ফাইভজি চালু হলো বাণিজ্যিকভাবে
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:১৮
দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেটের নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যেই চালু হলো পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি। গ্রামীণফোন ও রবি দেশের কয়েকটি শহরে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি চালু করেছে। সোমবার দুপুরে রবি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফাইভজি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে গ্রামীণফোন ভিডিও বার্তায় এই সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।
রাজধানীতে রবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী প্রমুখ।
যেসব স্থানে ইতোমধ্যে রবির ফাইভজি সেবা সক্রিয় করা হয়েছে সেগুলো হলোু ঢাকার ফকিরাপুল (পল্টন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু এলাকা (শাহবাগ), মগবাজার চৌরাস্তা, চট্টগ্রামের খুলশি, সিলেটের সাগরদীঘির পাড় এলাকা। এরিকসন ও হুয়াওয়ে রবির ফাইভজি নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহযোগিতা করেছে।
রবি জানায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাতটি জায়গায় ফাইভজি নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। কোম্পানিটির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিচ্ছি এবং দেখছি যে ফাইভজি কতটুকু কাজ করছে। এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি নির্ভর করবে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা এবং ফাইভজি উপযোগী ডিভাইসের ওপর।’
তিনি বলেন, তাদের গ্রাহকদের প্রায় ৬০ শতাংশের হাতে ফোরজি সাপোর্ট করে এমন মোবাইল ফোন আছে। অন্যদিকে ৬-৭ শতাংশ গ্রাহকের কাছে ফাইভজি উপযোগী ফোন আছে, কিছু জায়গায় ২০ শতাংশও আছে। যেসব জায়গায় ১৫-২০ শতাংশ গ্রাহকের কাছে ফাইভজি উপযোগী মোবাইল ফোন থাকবে, রবি সেখানে এ সেবা চালু করবে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ ৮০০ থেকে এক হাজার ফাইভজি সাইট করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ফাইভজি ইন্টারনেটের দাম ফোরজির মতোই থাকবে।
এদিকে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান কোম্পানির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘অত্যন্ত খুশির সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমরা আজ (গতকাল) বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ফাইভজি সেবা চালু করছি।’
ফাইভজি নিয়ে নতুন আশা
ফাইভজি সেবা স্মার্ট সিটি, টেলিমেডিসিন, এআর/ভিআর, ক্লাউড গেমিংসহ বহু উদীয়মান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইভজি সেবা পেতে গ্রাহকের মোবাইল ফোন ফাইভজি উপযোগী হতে হবে। নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে ফাইভজি অপশন চালু করে নিতে হবে এবং যে এলাকায় ফাইভজি চালু হয়েছে সেই এলাকার নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে হবে। ফাইভজি সেবার জন্য সিম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
ফোরজি নিয়ে অভিযোগ
দেশে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। রাকিব নামের একজন গ্রাহক বলেন, দেশে ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় বাধ্য হয়ে বাসা এবং অফিসে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হয়। রাস্তায় বা অন্য স্থানে ওয়াইফাই না থাকলে ইন্টারনেট ব্যবহারে অনেক বেগ পেতে হয়। ভিডিও দেখা, কোনো কিছু আপলোড বা ডাউনলোড করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ফোরজি সেবা চালু হয়। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় টেলিকম কোম্পানি দেশের ছয়টি জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি ইন্টারনেট সেবা চালু করে। তবে ফাইভজি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর সে সময় ১২৩ কোটি ডলারে ১৯০ মেগাহার্জ তরঙ্গ কেনে। এ-সংক্রান্ত্র নীতিমালা হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে বছর মার্চে চার অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, টেলিটক ও বাংলালিংক ফাইভজি লাইসেন্স পায়।
- বিষয় :
- ফাইভজি
