ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন তবে বৈষম্য কমাতে হবে

অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন তবে বৈষম্য কমাতে হবে
×

অনুপম সেন

অনুপম সেন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৪৯

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত। সেই আদর্শ অনুসরণে ১৫ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অনুপম সেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার

সমকাল: স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হয়েছে। বাংলাদেশকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ড. অনুপম সেন: বাঙালি জাতির ইতিহাস সুপ্রাচীন। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে আমরা নানা রাষ্ট্র পেয়েছি, কিন্তু তা কখনও জনগণের হয়নি। রাষ্ট্র প্রথম জনগণের হলো ১৯৭১ সালে, নাম হলো তার বাংলাদেশ। আমরা জানি, ১৯০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও ২৩ বছরের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনে বাঙালি জাতি চরমভাবে শোষিত হয়েছে। বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের ধনী দেশ ছিল। এই যে ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার, যিনি মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভায় এসেছিলেন, তাঁর মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল বাংলাদেশ। ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের প্রধানমন্ত্রী উলবার্টকে লেখা চিঠিতে বার্নিয়ারের বর্ণনায় আমরা সেই তথ্য পাই। ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দরিদ্র দেশে পর্যবসিত হয়েছে।

১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশের মানুষ ঠিকমতো খেতে পারত না। ষাটের দশকেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলাকে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে হতো। এই যে বাঙালির দরিদ্র হয়ে যাওয়া, একটা ধনী দেশ থেকে দরিদ্র হয়ে যাওয়া; আমি মনে করি, এটা বাঙালির একটা রাষ্ট্র না থাকার ফল। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন। দিয়েছেন অসাধারণ একটি সংবিধান। সেই সংবিধানে বলা হয়েছে– রাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষকে তার মর্যাদা দিতে হবে। 

সমকাল: দেশের উন্নয়নে জনগণের জাতীয়তাবোধ বা দেশাত্মবোধের জাগরণ কতটুকু দেখছেন?

ড. অনুপম সেন : পাল, সেন, মোগল আমলে রাজারা স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছেন, কিন্তু জনগণ তো স্বাধীন ছিল না। নাগরিকদের তো কোনো অধিকার ছিল না। সেই হিসাবে জনগণের যে রাষ্ট্র, সেটা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। তাই এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য দিন। এই দিনে বাঙালি জাতিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি বাঙালির নিজের রাষ্ট্র। এর আগে কখনও বাঙালির নিজস্ব রাষ্ট্র ছিল না। পাকিস্তান আমলে একটা সংবিধান প্রণয়নে ৯ বছর সময় লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ১০ মাসের মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন। সেই সংবিধানে বঙ্গবন্ধু বাংলাকেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি জাতি-রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। জাতি-রাষ্ট্র মানে জাতি অনুভব করবে; দেশের প্রত্যেক মানুষ অনুভব করবে– 

এই দেশ আমার। এই দেশের যদি কোনো ক্ষতি হয়, সেটি আমারই ক্ষতি। এই দেশের অবমাননা আমারই অবমাননা– এই অনুভব কিন্তু বাঙালির আগে আর কখনোই হয়নি। লর্ড ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে ভাষণ দিয়েছে, সেখানে সে উল্লেখ করেছিল, সে যখন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অল্প সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করছে, তখন যদি মুর্শিদাবাদের জনগণ তাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রতিরোধ করত, তাহলে পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয় সম্ভব ছিল না। তখন মানুষ যুদ্ধক্ষেত্রের অদূরে চাষবাসের কাজ করছিল। তারা ভাবছে, এক রাজা গেলে আরেক রাজা আসবে। তখন মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটেনি; জাগেনি দেশাত্মবোধ। কিন্তু এখন যদি বাংলাদেশের কিছু হয়, বাঙালি জাতি সাংঘাতিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে। সবাই বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য জাতির পিতার সেই বাণী ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’ ঝাঁপিয়ে পড়বে। 

সমকাল: অর্থনৈতিক মুক্তিও স্বাধীনতার চেতনার অন্যতম অনুষঙ্গ। সেই মুক্তি কবে আসবে? 

