ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে সাকিফ শামীম

শুটিংকে বাণিজ্যিকীকরণ করার লক্ষ্য

শুটিংকে বাণিজ্যিকীকরণ করার লক্ষ্য
×

বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৮

মেডিকেল সেক্টরের মানুষ হলেও খেলাধুলার সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত আছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুটিং নিয়ে নিজের স্বপ্নসহ নানা বিষয় নিয়ে সাকিফ শামীম কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়

সমকাল: আপনি দেশের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, ফেডারেশন ও ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বহুমুখী। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শুটিং ফেডারেশন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
সাকিফ শামীম:
শুটিং ফেডারেশন নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। শুটিংয়ের  মূল সমস্যাটাই হলো গ্রাসরুটস প্লেয়ার্স আমরা আনতে পারছি না এবং এই স্পোর্টসের একটি ব্র্যান্ড বিল্ডিংটাও অনেক জরুরি। সেই জায়গাগুলো আমরা প্রথমে অ্যাড্রেস করছি। পাশাপাশি হচ্ছে জেলা পর্যায়ে ৫৭টি ক্লাব রয়েছে। এই ক্লাবের সংখ্যা বাড়ানোর থেকেও এখন আমরা যেটা প্রায়োরিটি করছি,  ক্লাবগুলো যাতে আরও আমরা আপগ্রেড করতে পারি এবং তাদের যাতে যথাযথ বাজেট আমরা দিতে পারি, যাতে তারা কাজ করতে পারে। তো এগুলো আমাদের পরিকল্পনা। আর বৃহৎ পরিকল্পনার ভেতর আমাদের একটা রয়েছে যে এই ফেডারেশনে ভবিষ্যতে একটি ৪০ তলা বিল্ডিং করতে চাই। যেখানে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল থাকবে, প্লেয়ার্সদের থাকার জন্য ব্যবস্থা থাকবে, শুটিং রেঞ্জেস থাকবে এবং যে সুবিধাগুলো এখন আমাদের এখানে নেই, আমরা এখনও একটি ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট অর্গানাইজ করতে পারিনি, এই কাজগুলো আমরা করব।

সমকাল: দায়িত্ব নেওয়ার পর শুটিংয়ের কোন বিষয়টি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে?
সাকিফ শামীম:
বিগত সময়ে শুটিংয়ে অনেক কমিটি ছিল। আমাদের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার যে ব্যাপারটা, এখানে আসলে স্বচ্ছতার অনেক অভাব ছিল। আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম, তবে সেগুলো ওভারকাম করে ফেলেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় সংগঠক, প্লেয়ার্স, তারপর আমাদের মিডিয়া– সবার ভেতরে একটা সেতুবন্ধ করা খুব জরুরি ছিল। তো এই সেতুবন্ধটাও আমরা করছি। আর শুটিং খেলাটাকে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর যে ব্যাপার, এটা এখানে মিসিং। এসব বিষয় আমরা চিহ্নিত করেছি এবং এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে শুটিংয়ের বাণিজ্যিকীকরণ করতে চাই। এটার দর্শক বাড়ানোর দিক জোর দিয়েছি আমরা। 

সমকাল: ফেডারেশনের বর্তমান অবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সাকিফ শামীম:
অবকাঠামোগতভাবে আমাদের শুটিং অনেক পিছিয়ে আছে। এই খেলাটা যে জনগণকে আকৃষ্ট করবে, এসব বিষয় এখনও গড়ে ওঠেনি। আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্টেও আমরা এখন আর আগের মতো সামর্থ্যবান নই। প্লেয়ার্স ডেভেলপমেন্টের জায়গাতে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। তৃণমূল পর্যায়ে সেই অর্থে খেলোয়াড় নেই। আমরা চেষ্টা করছি ক্লাব আর ফেডারেশনের মধ্যে একটা বন্ডি করার। আসলে ক্লাব আর জেলা থেকেই তো খেলোয়াড় উঠে আসে। 

সমকাল: শুটিং নিয়ে আপনার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
সাকিফ শামীম:
আমদানি বরাদ্দের কিছু ব্যাপার রয়েছে, ফাইন্যান্স রিলেটেড কিছু জটিলতা রয়েছে। এই জিনিসগুলো ঠিক করা হলো আমাদের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। পাশাপাশি আমরা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে ক্লাবগুলোকে সমৃদ্ধ করা। পাশাপাশি ফেডারেশনের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্র্যান্ডিং বাড়ানো। 

