ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়াডে পদকের আশা ভলিবলে

এশিয়াডে পদকের আশা ভলিবলে
×

এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী, সভাপতি, ভলিবল ফেডারেশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:০০

দুটি বাঁশের খুঁটি আর একটি নেট লাগিয়েই ভলিবল খেলার আনন্দে মেতে থাকতে দেখা যায় গ্রামগঞ্জ কিংবা শহরে। অনেকের কাছে ভলিবল খেলাটা জনপ্রিয় হলেও নানা কারণে এই খেলা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি সাফল্য আসছে না। অথচ বাংলাদেশে ভলিবলের দারুণ সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি। 

আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ফেডারেশন। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী। সমকালের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভলিবল নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি, ‘আমি চাই, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ভলিবল এশিয়ার মঞ্চে শক্ত অবস্থান তৈরি করুক। আমাদের জাতীয় দল নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলবে, শক্তিশালী বয়সভিত্তিক পাইপলাইন তৈরি হবে এবং খেলোয়াড়রা পেশাদার সুযোগ-সুবিধা পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, এশিয়ান গেমসে আমরা শুধু অংশগ্রহণ করতে যাব না– পদকের জন্য লড়াই করব। সরকার, ফেডারেশন, খেলোয়াড়, কোচ, স্পন্সর এবং মিডিয়া– সবাই যদি আন্তরিকভাবে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশের ভলিবলকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী। দায়িত্ব পেয়ে বসে নেই তিনি। ভলিবলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চান তিনি, ‘ভলিবলের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। অন্তত পাঁচ থেকে দশ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কার্যক্রম করলে হবে না। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ এবং সেখান থেকে জাতীয় পর্যায়– এভাবে ধাপে ধাপে খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। সঠিকভাবে নার্সারিং ও যত্ন নিতে পারলে ভলিবল থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় অর্জন না আসার কোনো কারণ দেখি না।’ 

ভলিবলে শক্তিশালী পাইপলাইন যে নেই, সেটা স্বীকার করেছেন লতিফ, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়ের পাইপলাইন নেই। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছেন, জাতীয় পর্যায়ে ভালো মানের খেলোয়াড়ও রয়েছেন। কিন্তু নতুন খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিক ব্যবস্থা এখনও শক্তিশালী নয়।’ 

এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে অর্থের প্রয়োজন বলে মনে করেন ভলিবলের সভাপতি, ‘এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভালো ফল করতে হলে প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা–সবকিছুর জন্য অর্থ দরকার। আবার স্পন্সর পেতে গেলে তারা জানতে চান আমাদের অর্জন কী। অর্জন করতে গেলে আবার অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা দরকার। ফলে একটি চক্র তৈরি হয়। এর পরও আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি, জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা করেছি, ইন্টার-ডিস্ট্রিক্ট ও ফার্স্ট ডিভিশন টুর্নামেন্ট করেছি, নারী ভলিবলের আয়োজন করেছি। জাতীয় দলকেও কয়েকবার বিদেশে পাঠিয়েছি।’

সম্প্রতি পাকিস্তানের ছেলেদের কাবা টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের কাছে হেরেছিলাম। এই টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য কোথায় তা তুলে ধরেছেন লতিফ, ‘পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং শক্তিশালী দল। তবে চার-পাঁচ বছর আগেও তারা আজকের অবস্থানে ছিল না। তাদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ। আমরা সাধারণত কোনো টুর্নামেন্ট সামনে এলে এক-দুই মাস আগে ক্যাম্প শুরু করি। কিন্তু পাকিস্তানে দেখেছি, তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সারা বছর চলে। তাদের বয়সভিত্তিক দলও রয়েছে– ছেলেদের ও মেয়েদের। ফলে তাদের খেলোয়াড়ের পাইপলাইন অনেক শক্তিশালী। আমাদেরও এখন অন্তত তিনটি বয়সভিত্তিক দল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯– এ ধরনের দল থাকলে নতুন খেলোয়াড়ের সরবরাহ কখনও বন্ধ হবে না।’

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×