ইজেনারেশনের উদ্যোগে খাতভিত্তিক ধারাবাহিক ওয়েবিনার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ১৩:৩০
ব্যবসা পুনর্গঠনে শিল্পভিত্তিক ধারাবাহিক ওয়েবিনারের অংশ হিসেবে ইজেনারেশনের উদ্যোগে ‘রিইমাজিন ইওর বিজনেস : নেভিগেটিং থ্রু ইকোনমিক চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ইমার্জ স্ট্রংগার এমিড কোভিড-১৯’ শীর্ষক ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আরটিভি, ইজেনারেশন, শামীম আহসান, দ্য ডেইলি স্টার এবং দৈনিক সমকাল এর ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ওষুধশিল্প নিয়ে প্রথম ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়।
এই ওয়েবিনারে ওষুধশিল্প কীভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিসহ সাধারণ জনগণকে সেবা দিতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, নতুন ব্যবসায় সুযোগ সৃষ্টিতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, নিরবিচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে এবং দেশে-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করতে পারে তার কৌশল নিরূপণে আলোচনা হয়।
ইজেনারেশন এই ওয়েবিনারে দেশের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে, যারা ওষুধশিল্প খাতের চলমান সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন।
ইজেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন, এখন আমাদের পুনঃযাত্রা শুরু করার এবং ব্যবসাকে ঢেলে সাজানোর সময়। আমাদের চিন্তাগুলো শুধুমাত্র মহামারীতে টিকে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়, বরং বাংলাদেশকে বিশ্বের ওষুধশিল্পের গন্তব্যস্থল হিসেবে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এই সময়টাকে লাগানো উচিত। পাশাপাশি আন্তর্জতিক বিপণন, জয়েন্ট ভেঞ্চার, প্রযুক্তিগত সল্যুউশন যেমন ইআরপি ও অ্যানালাইটিক্স, এবং পণ্য উদ্ভাবনের জন্য আরঅ্যান্ডডি খাতে বিনিয়োগ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেবার এখনই সময়। আমাদের স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো যাতে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য অর্জন করতে পারে সেজন্য প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) সহজতর করা প্রয়োজন।
আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উক্ত ওয়েবিনারের সঞ্চালক সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, এই ওয়েবিনারে শিল্পভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কি কি পদক্ষেপ দরকার, তা পরামর্শ ও সুপারিশ আকারে তুলে ধরেছেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সরকার যৌক্তিকতা বিচারে এই সুপারিশ ও পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জেসন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক আজরা সেলিম বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আমাদের সকল কাজের ধরণ পাল্টে গেছে। একটি ওষুধ কোম্পানির প্রধান কাজ থাকে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা। বর্তমানে যেহেতু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ডাক্তারদের সাথে সশরীরে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আমরা আমাদের বিক্রয়কর্মীদের কার্যক্রম ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছি।
ভেরিটাস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারিতা মিল্লাত বলেন, আমরা এখন কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় একটি কার্যকরী ওষুধের জন্য অপেক্ষা করছি এবং এই মূহুর্তে আমরা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধগুলো। যদিও আমরা স্বল্পমেয়াদে লকডাউনের কারণে কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছি, কিন্তু আমরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে চলেছি যাতে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের খাতটি যথাযথভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রুনেই এবং নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার আফিফ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘরে বসে কাজ করার পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসাথে তাদের কাছে সর্বশেষ পরিস্থিতির উপর ডেটা, রিপোর্ট এবং বিশ্লেষণ এর অ্যাক্সেস থাকতে হবে। আমরা এক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের সংকটকালীন যোগাযোগের অ্যাপগুলো দিয়ে সহায়তা করতে পারি।
অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেইন সমুন্নত রাখা আমাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যা পণ্য মূল্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই দূর্যোগকালীন সময়ে আমাদের সামর্থ এবং দূর্বলতাগুলো আরও পরিস্কার হয়ে উঠছে। আমরা আমাদের ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই প্রস্তুত করে থাকি। তবে আমদানিকৃত কাঁচামালের উপর উচ্চ নির্ভরশীলতা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় হুমকি। তাই আমাদেরকে কাঁচামালের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেডের ব্যবসায় উন্নয়ন পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ হাসান বলেন, ওষুধ শিল্পের কোম্পানিগুলোর ডিজিটাল রূপান্তর আবশ্যক, বিশেষ করে বড় ওষুধ কোম্পানির ক্ষেত্রে। সাবলীলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আমি এসএপি এস/৪-হানা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেই। এএসপির আরেকটি উপকারি সেবা হলো হানা-এর জন্য ডেটা ওয়্যারহাউজিং, যা বিশাল পরিমান ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহায়তা করে।
এসএপি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের লাইফ সায়েন্স ও হেলথ কেয়ার বিভাগের পরামর্শক রাজেশ কুপুসোয়ামী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো দেশগুলো অধিকমাত্রায় চীনের উপর কাঁচামালের জন্য নির্ভরশীল এবং বর্তমান পরিস্থিতি এটা প্রমাণ করছে যে এই নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকারের দিক থেকে অনেক উন্নতি করেছে, যা নিশ্চিত করছে যে আগামীতে দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আর বিবেচিত হবে না।
এই ওয়েবিনারের পরবর্তী পর্বগুলো আরও বিভিন্ন খাত যেমন ই-কমার্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। পর্বগুলো ইজেনারেশন, শামীম আহসান ও আরটিভির ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। বিজ্ঞপ্তি।