ঢাকা শুক্রবার, ০৪ জুলাই ২০২৫

এমসি কলেজে ধর্ষণ: চাঁদাবাজি-ধর্ষণ মামলার বিচার একসঙ্গে চলবে

এমসি কলেজে ধর্ষণ: চাঁদাবাজি-ধর্ষণ মামলার বিচার একসঙ্গে চলবে

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ মে ২০২২ | ০৫:১৯ | আপডেট: ১১ মে ২০২২ | ০৫:১৯

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সময়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হকের আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এই ট্রাইব্যুনালের সরকারপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট রাশিদা সাইদা খানম জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ধর্ষণ মামলার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলার বিচারও এক সঙ্গে চলবে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে মামলার পরবর্তী দিনক্ষণ তিনি বলতে পারেননি।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতার জন্য মামলার বিচার কার্যক্রম থমকে থাকে। সেই সময় এক্তিয়ার বর্হিভূত হওয়ার ধর্ষণের সময় সংগঠিত চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলা বিচারের জন্য পৃথক আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তবে মামলার বাদী তরুণীর স্বামী ন্যায় বিচারের স্বার্থে একই আদালতে সবকটি মামলা বিচারের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনালে আবেদন খারিজ হলে তিনি হাইকোর্ট আবেদন করেন। এই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সব মামলার বিচার এক আদালতে হবে।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া তরুণীকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথক অভিযান চালিয়ে সাইফুরসহ ছাত্রলীগের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। ডিএনএ টেস্টেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর  ছাত্রলীগের ৮ জনকে আসামি করে ধর্ষণ এবং চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বহুল আলোচিত এই মামলায় ৫১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। বুধবার আসামিদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন পিপি রাশিদা সাইদা খানম। এজন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

বহুল আলোচিত দুটি মামলার আসামিরা হলেন, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার সাইফুর রহমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (বর্তমানে শান্তিগঞ্জ) উপজেলার উমেদনগরের তারেকুল ইসলাম তারেক, জকিগঞ্জের আটগ্রামের অর্জুন লস্কর, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের রবিউল ইসলাম, কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির মাহফুজুর রহমান মাসুম, নগরীর গোলাপবাগের আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও বিয়ানীবাজারের নটেশ্বর গ্রামের মিজবাউল ইসলাম রাজন।


আরও পড়ুন

×