খেলা দিয়েই জাগার চেষ্টা ইতালির
ছবি: ফাইল
--
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৩ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩১
ইউরোপিয়ান ফুটবলে আটালান্টার উত্থান এবার ইতালিয়ান ফুটবলের সেরা কাহিনী। কিন্তু কে জানত, আটালান্টার ম্যাচ জড়িয়ে যাবে আধুনিক বিশ্বে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারির সঙ্গে! চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে আটলান্টা-ভ্যালেন্সিয়ার ম্যাচটাকে ইতালিয়ান ডাক্তাররা বলছেন 'বায়োলজিক্যাল বম্ব'। ১৯ ফেব্রুয়ারি স্যানসিরোতে ম্যাচ দেখতে হাজির হয়েছিলেন হাজারে হাজারে মানুষ। সেখানে নাকি ৪৪ হাজার 'সংক্রমিত মানুষ' ছিলেন গ্যালারিতে- এমনটাই দাবি মিলানের লাগোয়া শহর বার্গামোর মেয়র গিওর্গি গোরির।
অবশ্য শুধু তিনি একা নন, অনেকেই বলছেন, মিলানের ওই ম্যাচের পরই উত্তর ইতালির সঙ্গে স্পেনেও ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯। বিশ্বের অন্যতম ফুটবল পাগল জাতি ইতালিয়ানরা। করোনার এই কঠিন সময়ে কেমন আছেন সে দেশের ফুটবলাররা? ইতালির ঐক্যের চিত্রটা তুলে ধরে বুফন থেকে শুরু করে বিদেশি রোনালদো পর্যন্ত সবাই পরেছেন ইতালির জাতীয় পতাকার রংয়ের মাস্ক। খোঁজ নিতে গিয়ে করোনা-বিধ্বস্ত ইতালির খেলোয়াড়দের নানা খবর মিলল। যা দেখে বোঝা যায়, কীভাবে আবার প্রবলভাবে ফেরার চেষ্টায় ইতালি, খেলাকে আঁকড়ে।
লিপ্পির আশা
কিছুদিন আগেও চীনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন মার্সেলো লিপ্পি। এখন ইতালির ভিয়ারেজ্জিওয় নিজ বাড়িতে লকডাউনে আছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। তার আশা, 'কিছুদিনের মধ্যে ইতালির ফুটবল মৌসুম শুরু করা উচিত। পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে না এলে দশর্কশূন্য গ্যলারিতেই বাকি মৌসুমটা শেষ করা উচিত।' চীন থেকে ফেরা এ কোচের মন্তব্য, 'চীন কিন্তু দারুণভাবে এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে আমাদের দেশে বড় চিন্তা হলো অর্থনীতি।' তার স্বপ্ন, 'কে বলতে পারে, আমরা আবার ২০০৬ বিশ্বকাপের মতো হয়তো পরের ইউরোতে চ্যাম্পিয়নও হতে পারি!'
দেল পিয়েরোর উদ্যোগ
করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী টিমমেটদের এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরো। নিজে ইতালির রেডক্রস সংস্থায় বড় অনুদান দিয়েছেন, সে সঙ্গে পুরোনো সতীর্থদেরও দান করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেছেন, 'করোনার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে। এ জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।'
বুফনের বাস্কেটবল
লকডাউনের এই সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। ছেলেদের সঙ্গে কখনও ব্যয়াম করছেন, কখনও বাস্কেটবল খেলছেন। বর্ষীয়ান এই গোলরক্ষক আরও এক বছর জুভেন্তাসে খেলবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু করোনা তার লক্ষ্য বদলে দিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী হবে সেটা এখন স্পষ্ট নয়।
মানচিনির দুঃখ
ট্রাকে করে সেনা সদস্যদের সারি সারি লাশের কফিন নিয়ে যেতে দেখে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ইতালির জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মানচিনি। বলেছিলেন, 'মনে হয়েছিল গোটা বিশ্ব যেন নরকে পরিণত হয়েছে।' ছেলেবেলার এক বন্ধুকে করোনাভাইরাসের কারণে হারিয়েছেন তিনি। তবে ইউরো পিছিয়ে যাওয়ায় খুশি হয়েছেন তিনি, 'ইউরো এক বছর পিছিয়ে যাওয়ায় সুবিধাই হবে আমাদের।'
ভিঞ্চির অদ্ভুত আবদার
মানুষকে ঘরে রাখতে অদ্ভুত এক আবেদন করেছেন সাবেক ইতালিয়ান টেনিস তারকা রবার্তো ভিঞ্চি। কমলা হাতে ডামি সার্ভিস করার পর বাবাকে ফোন করে কোচিং নেওয়ার অভিনয় করেন তিনি। ফোনোর অপর প্রান্ত থেকে তার বাবার পরামর্শ, 'শান্ত থাকো, হাল ছেড়ো না, নিয়ম মেনে চল।' ম্যাচ শেষে পুতুল বসিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে ভিঞ্চি বলেন, 'আমরা এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাবোই।'
ইনসিনিয়ের গান ও দান
করোনা আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় ১ লাখ ইউরো দান করেছেন ন্যাপোলো অধিনায়ক লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে। কঠিন এই সময়ে ভক্তদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
গাত্তুসোর দান
ক্লাবের অনেক কর্মী বেতন পাবেন না দেখে ন্যাপোলি কোচ জেনোরো গাত্তুসো এক মাসের বেতন দান করেছেন। ন্যাপোলির ডিরেক্টর অব স্পোর্টস জিউনতোলিও অনুসরণ করেছেন গাত্তুসোকে।
টেনিস দম্পতির খেলা
ইতালির টেনিস তারকা ফ্যাবিও ফগনিনি ও তার ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন স্ত্রী ফ্যাবিও পেনেত্তা লকডাউনের এই সময়টাতে বাড়ির উঠোনে বাচ্চাদের প্যারামবুলেটরকে নেট বানিয়ে টেনিস খেলছেন। সে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করেছেন। এই কঠিন সময়ে সবাইকে জাগিয়ে তুলতেই তাদের এ প্রয়াস।
