ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাকার হাতে কেন ‘সক্রেটিস’ অ্যাওয়ার্ড?

সাকার হাতে কেন ‘সক্রেটিস’ অ্যাওয়ার্ড?
×
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৭ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৭

ব্যালন ডি’অর মানেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, গোল আর শিরোপার স্বীকৃতি। তবে এই আয়োজনে এমন একটি পুরস্কারও দেওয়া হয়, যার মাপকাঠি মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মানবিক অবদান। সেই সম্মাননা ‘সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড’। এবার অভাবী শিশুদের চিকিৎসায় সহায়তার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি উঠেছে ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকার হাতে।

সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় ব্যালন ডি’অরের জমকালো আয়োজন। ব্যক্তিগত ও দলীয় বিভিন্ন পুরস্কারের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ডও। ফুটবলের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা ব্যক্তিদের কাজের স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার চালু করা হয়।

২০২২ সালে প্রথমবার দেওয়া হয় সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড। ফ্রান্স ফুটবল ও পিস অ্যান্ড স্পোর্টের যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত এই সম্মাননার নামকরণ করা হয়েছে ব্রাজিলের প্রয়াত কিংবদন্তি ফুটবলার সক্রেটিসের নামে। আশির দশকে ব্রাজিলে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ‘করিন্থিয়ান্স ডেমোক্রেসি’ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ফুটবলের বাইরেও গণতন্ত্র ও সামাজিক অধিকার নিয়ে তার ভূমিকা তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছিল। ২০২২ সালে প্রথম এই পুরস্কার জেতেন সাদিও মানে।

এবার সাকার হাতে পুরস্কার ওঠার পেছনে রয়েছে শিশুদের চিকিৎসায় তার সহায়তা। জার্মানির দাতব্য সংস্থা বিগশুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইজেরিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে অসচ্ছল শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থায়ন করেছেন আর্সেনাল তারকা। তার এই উদ্যোগে হার্নিয়া, মস্তিষ্কের টিউমারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১২০ শিশুর অস্ত্রোপচারে সহায়তা মিলেছে।

পুরস্কার গ্রহণের সময় সাকা শোনান রুয়ান্ডার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গল্প। বিরিঙ্গিরো নামের ওই কিশোর দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেছিল ১২ বছর বয়সে। বিদ্যুৎবিহীন গ্রামে বসবাস করায় তার দৈনন্দিন জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। চোখের সমস্যা বাড়তে থাকায় বাড়িতে চলাফেরা, স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা পড়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, সবকিছুতেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে।

সাকার হাতে থাকা চিরকুটে কিশোরটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। সেখানে বিরিঙ্গিরো লিখেছে, ‘আমার বয়স যখন ১২ বছর, তখন দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করি। আমার গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। দৃষ্টিশক্তি যত খারাপ হতে লাগল, বাড়ির ভেতর চলাফেরা করাও আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। স্কুলে শিক্ষকরা ব্ল্যাকবোর্ডে যা লিখতেন, তা পড়তে পারতাম না। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে আমার খুব কষ্ট হতো। কেবল অন্যসব শিশুর মতোই স্বাধীনভাবে খেলতে চেয়েছিলাম।’

বিগশুর সহায়তায় প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা পাওয়ার পর বদলে যায় বিরিঙ্গিরোর জীবন। এখন সে শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসেও ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবে শৈশব উপভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সে।

চিরকুটে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে বিরিঙ্গিরো লিখেছে, ‘এরপর, বিগশু-এর সহায়তায় প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা পেলাম। আজ ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা পড়তে পারি, ক্লাসরুমের একদম শেষ বেঞ্চে বসেও! সবচেয়ে বড় কথা, এখন আর আমাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। আবার শৈশবকে উপভোগ করতে পারছি। অনেকদিন পর, আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। বড় হয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হতে চাই।’

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×