ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলোমেলো ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম

এলোমেলো ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৬

ফিফার নিষেধাজ্ঞায় ঘরোয়া ফুটবলে অনিশ্চিত বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। দলবদল চললেও দেশের দুই শীর্ষ ক্লাব নীরব। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় তারা। ক্লাবের অনিশ্চিত গন্তব্যের কারণে ঠিকানা বদল করছেন বসুন্ধরা ও আবাহনীর খেলোয়াড়রা। আগামী মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এ দুই ক্লাবের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা থাকায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশের ফুটবল। 

সংকট সমাধানে রোববার নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা ডেকে তিনটি ক্লাবকে প্রিমিয়ার লিগে উঠিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। গত মৌসুমে অবনমিত হওয়া আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবকে প্রিমিয়ার লিগে রেখে দিয়েছে বাফুফে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দল ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ফিফার বিধি অনুযায়ী যে কোনো দেশের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ক্লাবের সংখ্যা কমপক্ষে ১০ হতে হবে। যদি নিষেধাজ্ঞার কারণে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী অংশ নিতে না পারে, তাহলে পুরো লিগের প্রক্রিয়াই স্থবির হয়ে পড়বে। প্রশ্ন উঠবে বাংলাদেশের লিগ কাঠামো নিয়ে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিকল্প ব্যবস্থা করে নিয়েছে। যদি কিংস ও আবাহনী ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে পারে, তাহলে লিগে অংশ নিতে পারবে। সেই হিসাবে দলের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৩-তে। আর দুটি ক্লাব যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে না পারে, তাহলে ১১ দল নিয়ে হবে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ। তাতে লিগ হলেও মান নিয়ে উঠবে প্রশ্ন। কারণ, গত মৌসুমের শীর্ষ দুই ক্লাব না খেলা মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব একটা থাকবে না বাংলাদেশ ফুটবল লিগে।

ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলতে পারেনি বসুন্ধরা ও আবাহনী। তাদের জায়গায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ফুটবল ক্লাব খেলবে এএফসির এই প্রতিযোগিতায়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলবদলের সময়সীমা থাকলেও আজকের মধ্যে ক্লাব লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলোকে বাফুফে ফাস্ট ইনস্ট্যান্ট বডিতে (এফআইবি) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের আবেদন করতে হয়। কিন্তু ফিফা নিষেধাজ্ঞা ও ফুটবলারদের দেনা-পাওনা থাকলে ওই ক্লাব লাইসেন্সিং পায় না। 

বর্তমান ফিফার ১১টি নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আবাহনীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে দুটি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে তারা। কিন্তু আরেকটি অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে ক্লাব লাইসেন্স পাওয়ার সময়ও শেষ। তবে ক্লাবটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু আশাবাদী বাফুফে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য সময় বাড়াবে, ‘আমাদের তিনটি ফিফা নিষেধাজ্ঞা ছিল। দুটো এরই মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে, আরেকটি প্রক্রিয়াধীন। ৪ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন না হলে আমরা সময় চাইব। আশা করি, ফেডারেশন বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে।’

বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তা বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপু আশাবাদী তাদের দল লিগে খেলতে পারবে,‌ ‘আমাদের ক্লাবের মিটিং হয়েছে। সেখানে ৭-৮ আগস্ট খেলোয়াড়দের আসতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিবন্ধন করতে পারব, আশা করছি।’ 

বসুন্ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষে। কয়েক কোটি টাকা জরিমানা পরিশোধ করার পর ফিফা থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠতেও সময় লাগবে। এমন অবস্থায় নতুন মৌসুমের জন্য দল গোছাতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। উল্টো ক্লাব থেকে বেশ কয়েকজন ফুটবলার অন্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। আবাহনীর অবস্থাও একই। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারাও কোনো ফুটবলার নিবন্ধন করতে পারছে না। এর মধ্যে ২১ আগস্ট থেকে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। আর খেলোয়াড় নিবন্ধন শেষ করতে হবে ১৩ আগস্টের মধ্যে।

আরও পড়ুন

×