'টেস্টের প্রতি কখনোই অনীহা ছিল না'
--
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ০০:২৮ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৩২
করোনাভাইরাসে থমকে গেছে জীবন। অন্য ক্রিকেটারদের মতো পরিবার নিয়ে রুবেল হোসেনও ঘরবন্দি। জাতীয় দলের এই পেসারের আহ্বান, দেশ ও পরিবারের কথা ভেবে প্রত্যেক মানুষেরই উচিত নিজেকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা। জীবনের প্রয়োজনে এবং বৃহত্তর স্বার্থে আগামী কিছুদিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার
পরামর্শ তার। করোনায় করণীয় আর ক্রিকেট নিয়ে রুবেল হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপে ছিলেন আলী সেকান্দার
সমকাল :কীভাবে কাটছে কঠিন সময়?
রুবেল :বাসায় থাকি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। বাচ্চার যত্ন নিচ্ছি। এই কঠিন সময়ে যে এ ছাড়া করার কিছু নেই।
সমকাল :ক্রিকেট বোর্ড থেকে যে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর চর্চা হচ্ছে?
রুবেল :রিহ্যাবের কাজ। রাবার ব্যান্ড থেকে শুরু করে কিছু ব্যায়াম। এগুলো বাসায় এমনিই করতাম। পার্থক্যটা শুধু এখন প্রতিদিন রুটিন করে দেওয়া হয়েছে। যাতে একঘেয়েমি না আসে। সব ক্রিকেটারই এই কাজগুলো করছে। এ মুহূর্তে আমরা সবাই ঘরবন্দি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ফিটনেস তো ধরে রাখতে হবে। এই সত্য আমরা জানি এবং ফিটনেসের কাজগুলো করছি।
সমকাল :পৃথিবীর এই বিপর্যয় দেখে নতুন উপলব্ধি হলো কি?
রুবেল :আমাদের জেনারেশন এ ধরনের কিছু কল্পনাও করেনি। এই মাসেই বোঝা যাবে দেশের পরিস্থিতি কী হয়। এক-দুই সপ্তাহ খুবই সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে একজন থেকে অন্যজনে করোনাভাইরাস না ছাড়ায়। এটা এমন একটা ভাইরাস, যার কোনো চিকিৎসা নেই। আর বিস্তারও হয় নীরবে। কেউ বুঝতেও পারবে না সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারই ঝুঁকির মুখে পড়বে। বাবা-মা, ভাইবোনকে নিয়ে চিন্তা হয়। এই ভাইরাস আসার পর থেকে পরিবারের কথা ভেবে আমি অনেক সচেতন হয়েছি। দেশের কথা সবাইকেই চিন্তা করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের এই মুহূর্তে বাসায় থাকা উচিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে নিয়মগুলোর কথা বলছে- আমি এবং আমার পরিবার সেগুলো অনুসরণ করছি। অন্যদেরও করা উচিত।
সমকাল :মানুষকে তো ঘরবন্দি রাখা খুব কঠিন কাজ?
রুবেল :এশিয়ার মানুষ একটু আড্ডাপ্রিয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকার মানুষকে ঘরে আটকে রাখা কঠিন। আমরা বাইরে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করি। এখন সব কিছু ভুলে দেশের কথা ভেবে, মানুষের কথা চিন্তা করে সবাইকে বাসায় থাকতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের কথা ভাবে, পরিবার, বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানের কথা ভাবে তাহলে নিয়ম মানা কঠিন কিছু না।
সমকাল :ক্রিকেট প্রসঙ্গে আসি, অনেক দিন ধরেই তো বিসিবির চুক্তিতে নেই আপনি?
রুবেল :চুক্তিতে না থাকলে খারাপ লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা তো আমার হাতে নেই। যতদিন খেলব চেষ্টা করব ভালো খেলতে। চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি না। চেষ্টা করব আগের ছন্দে ফিরতে। সময়ের সঙ্গে সব কিছু পরিবর্তন হয়। সামনে ভালো কিছু আসতেও পারে।
সমকাল :চুক্তি কি ভালো খেলার সহায়ক?
