তুরস্কের ক্লাবে সালাহকে ভালোবাসায় বরণ
মোহামেদ সালাহ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০৪
বিশ্বকাপে খেলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্লাব তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিল। জোরালো গুঞ্জন ছিল মেজর সকার লিগের ক্লাব স্পোর্টিং ক্যানসাস সিটিতেই যোগ দেবেন মোহামেদ সালাহ। সৌদি আরবের অনেক ক্লাবেরও অর্থের হাতছানি ছিল মিসরের ফারও-খ্যাত এই ফুটবলারের দিকে। কিন্তু মেসিদের লিগে নয়, রোনালদোদের সৌদি প্রো লিগেও নয়, শেষ পর্যন্ত তুরস্কের লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে। গতকাল বুধবারই প্রাইভেট জেটে চড়ে তিনি ইস্তাম্বুল পৌঁছান। সেখানে হাজার হাজার ভক্ত তাঁকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেন। বেশ কয়েকটি তুর্কি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই রাইট উইঙ্গার প্রতি বছর ১৭ মিলিয়ন ইউরো (২৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা প্রায়) আয় করবেন এবং তিনি দুই মৌসুমের একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছেন, যেখানে তৃতীয় আরেক মৌসুম চুক্তি বাড়ানোর সুযোগ বা অপশন থাকবে।
মিসরীয় ফুটবলতারকা মোহামেদ সালাহ দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলে নিজের রাজত্ব চালানোর পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অ্যানফিল্ড ছেড়েছেন। চেলসির হয়ে ইংলিশ ফুটবলে তাঁর প্রথম অধ্যায়টি সফল না হলেও, ২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর তিনি এক অপ্রতিরোধ্য মহাতারকায় রূপান্তরিত হন। অলরেডদের হয়ে খেলা ৩৫০টিরও বেশি ম্যাচে তিনি ২১১টির বেশি গোল এবং প্রায় ১০০টি অ্যাসিস্ট করে ক্লাবের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেন। তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করেই লিভারপুল দীর্ঘ ৩০ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২০ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ২০১৯ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের গৌরব অর্জন করে। তবে চেলসি, রোমা ও ফিওরেন্টিনার সাবেক এই তারকা সর্বশেষ ক্লাব মৌসুমে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। টানা তিন ম্যাচ একাদশের বাইরে থাকার পর তিনি ক্লাবের সমালোচনা করে বলেন, তাঁকে ‘বাসের নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে’। লিভারপুলের সাবেক কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালাহ এবং জানুয়ারির দলবদলের আগেই ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। পরে এক পর্যায়ে তাঁকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইন্টার মিলানের বিপক্ষের ম্যাচের দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শেষে তিনি আবার দলে ফেরেন, তবুও আগের মতো দুর্দান্ত ফর্মে ফিরতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের পাট চুকিয়ে সালাহ নিজেও চাইছিলেন তুরস্কে ঠিকানা গাড়তে। সেখানে তুরস্কের সফল ক্লাব বেসিকতাস নিতে চেয়েছিল সালাহকে। কথাও এগিয়েছিল অনেক দূর। শেষ পর্যন্ত তাদের টেক্কা দিয়েছে ত্রাবজোনস্পোর।
তুরস্কের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী পেশাদার ফুটবল ক্লাব এই ত্রাবজোনস্পোর কুলুব । ১৯৬৭ সালে তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কৃষ্ণ সাগর উপকূলের ত্রাবজোন শহরের কয়েকটি স্থানীয় ক্লাবের একীভূতকরণের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী জার্সি ও লোগোর রং নীল এবং মেরুন, আর মাঠের আগ্রাসী ফুটবলের জন্য ফুটবল বিশ্বে তারা ‘ব্ল্যাক সি স্টর্ম’ (কৃষ্ণ সাগরের ঝড়) নামে পরিচিত। তুরস্কের ঘরোয়া ফুটবলে ইস্তাম্বুলভিত্তিক তিন পরাশক্তি–গালাতাসারাই, ফেনেরবাখ এবং বেসিকতাসের একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে ত্রাবজোনস্পোরই প্রথম ইস্তাম্বুলের বাইরের কোনো ক্লাব হিসেবে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ে। ক্লাবটি এ পর্যন্ত সাতবার তুর্কি সুপার লিগ, ১০ বার তুর্কি কাপ এবং ১০ বার তুর্কি সুপার কাপ জয় করেছে। তাদের নিজেদের ঘরের মাঠ হলো ৪১,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক পাপারা পার্ক স্টেডিয়াম। ক্লাব কর্তৃপক্ষের আশা, সালাহর আগমন কেবল তাদের আক্রমণভাগকেই শক্তিশালী করবে না, বরং আসন্ন উয়েফা ইউরোপা লিগ এবং তুর্কি সুপার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে সালাহর যে বিশাল ভক্তকুল রয়েছে, তা ত্রাবজোনস্পোরের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বাণিজ্যিক প্রচারণাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।