বিশ্বকাপ-পরবর্তী সংকটে ইনফান্তিনোর বিকল্প কে হতে পারেন?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৭ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:১৭
তুমুল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। তবে বিতর্ক থেমে গেলেও ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থামেনি। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে উয়েফাসহ কয়েকটি মহাদেশীয় সংস্থা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। এমনকি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথাও জানিয়েছে উয়েফা।
২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে যে পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে, তারা হলেন:

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি): ইনফান্তিনোর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নাম নাসের আল-খেলাইফি। কাতারি এই ক্রীড়া সংগঠক ২০১১ সাল থেকে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত সম্প্রচারমাধ্যম ‘বিইন মিডিয়া গ্রুপ’এর চেয়ারম্যান এবং ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর সংগঠন ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস’এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উয়েফার নির্বাহী কমিটি এবং ফিফা কাউন্সিলের সদস্য আল-খেলাইফির অধীনে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে টানা দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে পিএসজি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তার বিশেষ প্রভাবের কারণে তিনি শক্তিশালী এক বিকল্প হতে পারেন।

ভিক্টর মোন্তালিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি): উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মোন্তালিয়ানি দীর্ঘদিন ধরেই ফিফার অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা। ফিফার সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কনকাকাফের ৪১ সদস্য দেশের সমর্থন তার বড় শক্তি হতে পারে।

শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (এএফসি সভাপতি): এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ইতোমধ্যেই ফিফার সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। ফিফার সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই বাহরাইনি ক্রীড়া প্রশাসক আবারও সভাপতি পদে লড়তে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

আলেকসান্ডার সেফেরিন (উয়েফা সভাপতি): বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী উয়েফার সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন ফিফা প্রধানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর অন্যতম কড়া সমালোচক ছিলেন। তার নেতৃত্বেই উয়েফার ৫৫টি দেশ একযোগে ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় ফুটবলে তার প্রভাব তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম করে তুলেছে।

প্যাট্রিস মোটসেপে (ক্যাফ সভাপতি): এই দৌড়ের কিছুটা বাইরে থাকা হলেও ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধান প্যাট্রিস মোটসেপে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী ২০২১ সালে ক্যাফের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটির আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে আফ্রিকান ব্লকের বিপুল ভোট ভবিষ্যতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।