১০৪টি দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করছে বাংলাদেশ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:২৭ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০৫
বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিশ্বের ১০৪টির বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটিএস সেবা রপ্তানি হচ্ছে। প্রায় ৫০০টি বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান রপ্তানিতে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সফটওয়্যার ও আইটিএস সেবা রপ্তানি করছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। আজ বুধবার ‘বেসিস আইটি এক্সপোর্টার্স নাইট-২০২৬’ শীর্ষক আয়োজনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি খাতের অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বেসিস আইটি এক্সপোর্টার্স নাইট–২০২৬। সরকারের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহযোগিতায় ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশের আইটি ও আইটিইএস সেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, শিল্পনেতারা ও বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটির মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি খাতের দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলা, অর্জন, বৈশ্বিক বিস্তার ও ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরা।
এ আয়োজনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শীর্ষ ১০টি আইটি ও আইটিইএস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিআইজেআইটি লিমিটেড, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেড, উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, সেলিস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস, সেফালো বাংলাদেশ লিমিটেড, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ লিমিটেড, এনোসিস সলিউশনস, থেরাপ (বিডি) লিমিটেড, রেডিয়েন্ট ডেটা সিস্টেমস লিমিটেড ও ডেটা পাথ লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও উন্নয়ন, ফিনটেক, হেলথটেক ও উচ্চমূল্যের আইটি সেবায় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্বের ১০৪টির বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটিএস সেবা রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, হংকং, সিঙ্গাপুর ও কানাডা বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ আইটি রপ্তানি গন্তব্য।
অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, সেলিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলিয়ান আন্দ্রিন ওয়েবার, ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির, সেফালো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস মাহমুদ ও জাইকা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মোরিকাওয়া ইউকো। আলোচকেরা আইটি রপ্তানি সম্প্রসারণে নীতিনির্ধারক, আর্থিক খাত ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য মুশফিকুর রহমান ও রাশেদ কামাল।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের আইটি ও আইটিইএস খাত এখন দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও সরকারের সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তার ফলে এই খাত আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে নানামুখী নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে। ক্যাশ ইনসেনটিভ, কর অবকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজীকরণের মাধ্যমে আইটি রপ্তানি খাতের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য মোস্তফা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেসিসের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশ্ববাজারে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে এবং দেশের আইটি–শিল্প বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান, বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য রওশন কামাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
- বিষয় :
- বেসিস
- তথ্যপ্রযুক্তি
- রপ্তানি
