ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডারউইনে হাসানের ‘বিবর্তন’

ডারউইনে হাসানের ‘বিবর্তন’
×

ছবি- এএফপি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩১

ইনিংসের মাঝেই ট্রাভিস হেড তাঁকে বলছিলেন, ‘ভালো বোলিং।’ নাথান লায়নও জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার কয়টা পাঁচ উইকেট আছে?’ ডারউইনে হাসান মাহমুদের বোলিং দেখে যে অসিরা চমকে গিয়েছিল, দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তা নিজেই জানিয়েছেন হাসান মাহমুদ। নাহিদ রানার মতো হয়তো ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে ধারাবাহিক বল করতে পারেন না, তবে কন্ডিশন বুঝে সুইংটা আদায় করার একটা দক্ষতা তিনি রপ্ত করে নিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। 

মাত্র ১৫ টেস্টের ক্যারিয়ারেই তিনবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন তিন ইনিংসে, যার তিনটিই আবার প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে, ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাঠ ডারউইনে। চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ বলে– প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে যে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে পারবে, সেই ‘যোগ্যতম’ হিসেবে টিকে থাকবে; যাকে আমরা চিনি ‘সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’ নামে। 

ক্রিকেটীয় বিবর্তনের এই চিরন্তন সত্যটিই এবার প্রমাণ করলেন হাসান মাহমুদ। প্রস্তুতি ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার করেই জানান দিয়েছিলেন– তিনি তৈরি। এবার ৬ উইকেট নিয়ে নিজেই বললেন সবকিছু হয়েছে পরিকল্পনামাফিক, ‘সকালে উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা ছিল, নরম ছিল এবং বলের মুভমেন্ট হচ্ছিল। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম যে সুশৃঙ্খল বোলিং করব এবং জুটি বেঁধে বোলিং করব। সেটাই হয়েছে।’

তাঁর এই সুশৃঙ্খল এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের রহস্যটা কী? ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে খেলার অভিজ্ঞতাটা কি কাজে লেগেছে? দিন শেষে গিলক্রিস্ট এসে জানতে চেয়েছিলেন তাঁর কাছে। উত্তরে হাসান মাহমুদ, ‘ইংল্যান্ডে খেলা আমার জন্য সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল এবং আমি আশা করি, কেন্টের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারব।’ 

গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফরের আগে তিনি কেন্টের হয়ে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মোট ১২টি উইকেট শিকার করেন। কনুইয়ের চোটের কারণে এ বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ মিস করেছিলেন হাসান। সুস্থ হয়ে ক্রিকেটে ফেরার জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন এই গতি তারকা। পরে স্ত্রীর সঙ্গে যখন ইংল্যান্ডে যান, তখন কেন্ট কাউন্টি ক্লাবের কোচ অ্যাডাম হলিউকের তত্ত্বাবধানে ক্যান্টারবারির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে ট্রায়াল দেন হাসান। সেখানে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করার পর ইংল্যান্ডে খেলার জন্য স্পোর্টস ভিসা পান তিনি। এ ছাড়া সম্প্রতি লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগেও কিছুটা সময় খেলেছেন তিনি। 

মজার ব্যাপার হলো, কেন্ট কাউন্টি ও লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ– এ দুটি চুক্তিই একই দিনে তাঁর হাতে এসে ধরা দিয়েছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর কেন্টের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। টি২০ ব্লাস্টেও দারুণ পারফর্ম করা হাসান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজ শেষেই আরও চারটি ম্যাচ খেলতে আবারও কাউন্টিতে ফিরে যাবেন। কাউন্টি খেলে যে অনেক কিছু শিখেছেন, সেটি এদিন সংবাদ সম্মেলনে এসেও জানান হাসান। 

‘কাউন্টি ক্রিকেটে বোলিং করে আমি প্রচুর আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। আমাকে শিখতে হয়েছে যে এই ধরনের কন্ডিশনে কোন লেন্থে বোলিং করতে হয়, যার সঙ্গে আমি ডারউইনের কন্ডিশনের বেশ মিল পাচ্ছি। আমার মনে হয়, অনুশীলনে নতুন ও পুরোনো– উভয় বলেই প্রচুর বোলিং করাটাও আমাকে এই কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে দারুণ সাহায্য করেছে।’ নিজের বিবর্তনের কথা এভাবেই খুলে বলেন হাসান মাহমুদ।

আরও পড়ুন

×