ড. অনুপম সেন: ৭ মার্চের ভাষণ ছিল পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ। এর আগে কেউ ১০ লাখ জনগণের সামনে এমন অসাধারণ ভাষণ দেননি। সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ছাত্রনেতাদের চাপে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন, তাহলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করত। তিনি সেদিন আক্ষরিক অর্থে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কিন্তু তাঁর ভাষণে স্বাধীনতা ঘোষণা হয়েই যায়। তিনি বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে শুধু স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা বলেননি; মুক্তির সংগ্রামের কথাও বলেছেন। এই মুক্তি শুধু রাজনৈতিক মুক্তি নয়, অর্থনৈতিক মুক্তিও। স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য বঙ্গবন্ধু সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ওই সময় তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি করেছেন; ছিটমহলের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছেন। আসলে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে গোটা বাংলাদেশ ছিল বিধ্বস্ত। পাকিস্তানিরা তো ’৭১ সালে ‘পোড়ামাটি নীতি’ নিয়ে এ দেশে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তিনি জাতীয় সংসদে এক ভাষণে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে গণতন্ত্র চান, সেটা শোষকের গণতন্ত্র নয়, শোষিতের গণতন্ত্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথাকথিত গণতন্ত্র আছে, কিন্তু মানুষ তো না খেয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু সেই গণতন্ত্র চাননি। আমেরিকার মতো দেশে ৪ লাখের মতো মানুষ আশাহীন দিনাতিপাত করে। তাদের কোনো আশ্রয় নেই। সেখানে ১ শতাংশ লোকের হাতে ৯০ শতাংশ মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত। কিন্তু স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এই দেশে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। দেশের মানুষ যাতে দু’মুঠো ভাত খেতে পারে সে জন্য তিনি সম্ভব সবই করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে সাধারণ মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সে জন্য রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণের উন্নয়নে বিশাল বিনিয়োগ করেছে রাষ্ট্র। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য কখনও কখনও সম্পদকেও বিনিয়োগ করতে হয়, ত্রিশের দশকে যেটা করেছিল আমেরিকা। ১৯৩৪ সালের দিকে ‘ফ্র্যাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট যখন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি, তখন জনগণের হাতে টাকা ছিল না। তারা তখন কোনো কিছু কিনতে পারছিল না। আমেরিকার জিডিপি ৭০ বিলিয়ন থেকে ৪০ বিলিয়নে নেমে এসেছিল, তখন রাষ্ট্র এগিয়ে এলো। রাষ্ট্র সেই সময় বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প নিল, রাস্তাঘাট তৈরি করল, যাতে জনগণের হাতে টাকা আসে, মানুষ ক্রয়ক্ষমতা ফিরে পায়। বঙ্গবন্ধুর আমলেও রাষ্ট্র জনগণের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছিল। এই যে ভৈরব রেলওয়ে সেতু; স্বাধীনতার পর সেটা তিনি পুনর্নির্মাণ করলেন। চট্টগ্রাম বন্দরকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় দ্রুততম সময়ে চালু করলেন। তখন কিন্তু বিশ্বে অর্থনীতিতে একটি বড় অপঘাত এসেছিল। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এক-দুই ডলারের তেলের দাম ১৭-১৮ ডলারে উঠে গিয়েছিল। তাতে একই সঙ্গে মন্দা আর মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফন ঘটেছিল। তার থেকে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি রক্ষা করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ। পরের ৬ বছরে সেটা আর ঘটেনি। তো, অর্থনৈতিক মুক্তির যে ধারা বঙ্গবন্ধু সূচিত করেছিলেন, পরবর্তী সরকারগুলো তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। আশার কথা, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর পথেই আছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আপসহীন। সুতরাং একদিন অর্থনৈতিক মুক্তি আসবেই– আমি সেটা বিশ্বাস করি। 

