ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

`জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটবল নয়`

`জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটবল নয়`
×

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩৮ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪২

সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসারে ইউরোপসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ফুটবল লিগ বন্ধ থাকবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতির দেশভিত্তিক প্রভাব দেখে স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো না-বাড়ানোর ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে সংশ্নিষ্ট লিগ কর্তৃপক্ষগুলো। বিশেষ করে গ্যালারি ফাঁকা রেখে হলেও খেলা চালিয়ে মৌসুম শেষ করার আগ্রহ জার্মানি, চীনসহ কয়েকটি দেশের।

তবে শিগগিরই মাঠের ফুটবলের প্রত্যাবর্তন দেখতে রাজি নন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৈশ্বিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রধানের মতে, দ্রুতই খেলা শুরু করে দেওয়াটা হবে 'দায়িত্বজ্ঞানহীনতা'। শতভাগ নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি না হলে খেলা বন্ধ রাখার পরামর্শ তার। আর খেলা বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটির জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুরু করে মার্চ থেকে। প্রথম দফায় এক-দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করলেও দফায় দফায় মেয়াদ বেড়ে এখন ৩০ এপ্রিলে ঠেকেছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মে মাসেও খেলা বন্ধ থাকার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যে কারণে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ২০১৯-২০ মৌসুমের খেলা শুরু করা নিয়ে। বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে দর্শকশূন্য গ্যালারিতেও খেলা চালানোর পক্ষে কেউ কেউ।

গত সপ্তাহে জার্মান ফুটবল লিগের প্রধান নির্বাহী ক্রিশ্চিয়ান সেইফার্ট বলেছেন, 'ক্লোজ ডোরে' খেলার সুযোগ দিলে তারা মে মাস থেকে খেলা চালাতে পারবেন। ইতোমধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ ও শালকের মতো ক্লাব সীমিত আকারে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে। একই অবস্থা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রথম শিকার হওয়া চীনেও।

ফেব্রুয়ারিতে শুরুর আগেই থেমে গিয়েছিল চায়নিজ লিগ। এখন দেশটির পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় অনুশীলন যেমন শুরু হয়েছে, তেমনি মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে খেলা শুরুর আশাও করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বন্ধ না হয়ে এখনও খেলা চালু আছে ইউরোপের বেলারুশসহ বুরুন্ডি, নিকারাগুয়া ও তাজিকিস্তানে। কিন্তু লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমার আগ পর্যন্ত কোনো ফুটবলই চান না ফিফাপ্রধান।

২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, 'আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি। একজন মানুষের জীবন ঝুঁকিতে থাকলেও কোনো ম্যাচ, কোনো টুর্নামেন্ট বা কোনো লিগ হতে পারে না। সব দিক থেকে শতভাগ নিরাপদ না হলে খেলা শুরু করে দেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। এ অবস্থায় আমাদের যদি আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়, আমরাই তা-ই করব। ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে দেরি করাই ভালো।'

খেলা বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলের যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, সেটির ব্যাপারে সদস্য দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন ইনফান্তিনো, ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার, 'অর্থবাজারে ফিফার সুনাম আছে। যা আমাদের একটি বড় ধরনের রিজার্ভ তৈরির ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। আমাদের রিজার্ভ কিন্তু ফিফার টাকা নয়, এটি ফুটবলেরই টাকা। সুতরাং, যখন ফুটবলের দরকার তখন আমরা সহায়তা করতেই পারি। এটা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যও। কারোই নিজেদের অসহায় ভাবার দরকার নেই। আর সবাই দেখবে টাকা কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে।'

আরও পড়ুন

×