সাইবার হুমকির চ্যালেঞ্জ ক্রমবর্ধমান ব্যাপ্তি
পিটার কিজেওস্কি, সিইও, দ্য শ্যাডোসার্ভার
টেকলাইফ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১২
বিশ্বের অন্যতম অলাভজনক সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সংস্থা দ্য শ্যাডোসার্ভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার কিজেওস্কি ঢাকার ফিনিক্স সামিট সফরে এসে দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। সাইবার ঝুঁকির বৈশ্বিক ক্রমবিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবস্থান ও ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স নিশ্চিত করতে কেন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা নির্ভরযোগ্য সমাধান– এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন তিনি।
গত পাঁচ বছরে সাইবার থ্রেটের পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধের চিত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে গত পাঁচ বছরে। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক দ্রুত নতুন ভালনারেবিলিটি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে। পরিতাপের বিষয় হলো, সেসব সাইবার অপরাধী ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে শুরু করছে। ফলে এ সময়ে সাইবার হুমকির বিস্তার ও তীব্রতা আগের তুলনায় বহু গুণ বেড়েছে।
বর্তমানে রেসিডেনসিয়াল প্রক্সি নেটওয়ার্কের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মূলত সাধারণ ডিভাইসকে সাইবার হামলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সমস্যা বেশির ভাগ সময় সাপ্লাই চেইনে হানা দেওয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ফলে কোনো ডিভাইস ব্যবহারকারীর হাতে পৌঁছানোর আগেই ম্যালওয়্যার দিয়ে
প্রি-ইনফেক্টেড বা সংক্রমিত করে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় স্বল্পমূল্যে প্রিমিয়াম টেলিভিশন পরিষেবার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের এমন কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে উৎসাহিত করা হয়, যা পরে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার হিসেবে শনাক্ত হয়।
সামগ্রিকভাবে রেসিডেনসিয়াল প্রক্সির এই অপব্যবহার এখন সারাবিশ্বে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পুরো সাইবার হামলার প্রক্রিয়াকে সংক্রামক ও স্বয়ংক্রিয় করে তুলেছে। কারণ, এর মাধ্যমে যে কোনো আক্রমণ অটোমেশনের সহায়তায় পরিচালনা করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
আগামীতে সরকার ও কিছু সংস্থার জন্য সবচেয়ে বড় সাইবার নিরাপত্তা হুমকি কী হতে পারে?
আগামী পাঁচ বছরে সরকার ও সুনির্দিষ্ট কিছু সংস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে চলেছে উন্মুক্ত বা এক্সপোজড ডিজিটাল অ্যাসেটের রিমোট কোড এক্সিকিউশন ভালনারেবিলিটি। নির্দিষ্ট এই প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বে সাইবার আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কিছু পরিষেবা ও অ্যাপ্লিকেশনকে সাইবার অপচক্র প্রতিনিয়ত রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, যার মূল উদ্দেশ্য এমন কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করা, যা এখনও কেউ শনাক্ত করতে পারেনি। এটি মূলত জিরো-ডে হিসেবে পরিচিত। শনাক্ত ত্রুটি ব্যবহার করে বাইরে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালানো হয়। এ ধরনের পেরিমিটার এক্সপোজার মোকাবিলা করা বর্তমান সময়ে সরকার ও জরুরি তথ্য অবকাঠামো পরিচালকদের জন্য জরুরি ও জটিল চ্যালেঞ্জ।
এআই কি সাইবার আক্রমণকে শক্তিশালী করেছে? কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
সাইবার আক্রমণ আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়ার পেছনের কারণ এআই। অন্তত এখন পর্যন্ত এমন কোনো বড় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এআই শুধু সাধারণ ও প্রচলিত সাইবার হামলা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে দিয়েছে, যা এআই আসার আগেও হতো। এআইর মাধ্যমে এসব আক্রমণ এখন সহজে, দ্রুত ও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তাই বর্তমানে হামলার পরিসীমা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় নয়; বরং সাধারণ সাইবার হামলাকে নজিরবিহীন মাত্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার সক্ষমতাই এখন সবচেয়ে বড় হুমকি।
ফাউন্ডেশন কী উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে?
শ্যাডোসার্ভারের প্রধান লক্ষ্য হলো সবার জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করা। এ লক্ষ্যে আমরা সারাবিশ্বে সাইবার হুমকি, গুরুতর ভালনারেবিলিটি ও চলমান সাইবার আক্রমণবিষয়ক তথ্য বড় পরিসরে সংগ্রহ করে সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সংস্থা ছাড়াও বিশ্বের কয়েকটি দেশের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্টদের কাছে দায়িত্বশীলভাবে পৌঁছে দিই। এতে তারা সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। বৈশ্বিক পর্যায়ে আমরা মূলত ডেটা পাইপলাইন হিসেবে কাজ করি। আমরা এই পুরো সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি, যা আমাদের কার্যক্রমের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
- বিষয় :
- সাইবার নিরাপত্তা