ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শান্ত-লিটনের পর মুশফিকও ফিরলেন, হঠাৎ ধাক্কা বাংলাদেশের

শান্ত-লিটনের পর মুশফিকও ফিরলেন, হঠাৎ ধাক্কা বাংলাদেশের
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০:০২ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৫

তিনশ রানের পর হঠাৎ ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। শান্তর বিদায়ের পর লিটন দাস এবং মুশফিকুর রহিমও দ্রুত ফিরে গেছেন। ফলে টানা তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারীরা।

দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পর জস হ্যাজলউডের সুইংয়ে ১২৬ বলে ৮৪ রান করে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া বলে ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে যায় বল। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন স্টিভ স্মিথ। শান্তর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। তার বিদায়ে ২৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিক। ৮৩তম ওভারের প্রথম বলে তিন রান নিয়ে বাংলাদেশকে তিনশ রানের মাইলফলক পার করান তিনি। তবে জুটি বেশিদূর এগোয়নি। মিচেল স্টার্কের ১৪৩ কিলোমিটার গতির বল শরীর থেকে দূরে ছিল লিটনের। সেটি ড্রাইভ করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১২ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন। ৩০৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর প্যাট কামিন্সের বলে ফিরে যান মুশফিকও। পঞ্চম স্টাম্প বরাবর আউট সুইং করা বলটি খেলবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ৮৮ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রানে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা এগিয়ে আছেন ১১৮ রানে। ক্রিজে আছেন মিরাজ ও হাসান মাহমুদ।

ডারউইনে বাংলাদেশের দাপট, এবার সেঞ্চুরির অপেক্ষায় শান্ত

তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ের পরও অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা। এই সেশনে ২৭ ওভারে ১০৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ, হারিয়েছে শুধু তানজিদের উইকেট।

চা-বিরতিতে ৭৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮৬ রান বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৮৮ রানে।

তানজিদ সেঞ্চুরি করে ফেরার পর শান্তর সঙ্গে জুটি গড়েছেন মুশফিক। দুজন মিলে ইতোমধ্যে ৭৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেছেন। ১১৪ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত শান্ত এখন ছুটছেন ক্যারিয়ারের আরেকটি টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। তার সঙ্গে ৩৫ বলে ২৬ রানে ব্যাট করছেন মুশফিক।

ছবি- এএফপি

এর আগে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফিরেছেন তানজিদ। নাথান লায়নের বলে লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ঐতিহাসিক ইনিংস। তানজিদের বিদায়ের পরও রানের গতি কমতে দেননি শান্ত ও মুশফিক।

ডারউইন টেস্টে এ নিয়ে টানা পাঁচটি সেশন নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। প্রথম দিনের তিন সেশনের পর দ্বিতীয় দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনেও দাপট দেখিয়েছে সফরকারীরা। ফলে নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়াই এখন বড় চাপে।

সেঞ্চুরি করেই ফিরলেন তানজিদ

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না তানজিদ হাসান তামিম। নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫৭ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙেন লায়ন। ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে আটটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়েই ফিরলেন তিনি।

দলীয় ২৩১ রানে তানজিদের বিদায়ে ক্রিজে এসেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ৬৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৩ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের চেয়ে ৪৫ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ছবি - এএফপি

তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, শান্তর ফিফটি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শতরান করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটারও হলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ১৮৮ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ রেখে ব্যাট করা এই ওপেনার নিজের ইনিংসকে নিয়ে গেলেন অনন্য এক মাইলফলকে।

একই সময়ে ফিফটি পূর্ণ করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭৪ বলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তিনি। টেস্টে এটি শান্তর সপ্তম অর্ধশতক। অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেললেন নবমবার। তানজিদ ও শান্তর ব্যাটে এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও বড় লিডের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

তানজিদের ব্যাটে লিড, দুইশ’ পেরিয়ে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের করা ৫৫তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রান পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।

লিড নেওয়ার পথে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। লাঞ্চের পরও দারুণ আগ্রাসী ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। স্টার্ককে চার মেরে বাংলাদেশকে দুইশ রানের মাইলফলকও পার করান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা ৬০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রানে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তানজিদ ৯৪ রান করে সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন, আর তার সঙ্গে ৪৫ রানে আছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের লিড এসেছিল ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার ৪২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ২৬৯ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ।

প্রথম সেশনও বাংলাদেশের

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার সময় ৫১ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে তখন মাত্র ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

সকালের সেশনে ২৭ ওভারে ৮৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ, হারিয়েছে একটি উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিমের ১০২ রানের জুটি বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। তবে ৪৯ রানে থেমে যায় মুমিনুলের ইনিংস।

জশ হ্যাজলউডের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ৯৫ বলের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি ছিল তাঁর। এরপর তানজিদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের সময় তানজিদ ৭৪ এবং শান্ত ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি থেকে আসে ৪৩ রান।

তানজিদ পুরো সেশনজুড়েই ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা তার ছক্কাটি ছিল দুর্দান্ত। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম ফিফটি পাওয়া তানজিদ এখন ছুটছেন প্রথম সেঞ্চুরির দিকে।

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল ব্যাটিং। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় হার সেই শঙ্কা আরও বাড়িয়েছিল। তবে মূল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

এর আগে প্রথম দিনে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বুক চিরে যেন একরাশ হাহাকার নামিয়ে এনেছে শান্তর দল। রেকর্ড বলছে, এই প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশর নিচে অলআউট করে দিয়েছেন হাসান-তাসকিনরা। এবং রাওয়ালপিন্ডির পর এই ডারউইনে ফের এক ইনিংসে ১০ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। 

তবে প্রথম দিনটি নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশি পেসারদের কথামতো সবকিছু হয়েছে। এদিন হাসানদের সফলতার মূল চাবিকাঠি ছিল অতিরিক্ত গতি নয়; বরং কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও বুদ্ধিদীপ্ত সুইংয়ের মিশ্রণ। হাসান মাহমুদ মূলত ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার গতিতে বল ধরে রেখেছিলেন। সঠিক জায়গায় বল ফেলার ধৈর্য এবং সিম মুভমেন্ট দিয়ে বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। তাসকিন ও হাসান মাহমুদ শুরু থেকেই শর্ট-অফ-লেন্থে বোলিং করে গেছেন। অফ-স্টাম্পের ঠিক বাইরে অনবরত একই জায়গায় বল পড়ার কারণে অসি ওপেনাররা হাত খোলার সুযোগ পাননি এবং লাইন মিস করতে বাধ্য হন। 

তবে প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছিলেন এদিন পেসার এবাদত হোসেন। চোট কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবাদত হোসেনের লাল বলের ক্রিকেটে ফিরে আসাটা ছিল এককথায় দুর্দান্ত। হাসান-তাসকিনের তৈরি করা চাপকে ধরে রেখে ডারউইনের পিচে নিজের চেনা ছন্দে বল করেছেন এই ডানহাতি পেসার। উইকেট থেকে পাওয়া অতিরিক্ত বাউন্স এবং নিখুঁত সিম পজিশনকে কাজে লাগিয়ে অসি ব্যাটারদের সব সময় অস্বস্তিতে রেখেছেন তিনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই পেসত্রয়ী দেখিয়ে দিয়েছেন, তারাও পারেন প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিতে।

হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েছেন স্টিভেন স্মিথ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি আর কেউ। স্মিথ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানও করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে তাদের প্রথম ইনিংস।

আরও পড়ুন

×