শান্তর আফসোস
পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা ৪৪ রান করার পথে শান্ত - এএফপি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২:১৬ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২২:১৯
কলকাতা টেস্টের সঙ্গে তুলনায় গেলে পিন্ডি টেস্টে উন্নতি দেখাতে পারবেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনসে দিবারাত্রির টেস্টে টাইগাররা দুই ইনিংস মিলে ব্যাট করেছিল ৭১.৪ ওভার। বলতে গেলে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই সেখানে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রায় এক দিন ব্যাট করল বাংলাদেশ। টাইগাররা ৮২.৫ ওভারে ২৩৩ রানে অলআউট হলে পাকিস্তানকে ব্যাটিং করতে হয়নি আলোর স্বল্পতার কারণে। স্বাগতিকদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে। কে বলতে পারে শেষ বিকেলের চুরি যাওয়া আলোয় ব্যাট করলে এক দুটি উইকেট হারাতো না স্বাগতিকরা! সে যাই হোক, ব্যাটিংয়ের দিক থেকে পিন্ডি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভালো হয়নি বাংলাদেশের। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই সেট হয়ে উইকেট দিয়ে এসেছেন বোলারদের। প্রথম দিনের খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে তাই নাজমুল হোসেন শান্তর সরল স্বীকারোক্তি, ধৈর্য দেখালে ব্যাটিং আরও ভালো হতে পারত। দিনের শেষে অলআউট লেখা হতো না নামের পাশে।
বাংলাদেশের বর্তমান দলের কেউই পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেনি। দেশটিতে ২০০৩ সালে শেষবার টেস্ট সিরিজ খেলেছে টাইগাররা। সেদিক থেকে দেখলে অচেনা কন্ডিশনে শক্তিশালী পেস বোলিং ইউনিটের বিরুদ্ধে ব্যাট করা সহজ ছিল না। তবে পিচ ভালো হওয়ায় ইনিংসটা বড় হতেই পারত। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এভাবে হতাশা ব্যক্ত করতে হতো না শান্তকে, 'কিছুটা হতাশ। কারণ ইনিংসটা বড় করা উচিত ছিল। উইকেট ভালো। প্রথম ৫-৬ ওভারে যা একটু মুভমেন্ট ছিল। কিন্তু পুরোটা দিন ওরা ভালো বোলিং করে গেছে। ভালো জায়গায় বল ফেলেছে। তার পরও বলব, আমাদের আরেকটু ধৈর্য ধরে খেলা দরকার ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন বোলিং আর দ্বিতীয় ইনিংসের নিয়ে ভাবছি আমরা।'
বোলিংয়ের শুরুটা ভালো করে পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদি ওপেনিং ওভারের তৃতীয় বলেই সাজঘরে পাঠান অভিষিক্ত সাইফ হাসানকে। পরের ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার তামিম ইকবাল। শুরুতেই কোমর ভেঙে দেওয়ায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হককে মূলত ওপেনিং রোলে ব্যাটিং করতে হয়। জুটিতে ৬২ রান করেন তারা। সেট হয়ে যাওয়ার পর শান্তর কাছ থেকে বড় ইনিংস আশা করা হলেও দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই উইকেট খুইয়ে দেন তিনি। ১১০ বল খেলে করেন ৪৪ রান। টপঅর্ডার এ ব্যাটসম্যান বলেন, 'আরেকটু ভালো হতে পারত। প্রথমে দুটি উইকেট চলে যাওয়ার পর ভালো কামব্যাক করেছিলাম। আমার ও মমিনুল ভাইয়ের জুটিটা আরও বড় করা উচিত ছিল।'
শান্তর মতো উইকেটে থিতু হয়ে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি অন্যরাও। মুমিনুল ৩০, মাহমুদুল্লাহ ২৫, লিটন ৩৩, তাইজুল ২৪ আর মিঠুন ৬৩ রান করেছেন। এ থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার, ধৈর্য দেখালেই ছোট ছোট জুটি বড় করা যেত। ব্যক্তিগত ইনিংসগুলো হাফ সেঞ্চুরি, এমনকি সেঞ্চুরিতেও রূপ দেওয়া সম্ভব হতো। জুটি বড় করতে না পারায় দিনশেষে আক্ষেপ করলেন শান্ত, 'উইকেট ভালো। খুব বেশি পেস নেই। শাহিন ভালো জায়গায় বল ফেলেছে। আব্বাসও খুব নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে। একাধারে এক জায়গায় বোলিং করে গেছে। মেডেন তুলেছে। এত কিছুর পরও বলব, আজকের (শুক্রবার) দিনটা আমাদের টিকে থাকা উচিত ছিল। এখন সেকেন্ড ইনিংস নিয়ে চিন্তা করছি। ভালো জায়গায় বল করতে পারলে ভালো কিছুই হবে।'
পাকিস্তানের বোলিং পাওয়ার হাউস পেস ইউনিট। তিন পেসারের শিকার সাত উইকেট। শাহিন চার, আব্বাস দুই আর নাসিমের শিকার এক উইকেট। পেসাররা আগাগোড়া সুশৃঙ্খল বোলিং করে গেছেন। ব্যাটসম্যানদের বিট করতে পেরেছেন বেশিরভাগ বলে। শাহিনদের মতো টাইগার পেসাররা জ্বলে উঠলে খেলা জমবে।
