দেশে ফাইভজি প্রযুক্তি চালুর জন্য বেতার তরঙ্গ নিলামের ঘোষণা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২ | ২১:১৮ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২২ | ০৭:৪৫
দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি প্রযুক্তি চালুর জন্য বেতার তরঙ্গ নিলামের ঘোষণা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এ নিলাম সম্পর্কিত নির্দেশনা বিটিআরসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ ফাইভজির জন্য বেতার তরঙ্গের নিলাম হবে। প্রতি মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের জন্য ভিত্তিমূল্য ধার্য হয়েছে ৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫১ কোটি টাকা। নিলামের ক্ষেত্রে প্রতি দশ মেগাহার্টজ হিসেবে একটি ব্লক নির্ধারণ করা হয়েছ। অর্থাৎ অপারেটরদের কমপক্ষে ১০ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ কিনতে হবে। আর ২৩০০ ও ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে মোট ১৮০ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ নিলামের জন্য রাখা হয়েছে। এ হিসাবে তিনটি বেসরকারি অপারেটরের প্রত্যেকে ৬০ মেগাহাটর্জ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
নিলাম সম্পর্কে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার সমকালকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফাইভজির বেতার তরঙ্গ নিলামের মূল্য পর্যালোচনা করে তার চেয়ে কম ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালে বেতার তরঙ্গ নিলামের ক্ষেত্রে বিটিআরসি ৩১ মিলিয়ন ডলার ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করেছিল, যেটা অপারেটররা দর কষাকষির প্রতিযোগিতায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে গিয়েছিল। সে বিবেচনাতেও ফাইভজির জন্য বেতার তরঙ্গ নিলামের ভিত্তিমূল্য একেবারেই কম ধরা হয়েছে। এ ছাড়া অপারেটরদের বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ নেওয়ার পর ফাইভজি চালুর জন্য ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এটাও পর্যাপ্ত সময়। নিলামের এক মাসের মধ্যে ফাইভজি লাইসেন্স গাইডলাইন দেওয়া হবে, যেখানে 'প্রযুক্তি নিরপেক্ষ' নীতি অর্থাৎ একই বেতার তরঙ্গ দিয়ে ফোরজি এবং ফাইভজি সেবা দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হবে। এর ফলে এই বেতার তরঙ্গ নিলামের পর ফাইভজি সেবা চালুর পাশাপাশি অপারেটরদের সামনে ফোরজি সেবার গুণগত মান বাড়ানোর বড় সুযোগ থাকবে।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, ফাইভজি শুধু একটি মাত্র প্রযুক্তি নয়, এটা আসলে পুরো এক ইকোসিস্টেম। এজন্য নীতি ও কারিগরিগত সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। এছাড়া গ্রাহকের প্রস্তুতি কতটা তা জানা জরুরি। ফাইভজি গাইডলাইন নিয়ে বিটিআরসির সাথে আলোচনা চলছে। বেতার তরঙ্গের দাম যত বেশি হয়, মানসম্মত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তা তত বড় বাধা হয়। নিলামের আগে এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য খুব স্বল্প সময় রাখা হয়েছে। এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপারেটরদের আরও সময় প্রয়োজন।
বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ২৩০০ এবং ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে মোট ১৮০ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের নিলাম হবে ৩১ মার্চ। ১৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রতি ব্লক ১০ মেগাহার্টজ হিসেবে মোট ১৮টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ২৩০০ মেগাহার্টজে ৬টি ব্লক এবং ২৬০০ মেগাহার্টজে ১২টি ব্লক রাখা হয়েছে। এর আগে অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরেই ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্লক তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিলামের মধ্য দিয়ে সে দাবিও পূরণ হচ্ছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নিলামের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ব্যান্ডের জন্য 'বিড আর্নেস্ট মানি' বা এককালীন জামানত রাখতে হবে ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, কোনো অপারেটর দুটি ব্যান্ডে নিলামে অংশ নিতে চাইলে জামানত দিতে হবে ২০ কোটি টাকা। বেতার তরঙ্গের মোট ক্রয়মূল্যের ১০ শতাংশ নিলামের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৯০ শতাংশ ৯ বছরে সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।
নিলামের সময়সূচি অনুযায়ী, মোবাইল ফোন অপারেটরদের নিলাম সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন বা পর্যবেক্ষণ থাকলে তা আগামী ৮ মার্চের মধ্যে বিটিআরসিকে জানাতে হবে। নিলাম বিষয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে বিটিআরসির প্রস্তুতি বৈঠক হবে ১০ মার্চ। নিলামে অংশ নিতে আবেদন জমা দিতে হবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে। যোগ্য অংশগ্রহণকারীর তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ মার্চ। ২৩ মার্চের মধ্যে জামানতের ১০ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। নিলামে মূলত তিনটি বেসরকারি অপারেটরই অংশ নেবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটককে এর আগেই ৩৫০০ ব্যান্ডে ৬০ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, তরঙ্গ নিলামের নীতিমালা হাতে পেয়েছি। কিন্তু এখনও ফাইভজি লাইসেন্স গাইডলাইন পাইনি। ফাইভজি নীতিমালা না দেখে এবং যথাযথ বিচার-বিশ্নেষণ না করে এত কম সময়ের মধ্যে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে যাওয়া কঠিন।
গ্রামীণফোনের ভারপ্রাপ্ত চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হোসেন সাদাত বলেন, নিলামের নির্দেশনা পর্যালোচনা করছে গ্রামীণফোন। তবে এ বিষয়ে তাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যেতে চায় গ্রামীণফোন।
বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অফিসার আংকিত সুরেকা বলেন, নিলামের জন্য যে তারিখ দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ফাইভজির মতো বড় নিলামের জন্য অনেক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজন হয়।
- বিষয় :
- ফাইভজি
- বিটিআরসি
- বেতার তরঙ্গ
