ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাড়ি পৌঁছাবে গন্তব্যে থাকবে না চালক

গাড়ি পৌঁছাবে গন্তব্যে থাকবে না চালক
×

মুস্তাফা তৌহিদ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:০১

সারাবিশ্বে যে বিষয় ছাড়া কোনো কথাই নেই, তা হলো এআই। সংক্ষেপে এই শব্দের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া বেশ দুরূহ। চারদিকে সবকিছুই দখল করছে কৃত্রিম মেধা। বিশ্বের যে কোনো নিউজ সাইটে গেলে প্রথমেই আসে এআই কী করছে, তা নিয়ে শিরোনাম।

গুগলে সার্চ করলে উত্তর জানায় এআই। মেটার চ্যাটবট এখন হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে জুড়ে গেছে। চাইলেও বহুল আলোচিত এ দুই সামাজিক মাধ্যম থেকে এআইকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেন না। ব্রাউজার ডটকম ও ওপেনএআইর মতো ব্রাউজার পুরোপুরি এআই পরিচালিত।

কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের উদ্ভাবক মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজে যোগ করেছে কো-পাইলটের মতো কৃত্রিম মেধার সহযোগী (এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট)। অন্যদিকে, আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তার এআই মোডের বহুমাত্রিক সম্প্রসারণে নেমেছে। জিমেইল এখন ইমেইলের সারসংক্ষেপ আর সদুত্তরে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। ফায়ারফক্সের নির্মাতা মজিলাও বসে নেই। কৃত্রিম মেধার দৌড়ে সেও গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সব মিলিয়ে তাই বলে দেওয়াই যায়, আমাদের সবখানে সব প্রয়োজনে সার্চ এখন অনেকাংশে কৃত্রিম মেধানির্ভর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বদৌলতে অভূতপূর্ব ছবি তৈরি বা যা খুশি তাই লিখিয়ে নেওয়ার স্বাধীনতা অনেকেই উপভোগ করছেন। এর অপশনও রয়েছে বহুমাত্রিক। সাইবার বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎকে ইঙ্গিত করে বলছেন, যেভাবে এআই প্রযুক্তির আগ্রাসন বেড়েছে, তাতে এআই নিঃসন্দেহে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে। এ নিয়ে সংশয়ের তেমন কোনো অবকাশ নেই।

ক্যাবচালক রোবট

হয়তো অনেকেই এই পরিষেবা এখনও বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে মানবিক সহায়তা ছাড়া রোবট নিজেই অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। কিন্তু এ ঘটনা এখন সত্যি আর বাস্তবও।

অ্যাপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাব চলছে স্বনিয়ন্ত্রিত (অটোমেটিক) পদ্ধতিতে। এতে কোনো ড্রাইভার নেই। অ্যাপে সেই ক্যাব বুক হচ্ছে। সেই চালকহীন ক্যাব যাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছে নির্ধারিত জায়গায়। অলীক কোনো গল্প নয়, বাস্তবেই এমনই ক্যাব পরিচালনা করছে ওয়েমোস নামে সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে দৌড়ে বেড়াচ্ছে এই সংস্থার ক্যাব। পথে পথে দৃশ্যমান এই রোবো ক্যাব সবাইকে যেন বিস্ময়ে ডুবিয়েছে।

শুধু সানফ্রান্সিসকোতে নয়; টেক্সাস, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা শহরজুড়ে চলছে এই অ্যাপ ক্যাব। গত বছর শুধু সানফ্রান্সিসকোতেই দুই হাজার ৫০০টি এ রকমের ক্যাব মাঠে নামিয়েছে ওয়েমোস। কিছুদিন আগে পাওয়ার আউটেজ হওয়ায় সানফ্রান্সিসকোতে এই রোবো ক্যাব পরিষেবা দারুণভাবে ব্যাহত হয়। পরিষেবাটি এতে বিঘ্ন হয়। সাধারণভাবে তখনই প্রশ্ন তৈরি হয়, যতটা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে এই রোবো ক্যাব নামানো হলো, তা পাওয়ার আউটেজের সময়ে বিকল হয়ে পড়ল।

নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হলো, তাহলে জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করবে এই পরিষেবা ব্যবস্থা? তারই সদুত্তর তৈরি করছে এই সংস্থা। কিন্তু কী পদ্ধতিতে এমন পরিস্থিতিতে পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে এই সংস্থা।

যদিও এমন বৈরী সমালোচনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি সংস্থার ওপর। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, পরিষেবা বিঘ্নের এমন ঘটনা তাদের জন্য যাত্রীসেবা মানোন্নয়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ

করবে তাদের এই রোবো পরিচালিত ক্যাব, এ ঘটনা থেকে তারা শিক্ষা নিয়ে তার রূপরেখা তৈরি করছে। ওয়েমোসের পথ ধরে অ্যামাজনও এমন স্বনিয়ন্ত্রিত অ্যাপ পরিচালিত ট্যাক্সিক্যাব পরিষেবা তৈরিতে বিনিয়োগ করেছে। ইতোমধ্যে সানফ্রান্সিসকো শহরে পরীক্ষামূলক যাত্রীসেবা দিতে শুরু করেছে অ্যামাজন। অন্যদিকে, আগামী বছর উবার এ ধরনের ক্যাব পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন

×