ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

করোনায় মনোবল বাড়াতে বেতন বাড়ালো বিলিভআইটি

করোনায় মনোবল বাড়াতে বেতন বাড়ালো বিলিভআইটি
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২০ | ০৫:২৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনা পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান যখন কর্মী ছাটাই বা বেতন ভাতা অর্ধেক দিচ্ছে তথন মনোবল বাড়াতে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করল বিলিভআইটি।

২০১৪ সালে বুয়েটের সিএসই ডিপার্টমেন্টের এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ লোভনীয় চাকরির হাতছানি এড়িয়ে গড়ে তোলে এই প্রতিষ্ঠান।

এটি গতানুগতিক কোনও আইটি ফার্ম নয়। রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম, একাউন্টিং সফটওয়্যার, সিকিউরিটি সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ে যখন প্রায় সব আইটি ফার্ম ব্যস্ত তখন পুরোপুরি ভিন্নভাবে এডুটেক কোম্পানি হিসেবে গড়ে তোলা হয় এই কোম্পানিকে।

সরাসরি অর্থলাভ নয়, সমাজের উন্নয়নে ও কল্যাণে কিছু করার তাগিদ থেকেই বিলিভআইটি-র পথচলা শুরু। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ৩ কারণে এডুটেক কোম্পানি ব্যর্থ হয়। এক. শিক্ষাখাতের স্টেকহোল্ডারদের না বোঝা দুই. শিক্ষক ও উদ্যোক্তার মাঝে দূরত্ব এবং তিন. ক্রেতা সনাক্তকরণে ব্যর্থতা।

গত আট বছরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বইবাজার.কম স্টার্টআপ, বইবাজ অ্যাপ, লেকচার পাবলিকেশন্স, মিস্ ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ অরগ্যানাইজেশন -এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানকে ক্লায়েন্ট হিসেবে পেয়েছে বিলিভআইটি। সর্বশেষ কোম্পানি মূল্যায়নে একটি আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম বইবাজার.কম-কে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যমান স্টার্টআপের স্বীকৃতি দেয়।

জানা যায়, বইবাজার.কম-এর সার্চইঞ্জিন এবং ডিস্ট্রিবিউশনে এআই প্রযুক্তির সমন্বয় বইবাজার.কম-এর সিষ্টেমকে ব্যতিক্রমি করে তুলেছে। বর্তমানে বিলিভআইটি শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষায় সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার ও এর উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশ থমকে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন সমাধান পৌঁছে দেয়ার জন্য বিলিভআইটি নিয়ে আসে ৩৬০ ডিগ্রি সমাধান। একই সাথে ওয়েব, অ্যাপ এবং আইভিআর তথা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সকল ছাত্রছাত্রীদের কাছে ডিজিটালি পৌঁছানো।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে বিলিভআইটি ‘লাইভ এডুফিল্ডফোর্স ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ বাস্তবায়ন করেছে যেখানে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার পাবলিকেশন্স ইন্ডাষ্ট্রিতে কর্মরতদের ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েলটাইম নির্দেশনা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যা ফিল্ড ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে ও ব্যয় আগের তুলনায় কমিয়ে ফেলেছে ৭০% পর্যন্ত। এ কাজগুলো এত সহজ ছিল না।

এ প্রসঙ্গে বিলিভ আইটি-র সিইও বলেন, 'আমি অংক কষে বলে দিতে পারি, আমরা যে মানের প্রোডাক্ট বানিয়েছি তা সাধারণত প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণত ১ বছর সময় লাগার কথা। কিন্তু, এই করোনা পরিস্থিতিতে, অনলাইন শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে আমরা কাজটি করেছি মাত্র ৩ সপ্তাহে। এজন্য আমাদের ডেভেলপার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই আক্ষরিক অর্থে দিনরাত পরিশ্রম করেছে। আর একারনেই আমরা একটি অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করতে পেরেছি।'

বিলিভ আইটি-র চেয়ারম্যান বলেন, 'যারা মনে করছে এই পরিস্থিতি আর থাকবে না, সব আগের মত হয়ে যাবে তারা আসলে ভুল করছেন। আমরা সবসময় চেয়েছি যত কঠিন সময়েরই আমরা সম্মুখীন হইনা কেন, বই যেন ছাত্রছাত্রীদের হাতে সময়মত পৌঁছে। বিলিভ আইটিতে আমরা দারুণ এক বই ডিস্ট্রিবিউশন অবকাঠামো বানিয়েছি যার সুফল পাচ্ছে আমাদের গ্রাহক প্রতিষ্ঠান গুলো। সম্প্রতি এতে যুক্ত হয়েছে ডাক বিভাগের 'নগদ' এবং 'পাঠাও'-এর মত প্রতিষ্ঠান। আমরা আসলেই সন্তুষ্ট। যখন অনেক কোম্পানি করোনা পরিস্থিতির কারণে বেতন দিচ্ছে না বা দিলেও ৫০% দিচ্ছে বা নানান হিসাব কষছে, তখন কিন্তু আমরা বিলিভআইটির সকলের মনোবল বাড়াতে নিয়মিত বেতন-বোনাস প্রদানসহ বেতন বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যদি আমার সহকর্মীরা ভালো থাকে তবে আমার কোম্পানি ভালো থাকবে আর কোম্পানি ভালো থাকলে আমরা সবাই আরও ভালো থাকবো. দেশ ও জাতিকে আরও সেবা প্রদানে মনোযোগী হতে পারবো। আর এসব কারণেই, এমন কার্যকরী সিষ্টেম এত কম সময়ের মধ্যে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের টিম এ ধরণের কমপ্লেক্স সল্যুশন তৈরি করে যেতে পারছে। এমনকি মিস্ ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২০ এর কম্পিটিশন এর জন্য এক অভূতপূর্ব সিস্টেম সল্যুশনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার মাধ্যমে সারাদেশব্যাপী এ বিখ্যাত রিয়্যালিটি শো-টি একযোগে শুরু করতে যাচ্ছে মিস্ ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ।' সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

আরও পড়ুন

×