ইনফান্তিনোর শেষ ভরসা এখন ছোট দেশগুলো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৩৮ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৬
বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বড় দেশগুলো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তবে এই সংকটেও ইনফান্তিনোর সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে বিশ্ব ফুটবলের ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। যাদের অনেকেই ফিফার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইতোমধ্যে উয়েফা এবং কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছে। ওয়েলস প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
উয়েফা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে ফিফার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছে। এর মধ্যেই আগামী বছরের ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য সভাপতি পদে লড়তে চান ইনফান্তিনো। তবে নির্বাচনের আগেই তার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
ফিফার সংবিধান অনুযায়ী, ২১১ সদস্য দেশের অন্তত ২০ শতাংশ লিখিতভাবে দাবি জানালে বিশেষ কংগ্রেস আহ্বান করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সভা আয়োজন করতে হবে এবং সেখানে নতুন প্রার্থীদেরও সামনে আসার সুযোগ থাকবে। শুধু উয়েফার সদস্যই ৫৫টি দেশ। তারা সবাই একমত হলে বিশেষ কংগ্রেস ডাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন একাই নিশ্চিত করতে পারবে।
তবে বিশেষ কংগ্রেস হলেও ইনফান্তিনোকে সরানো সহজ হবে না। কারণ ফিফায় প্রতিটি সদস্য দেশের ভোটের মূল্য সমান। ফুটবল পরাশক্তি কিংবা ছোট দ্বীপরাষ্ট্র সবাই একটি করে ভোট দেয়। এ কারণেই ফ্রান্স, স্পেন বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সমর্থন ফিরে পাওয়ার চেয়ে ভুটান, ভানুয়াতু কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখাই ইনফান্তিনোর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এসব দেশের অনেকই কখনও বিশ্বকাপ খেলেনি। তাদের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বড় অংশই ফিফার উন্নয়ন তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৩-২০২৬ চক্রে ফিফা সদস্য দেশগুলোকে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার সুযোগ রেখেছে, যা আগের চক্রের তুলনায় ১০ লাখ ডলার বেশি। উন্নত ফুটবল দেশগুলোর কাছে এই অর্থ খুব বড় না হলেও ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইনফান্তিনোর আমলে এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশে ফিফার অর্থায়নে স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ মাঠ, জিমনেশিয়াম এবং বিভিন্ন ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ ভানুয়াতু। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৬০তম স্থানে থাকা, মাত্র সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যার দেশটির রাজধানী পোর্ট ভিলায় ফিফার ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদানে নির্মিত হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ আসনের একটি আধুনিক স্টেডিয়াম। একই সঙ্গে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ল্যামবার্ট মালটক বর্তমানে ফিফার আটজন সহ-সভাপতির একজন।
ভানুয়াতুর প্রথম পেশাদার ফুটবলার ব্রায়ান কালটাকের মতে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ছোট দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘তিনি শুধু আমাদের দেশের একজন প্রতিনিধিকে ফিফার নেতৃত্বে জায়গা করে দেননি, উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভানুয়াতুসহ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবলের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
- বিষয় :
- ফিফা
- ফিফা সভাপতি
- জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
- উয়েফা