রুবেল :চুক্তিতে থাকলে বেশি পরিশ্রম করতে হবে বা স্কিল নিয়ে বেশি কাজ করতে হবে, তা নয়। বরং চুক্তিতে না থাকলে পরিশ্রম বেশি করতে হয় জাতীয় দলে ফেরার জন্য বা নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য। বেশ কিছুদিন ধরে জাতীয় দলে আমি অনিয়মিত। পাকিস্তানে একটা টেস্ট খেলেছি মাত্র। জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কম পাই। জাতীয় দলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে নেওয়া আমার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। সামনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা হলে ভালো করতে হবে। পরিশ্রম করলে, পারফর্ম করলে জাতীয় দল এবং চুক্তি সব পাওয়ার সুযোগ আসবে।
সমকাল :আপনার তো একটা সময় দারুণ গেছে। হঠাৎ কেন পিছিয়ে গেলেন?
রুবেল :মাশরাফি ভাই অনেক বছর ধরে ক্রিকেট খেলছেন। চেষ্টা করলে আমিও নিশ্চয়ই পারব। রুবেল হোসেন হারিয়ে গেছে বা শেষ হয়ে গেছে এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি। ক্রিকেটটা খেলতে হবে আমার নিজের এবং পরিবারের জন্য। কারণ ক্রিকেট আমার রুটি-রুজি। দেশের জন্য এতদিন ধরে খেলছি, যা কিছু করতে পেরেছি তারচেয়েও অনেক বেশি করার আছে। তাই সামনের দিনগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতে হবে। আমার স্কিল ঠিক আছে, জোরে বল করতে পারি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করলে সুন্দর সময় ফিরবেই। ইনশাআল্লাহ আমি ফিরবই। বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে গিয়েছি। সেখানে তিনটি উইকেটও পেয়েছি। পারফর্ম করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছি। নির্বাচকদের মাথায় অবশ্যই এটা আছে।
সমকাল :টেস্টের সম্মানী তো অনেক ভালো, এখন নিশ্চয়ই টেস্ট খেলতে চাইবেন?
রুবেল :টেস্টের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিসিবির খুব ভালো একটা উদ্যোগ। প্রত্যেক ক্রিকেটার খুশি। তরুণরাও উজ্জীবিত হবে। আর আমার কথা বললে, টেস্ট খেলা নিয়ে কখনও আমার অনীহা ছিল না। টেস্টে আমার এভারেজ খুবই খারাপ, উইকেট পাই না। তাই বলে টেস্টের প্রতি আমার অনীহা ছিল না। ক্রিকেটপাড়ায় প্রচার আছে- আমি টেস্ট খেলতে চাই না। ড্রেসিংরুমে দুষ্টামি করে অনেক কথাই তো বলি। সেটা বাইরে গেলে ভিন্নভাবে প্রচার পায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমার রুটি-রুজি ক্রিকেট, যত বেশি খেলার সুযোগ পাব তত লাভবান হবো।
সমকাল :জাতীয় দলের বোলিং ইউনিট তো শক্তিশালী, নতুন করে জায়গা পাওয়া কঠিন হবে না?
রুবেল :স্বাস্থ্যকর একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এসেছে। প্রতিযোগিতা থাকলে প্রত্যেকের মধ্যে ভালো করার চ্যালেঞ্জ থাকে। খারাপ খেললে জায়গা হারানোর ভয়। যেটা দলের জন্য ভালো। তিন সংস্করণে ম্যাচ ফি বেড়েছে। নিয়মিত খেলতে পারলে আর্থিকভাবে লাভবান হবো। এটা মাথায় রেখে হলেও জাতীয় দলে নিয়মিত হতে চেষ্টা করব। এখন ভালো ভালো পেস বোলার আছে দলে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, স্কিলে উন্নতি হচ্ছে। দলের উন্নতির জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব প্রয়োজন।
সমকাল :জাতীয় দলে খেললে ঘরোয়া লিগের দল পেতেও তো সুবিধা?
রুবেল :অবশ্যই। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে ফোকাসে থাকা যায়। ক্লাবগুলো বুঝতে পারে এই বোলারকে নিলে লাভ হবে।
- বিষয় :
- রুবেল হোসেন
- সাক্ষাৎকার
- করোনা
- টেস্ট
- ওয়ানডে
- বাংলাদেশ
- খেলা
- ক্রিকেট