সমকাল: সংবিধানে সাম্যের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু দেশে এখন বৈষম্যের রাজত্ব। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

ড. অনুপম সেন: বঙ্গবন্ধু সংবিধানে সাম্যের কথা বলেছিলেন। সাম্য মানে অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন অনেকাংশে পূরণ হয়নি; অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি। এটাও ঠিক, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। এখন তা মাত্র ১৮ শতাংশ। তখন মানুষ দু’বেলা ঠিকমতো খেতে পেত না। এগুলো তো আমি নিজের চোখেই দেখেছি। এখন আর সে অবস্থা নেই। উত্তরবঙ্গে আর সেই মঙ্গা নেই। এখন মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। শতভাগ এলাকা এখন বিদ্যুতের আওতায়। বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্পের ফল মানুষ ধীরে ধীরে পাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চার কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে। এসব লোকের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার অসাধারণ কাজ করছে বলে আমি মনে করি। একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমাদের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেটাতে বৈষম্য আছে; তা কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের ধনীরা নানা অজুহাতে যথাযথ কর দেয় না। তাদের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়াতে হবে। যারা চার লাখ টাকা আয় করে তাদের ওপর কর আরোপ করা হয়। আমি মনে করি, সাত-আট লাখ টাকার নিচে ব্যক্তি খাতে কর আদায় করা ঠিক না। বরং যারা ৫০ লাখ বা কোটি টাকা আয় করে, তাদের কাছ থেকে কর বেশি আদায় করতে হবে। তাহলে বৈষম্য কমবে। রাষ্ট্রকেও জনগণের নানা প্রয়োজন মেটাতে হবে। 

সমকাল: এই অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে; ঘাটতি কোথায়? 

ড. অনুপম সেন: বঙ্গবন্ধু দুটি বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। একটা শিক্ষা, অন্যটি কৃষি। গত ৫৩ বছরে এ দুই ক্ষেত্র বাংলাদেশের অর্জন অসামান্য। বিশেষ করে কৃষির কথা বলব। ১৯৭১ সালে মাত্র এক কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হতো; এখন ৪ কোটি টন উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এ কথাও মনে রাখতে হবে, তখনকার চেয়ে এখন আমাদের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষের জীবনমান যখন উন্নত হতে থাকে, তখন চাহিদাও বাড়ে। তাই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব ইতিবাচক কাজ করছে। এটা ঠিক, আমরা যে মানে শিক্ষাকে চাইছি, তা এখন পর্যন্ত সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি। এখন ৯০ শতাংশ শিশুকে অক্ষরজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করার চেষ্টা করছে সরকার। বছরের প্রথম দিনেই ৩৫ কোটি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এটা সামান্য কথা নয়। এর পরও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবৈতনিক বা জাতীয়করণ করার চেষ্টা থাকতে হবে। সংস্কৃতি খাতে ব্যয় আরও বাড়াতে হবে। সংস্কৃতির লালনে আরও যত্নশীল হতে হবে।

আরেকটা কথা বলেত চাই। ১৯৭১ সালে আমাদের দেশে কিন্তু কোনো ওষুধ উৎপাদিত হতো না। তখন ওষুধের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। আজকে বাংলাদেশে তার চাহিদার প্রায় ৯৪ শতাংশ ওষুধ তৈরি করছে; রপ্তানিও করছে। আগে জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল কৃষির। এখন কৃষির বাইরে অন্য খাতগুলো বিকশিত হয়েছে। বলা চলে, বাংলাদেশ এখন শিল্পায়িত দেশে পরিণত হয়েছে। নব্বইয়ের দশকেও জিডিপিতে শিল্পের অবদান ছিল মাত্র ৯ শতাংশ, এখন তা ৩৭ শতাংশ। সেবা খাতের অবদানও অনেক বেড়েছে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়েছি। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। 

সমকাল: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. অনুপম সেন: সমকাল এবং এর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
 

আরও পড়ুন

×