ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

মুগ্ধতা ছড়ানো সূর্যগ্রহণ

মুগ্ধতা ছড়ানো সূর্যগ্রহণ
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:১২

পুরো গল্পটাই আড়ালে পড়ে যাওয়ার। আর ছায়াময়-মায়াময় সূর্যরশ্মির মুগ্ধতার খেলার। কে কার আড়ালে পড়লে সৃষ্টি হয় এমন মহাজাগতিক মুগ্ধতা। চাঁদের বুড়ি রাতের আকাশে মায়াময় হয়ে পৃথিবীর দিকে তাকায়। দিনের আলোয় তাকে দেখা যায় না। তখন সূর্যমামার বিশাল আলোর ঝরনায় সে নিষ্প্রভ থাকে। তবে সৌরজগতের অমোঘ নিয়মে দিনের বেলায় নিষ্প্রভ চাঁদও তার ভেলকি দেখায়। মনে হয়, সৌরমণ্ডলের মহানায়ক সূর্যকে গ্রাস করেছে তারই বলয়ের এক ক্ষুদ্র উপগ্রহ। আসল ঘটনা হলো- ঘুরতে ঘুরতে দীর্ঘ বিরতিতে কয়েক মুহূর্তের জন্য সরলরেখা বরাবর পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে ধীরে ধীরে চলে আসে চাঁদ। তখন পৃথিবীর আড়ালে পড়ে যায় সূর্য। মহাজাগতিক এই ঘটনাই হলো সূর্যগ্রহণ। ১৭২ বছর পর বৃহস্পতিবার এমন বিরল দৃশ্য দেখল পৃথিবীবাসী। আর এ দৃশ্যের সাক্ষী হতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জড়ো হয় খালি জায়গায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় গ্রহণ। বিজ্ঞানীরা এই গ্রহণের নাম দিয়েছেন 'রিং অব ফায়ার' বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। সকাল সাড়ে ৮টায় গ্রহণ শুরু হলেও ঢাকার আকাশ থেকে তা দেখা যায় ৯টা ২ মিনিট থেকে। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে সূর্যগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। মহাজাগতিক এই দৃশ্যে দেখা গেছে, সূর্যকে ৯০ শতাংশের বেশি আড়াল করে ফেলেছে চাঁদ। বাংলাদেশ ছাড়াও সূর্যগ্রহণের এই বিরল দৃশ্য দেখা গেছে ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব আফ্রিকা থেকে।

গতকাল দেশবাসী উপভোগ করেছেন বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ খোলা আকাশের নিচে জড়ো হয়েছিলেন। ঢাকার হাতিরঝিল, আগারগাঁওয়ের বিজ্ঞান জাদুঘর প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কুমিল্লা, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন স্থানেই উৎসাহীরা টেলিস্কোপ বা এক্স-রে ফিল্ম চোখে দিয়ে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন।

বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র জানায়, দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে গ্রহণ শেষ হয়। সময়ভেদে সূর্যগ্রহণের মাত্রার তারতম্য ঘটে। অনুসন্ধিৎসু চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প করে। শৌখিন জ্যোতির্বিদ আজহারুল হকের নেতৃত্বে এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। এ সময় সূর্যগ্রহণের ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তিনি জানান, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। একই সঙ্গে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। সূর্য ও পৃথিবীকে নিয়ে একটি তল কল্পনা করলে চাঁদ সাধারণত সেই তলে পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে না। কিন্তু কোনো কোনো সময়, বিশেষ করে অমাবস্যার সময় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ সেই তলে একই সরলরেখায় চলে আসে। সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যায় এবং চাঁদের সংকীর্ণ ছায়া তখন পৃথিবীর বুকে ভ্রমণ করে। সে ছায়া যেসব জায়গার ওপর দিয়ে যায়, সেখান থেকে মনে হয় সূর্য ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। ছায়ার কেন্দ্র যেসব অঞ্চল পড়বে, সেখান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের কৌণিক ব্যাস সূর্যের কৌণিক ব্যাস থেকে অনেক কম। ফলে পূর্ণগ্রহণ হলেও চাঁদ কেবল সূর্যের কেন্দ্র ও কেন্দ্রের চারদিককে ঢাকতে পারে। আর কেন্দ্রের বাইরে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে সালাতুল কুসুফ তথা সূর্যগ্রহণের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায়ের আদেশ জারি করা হয়।

আরও পড়ুন

×