সমকাল: ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অ্যাথলেটদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
সাকিফ শামীম:
না। সত্যি কথা বলতে অ্যাথলেটদের ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার নিয়ে আমরা কাজ শুরু করিনি। আমরা বিভিন্ন ব্যাংকস এবং বিভিন্ন করপোরেট হাউজের সঙ্গে কথা বলছি। অলরেডি কিছু কাজ হচ্ছে। যেমন– বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনাল এডুকেশন খেলোয়াড়দের স্কলারশিপ দেয়, এই স্কলারশিপটা আমরা বাড়াতে চাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আইএসএসএফের সঙ্গেও, যেটা আমাদের মাদার অর্গানাইজেশন, তো তাদের সঙ্গে আমি কথা বলছি। তারপর আমাদের এশিয়ান শুটিং কনফেডারেশন, তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলছি, আসলে প্রমোশনটা তাদের নিয়ে আরও কীভাবে করা যায়, এই কাজটা এগুলো নিয়ে আমরা করছি। 

সমকাল: ন্যাশনাল লেভেল কম্পিটিশনের মান আরও উন্নত করতে ফেডারেশনের পরিকল্পনা কী? 
সাকিফ শামীম:
আমরা এখানে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করতে চাই। আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য ৪০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। সেখানে  আন্তর্জাতিক মানের রেঞ্জেস, তারপর রেস্টুরেন্টস, মানে সব ধরনের ফ্যাসিলিটি থাকবে। আর অন্য যেসব জিনিসের উন্নতি করা দরকার, আমরা সেগুলো করব। 

সমকাল: বিদেশি কোচ বা ইন্টারন্যাশনাল টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
সাকিফ শামীম:
আমরা ইতোমধ্যে চার-পাঁচজন বিদেশি কোচের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের ট্রেনিং সাব কমিটি এবং যাদের শুটিং নিয়ে ধারণা আছে, তাদের সঙ্গে বসে কোচ নিয়োগের কাজটি করছি। আমরা একজন পিস্তল এবং একজন রাইফেলের বিদেশি কোচ নিব। তাদের সঙ্গে তিনজন লোকাল কোচ নিব। পাঁচজন কোচের একটি প্যানেল আমরা করব।

সমকাল: সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি স্পন্সর আনার ক্ষেত্রে ফেডারেশনের পরিকল্পনা কী?
সাকিফ শামীম:
আমরা শিগগিরই মিডিয়া হাউসগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করব এবং ব্যাংক, ভালো করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে আমরা প্রস্তাবনা দিব। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। 

সমকাল: এশিয়ান গেমসে দল গঠনে ও অ্যাথলেট সিলেকশন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ও অ্যাথলেট বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান কমিটি এই অভিযোগগুলোকে কীভাবে দেখছে?
সাকিফ শামীম:
আসলে হিংসাত্মক যে রাজনীতি বা আমাদের যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি বা মব কালচার, এখান থেকে আমরা ফেডারেশন সম্পূর্ণভাবে জিরো টলারেন্স। এখানে কিছু অন্যায় অবশ্যই হয়েছে, সেগুলোর আমরা প্রপারলি অ্যাকশন নিয়েছি। কিছু প্লেয়ার নিয়ে ইস্যু ছিল, ওগুলোতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। 

সমকাল:  দেশের অন্যতম সেরা শুটার কলির মতো একজন অ্যাথলেট এশিয়ান গেমসের দলে না থাকা নিয়ে ফেডারেশনের অ্যাসেসমেন্টটা কী?
সাকিফ শামীম:
তাকে নিয়ে সিলেকশন করা হয়েছিল, তো সে আসলে সিলেকশনে টিকেনি। না টেকার পেছনেও নানা কারণ ছিল। আমরা এখন বিভিন্নভাবে তাকে সাপোর্ট দিচ্ছি। যাতে নেক্সট গেমসগুলোতে অংশ নিতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

সমকাল: বিগত এক বছরে শুটিংয়ে যে ক্ষতি হয়েছে এবং শুটারদের সঙ্গে অন্যায় করার একটা অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফেডারেশন কী ব্যবস্থা নেবে?
সাকিফ শামীম:
প্লেয়ার পলিটিকসের ব্যাপারটা আপনারা সবাই জানেন। আমরা চেষ্টা করছি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত আমরা শিগগিরই শুরু করব।

সমকাল: ফেডারেশন নির্বাচন নিয়ে আপনার পরিকল্পনাটা কী?
সাকিফ শামীম:
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমাদের যে সময়টুকু দিয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই আমরা নির্বাচন করব। যারা কাউন্সিলর আছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাইলাইট করছি এবং আমাদের ইচ্ছা একটা ভালো নির্বাচন দেওয়া।

আরও পড়ুন

×