অভিনব
চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে দিচ্ছে এআই
আগে যা ছিল সময়সাপেক্ষ, এখন তা সম্ভব হচ্ছে মুহূর্তে। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪১
শিল্পকর্ম চুরি বিশ্বজুড়েই বড় একটি সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পুলিশ। এখন সবচেয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা শিল্পকর্ম খুঁজে বের করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যারের সাহায্য নিচ্ছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির পারমায় প্রতিবছরের মতো আয়োজিত পুরাকীর্তি মেলায় নিয়মিত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পুলিশের কর্মকর্তারা। স্টলগুলোর মাঝ দিয়ে হাঁটার সময় তারা ব্যস্তভাবে বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি তুলছিলেন। এটি তারা শিল্পকর্ম দেখার আগ্রহ থেকে করছিলেন না। বরং পুরোটাই ছিল তদন্তের অংশ।
কর্মকর্তারা ছবিগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজে আপলোড করেন। এ সময় বিক্রেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছিলেন তারা। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল মুষ্টির সমান ব্রোঞ্জের মূর্তি, পুরোনো রঙের প্রলেপযুক্ত পানপাত্র, হলদে হয়ে যাওয়া গ্লোব এবং অসংখ্য তৈলচিত্র।
তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পুলিশের সিস্টেমে একটি ছবির পাশে সতর্কসংকেত দেখা যায়। ছবিতে ছিল ফর্সা ত্বকের এক তরুণী। তার পরনে অ্যাকোয়ামেরিন ও লাল রঙের পোশাক। হাতে ধরা ছিল অর্ধেক খোলা একটি পার্চমেন্টের তৈরি পাণ্ডুলিপি।
পরদিন কর্মকর্তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে ছবিটি জব্দ করেন, যাতে শিল্পকর্ম বিশেষজ্ঞরা সেটি আবার পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা পুলিশ ইউনিটের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোর রাপিকাভোলি বলেন, ‘কিছু একটা ঠিক মনে হচ্ছিল না।’
রাপিকাভোলির দল কয়েক দশক ধরে সারাদেশে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে বের করার কাজে বিশেষজ্ঞ। তবে তিনি বলেন, মেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা নতুন ও বিশেষভাবে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবস্থাটি তাদের কাজের দক্ষতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি চালুর পর থেকে দলটি আরও দ্রুত চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম শনাক্ত করতে পারছে। পাশাপাশি এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ও তাদের নজরে আসছে, যা সাধারণত মানুষের চোখে ধরা পড়ে না।
রাপিকাভোলি বলেন, ‘শনাক্ত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েছে।’ ২০২৩ সালের নভেম্বরে চালুর পর থেকে এআই ব্যবস্থাটি তাঁর দলকে ৩০০টির বেশি বড় আকারের লুট হওয়া চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য উদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া ছোট আকারের এক লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মুদ্রা, পদক, চিঠি, পাণ্ডুলিপি, ধর্মীয় সামগ্রী, ডাকটিকিট ও কার্ড উদ্ধারেও ভূমিকা রেখেছে। এসব শিল্পকর্ম ও সামগ্রীর মোট মূল্য ২০ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর বেশি। পদ্ধতি ও নীতিমালার ক্ষেত্রে ইতালির এই অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে শিল্পকর্ম চুরির তদন্তে মেশিন লার্নিং ব্যবহারের পথ তৈরি করছে।
আগে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে বের করতে ইতালির পুলিশ নিয়মিত শিল্পকর্ম মেলা, পুরোনো জিনিসপত্রের দোকান এবং অভিজাত শিল্পকর্ম নিলামে যেত। সেখানে দেখা শিল্পকর্মগুলোর সঙ্গে নিজেদের কার্যালয়ে থাকা লাখ লাখ রেকর্ড মিলিয়ে দেখতেন কর্মকর্তারা। প্রথম দিকে এসব রেকর্ড কাগজে সংরক্ষণ করা হতো। পরে সেগুলো ডিজিটাল করে অনলাইন ডেটাবেজে রাখা হয়। সেখানে একটির পর একটি রেকর্ড খুঁজে সম্ভাব্য মিল বের করতে হতো। কোনো শিল্পকর্ম বিক্রির ক্ষেত্রে সন্দেহ দেখা দিলেও একজন কর্মকর্তাকে ডেটাবেজে থাকা শত শত ছবি ঘেঁটে মিল খুঁজতে হতো। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূক্ষ্ম বিবরণ চোখ এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। তার ওপর মূল শিল্পকর্মের ছবিগুলোর মানও ছিল বেশ খারাপ।
সেদিক থেকে নতুন ব্যবস্থা অনেক কার্যকরী। এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শিল্পকর্মের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে। রঙের বিভিন্ন স্তর এবং মোটামুটি অবয়বের মধ্যে মিল খুঁজে বের করে এটি সম্ভাব্য মিল নির্ধারণ করে পুলিশকে সহায়তা করতে পারে। বিবিসি।
- বিষয় :
- এআই