মাত্র। আর ধানে চার দিন। পানের জমিতে নাহি ধরিবে হাল। যথাকালে যথাফল পাবে চিরকাল।
হ
শুভক্ষণ দেখে করবে যাত্রা।
পথে যেন না হয় অশুভ বার্তা
আগে গিয়া করো দিক্ নিরূপণ।
পূর্ব দিক্ হ'তে হল চালন
যা কিছু আশা র্পূবে সকল।
নাহি সংশয় হবে সফল
অর্থাৎ, যেদিন প্রথম হল চালনে যাইবে। শুভক্ষণ দেখি গৃহ হতে বাহির হইবে। পথিমধ্যে অশুভ সংবাদ যদি পাও। তখনই গৃহেতে পুনঃ ফিরিবারে চাও। আবার তেমনি শুভক্ষণ দেখে যেও। দিক নিরূপণ করি হল চালাইও। পূর্ব দিক হতে হল চালন করিবে। এইরূপে করো কার্য্য সুফল ফলিবে।
হ
বাড়ির কাছে ধান গা।
যার মার আছে ছা
চিনিস বা না চিনিস।
খুঁজে দেখে গরু কিনিস
অর্থাৎ, বাড়ির কাছে যদি জমি থাকে, সবার আগে সেই জমিতেই চাষ আবাদ করা উচিত। তাতে চুরি যাবার ভয় থাকে না। গরু চেনার উপায় জানা থাক বা না থাক খুঁজে দেখে গরু কেনা উচিত।
হ
আষাঢ়ে পঞ্চদিনে। রোপণ যে করে ধানে
সুখে থাকে কৃষিবল। সকল আশা সফল
অর্থাৎ, আষাঢ়ের পাঁচ দিনের মধ্যে রোয় ধান। সে চাষার কষ্ট কোথা, খুশি সদা প্রাণ। সকল আশা সফল হয়তো তাহার। অফুরন্ত ধান চাল তাহার গোলার।
হ
আউশ ধান্যের চাষ। লাগে তিন মাস।
অর্থাৎ, রোপণের পরে তিন মাস মধ্যে আশ। জন্মে শেষ হয় তার যত কিছু চাষ।
হ
চৈত্রে কুয়া ভাদ্রে বান। নরের মুণ্ডু গড়াগড়ি যান
অর্থাৎ, যে বছর চৈত্র মাসে কুয়াশা আর ভাদ্র মাসে বন্যা হয়, সে বছর প্রচুর লোকক্ষয় হয়ে থাকে।
হ
যদি বর্ষে মাঘের শেষ। ধন্য রাজার পুণ্য দেশ
অর্থাৎ, যদি মাঘ মাসের শেষে বৃষ্টি হয়, তাহলে প্রচুর রবিশস্য উৎপন্ন হয়। চাষির হাতে পয়সা আসে, মানুষের অভাব-অনটন থাকে না।
হ
শ্রাবণের পুরো, ভাদ্রের বারো, এর মধ্যে যত পারো
অর্থাৎ, সমস্ত শ্রাবণ আর ভাদ্রের দ্বাদশ, ধান্যাদি রোপিবে এই কয়েক দিবস।
হ
ষোলো চাষে মুলা। তার অর্ধেক তুলা
তার অর্ধেক ধান। বিনা চাষে পান
অর্থাৎ, মুলার ক্ষেত ষোলো দিন ধরে চাষ করবে; তুলায় আট দিন মাত্র। আর ধানে চার দিন। পানের জমিতে নাহি ধরিবে হাল। যথাকালে যথাফল পাবে চিরকাল।
হ
শুভক্ষণ দেখে করবে যাত্রা।
পথে যেন না হয় অশুভ বার্তা
আগে গিয়া করো দিক্ নিরূপণ।
পূর্ব দিক্ হ'তে হল চালন
যা কিছু আশা র্পূবে সকল।
নাহি সংশয় হবে সফল
অর্থাৎ, যেদিন প্রথম হল চালনে যাইবে। শুভক্ষণ দেখি গৃহ হতে বাহির হইবে। পথিমধ্যে অশুভ সংবাদ যদি পাও। তখনই গৃহেতে পুনঃ ফিরিবারে চাও। আবার তেমনি শুভক্ষণ দেখে যেও। দিক নিরূপণ করি হল চালাইও। পূর্ব দিক হতে হল চালন করিবে। এইরূপে করো কার্য্য সুফল ফলিবে।
হ
বাড়ির কাছে ধান গা।
যার মার আছে ছা
চিনিস বা না চিনিস।
খুঁজে দেখে গরু কিনিস
অর্থাৎ, বাড়ির কাছে যদি জমি থাকে, সবার আগে সেই জমিতেই চাষ আবাদ করা উচিত। তাতে চুরি যাবার ভয় থাকে না। গরু চেনার উপায় জানা থাক বা না থাক খুঁজে দেখে গরু কেনা উচিত।
হ
আষাঢ়ে পঞ্চদিনে। রোপণ যে করে ধানে
সুখে থাকে কৃষিবল। সকল আশা সফল
অর্থাৎ, আষাঢ়ের পাঁচ দিনের মধ্যে রোয় ধান। সে চাষার কষ্ট কোথা, খুশি সদা প্রাণ। সকল আশা সফল হয়তো তাহার। অফুরন্ত ধান চাল তাহার গোলার।
হ
আউশ ধান্যের চাষ। লাগে তিন মাস।
অর্থাৎ, রোপণের পরে তিন মাস মধ্যে আশ। জন্মে শেষ হয় তার যত কিছু চাষ।
- বিষয় :
- খনার বচন
