অপেশাদার লামিনে ইয়ামাল...
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২০
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মৌসুম শেষ হয়ে গেছে লামিনে ইয়ামালের। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার অবশিষ্ট ছয়টি ম্যাচে তাঁকে আর মাঠে দেখা যাবে না। তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অবশ্য আপাতত শঙ্কা নেই। ইয়ামাল যদি নির্ধারিত সময়ে ফিট হয়ে উঠতে না পারেন, তাহলে তো তাঁর বিশ্বকাপ খেলা শঙ্কায় পড়ে যাবে। আর চোট সারিয়ে মাঠে ফিরলেও বিশ্বকাপে ইয়ামাল কতটা ছন্দে থাকবেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য অনেকেই বার্সার দিকে আঙুল তুলছেন। ১৮ বছরের এ তরুণের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
লামিনে ইয়ামাল যেন সোনার ডিম পাড়া হাঁস! বিরামহীনভাবে বার্সেলোনা তাঁকে খেলিয়ে যাওয়ার কারণেই প্রসঙ্গটা উঠছে। চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে ছিলেন তিনি। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪৫ ম্যাচে তিনি খেলেছেন ৩৭০২ মিনিট। তাঁর ঠিক পরেই আছেন গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া। তিনি মাঠে ছিলেন ৪১ ম্যাচে ৩৬৮২ মিনিট। এই অতিরিক্ত খেলার চাপেই কী এই চোট?
১৮ বছরের একজনের ওপর এতটা চাপ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? ইয়ামাল বার্সেলোনার সেরা খেলোয়াড়। দলের সেরা খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকাটাই স্বাভাবিক। তাঁর বয়সটাও তো দেখতে হবে। পরিণত হওয়ার আগেই অতি ব্যবহার না আবার তাঁকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়! খেলোয়াড় যত বড় মাপেরই হোক না কেন, তাঁর যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে যারা তরুণ এবং এখনও শারীরিকভাবে বিকাশের মধ্যে আছেন। ইয়ামালের এ বিষয়টি নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছিল। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বার্সেলোনা এবং রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছিল।
এভাবে চোটে পড়ার পেছনে ইয়ামালের অপেশাদারিত্বকেও কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বুধবার রাতে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। এই চোটের দুই রাত আগে খেলাধুলার অস্কার হিসেবে খ্যাত ‘লরিস অ্যাওয়ার্ড’-এর উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পান তিনি। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে সেই পুরস্কার নিয়ে রোববার গভীর রাতে প্রাইভেট জেটে করে বার্সেলোনায় ফিরেন তিনি। বিমানের ভেতর ম্যাকডোনালসের এক গাদা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে সেই পুরস্কার উদযাপন করেন তিনি। ওই উদযাপনের একটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন ইয়ামাল।
সেই ছবি দেখে স্পেনের বিখ্যাত টিভি শো ‘ফুটবল টোটাল’-এর সঞ্চালক হুয়ান ফুরলানিচ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য যে পেনাল্টি শট নিতে গিয়ে ইয়ামাল নিজে নিজে চোটে পড়ে গেছেন। তবে মোদ্দাকথা হলো, একটি ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড় যদি এতোগুলো ফাস্টফুড ভক্ষণ করেন, সেটাও ভোরবেলা, তাহলে এর চেয়ে ভালো কী হবে? আমি বিশ্বাস করি, এই চোট মোটেই কাকতালীয় কিছু নয়। শরীরের প্রতি অযত্ন করলে এমন তো হবেই!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানে ভাগ্যের দোষ দেওয়াটা বোকামি। খেলার আগে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে, নিজের প্রতি যত্নশীল না হলে এবং ঝুঁকি নিলে এমনটা হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই ছবি (বিমানের ভেতর ফাস্টফুড খেয়ে উদযাপনের) তো কেউ চুরি করে তোলেনি। তিনি নিজেই দিয়েছেন।’ আগামী ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ইয়ামালের দেশ স্পেন।
- বিষয় :
- লামিন ইয়ামাল
