ধর্ষণ মামলার সাক্ষীর ওপর হামলা: পাবনায় ওসি ক্লোজড
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:৫০
পাবনায় ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে পুলিশের সামনে মারধরের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা আখতার মিলি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে সাক্ষীকে বাঁচাতে ব্যর্থ হওয়ায় দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগে খাইরুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠে ওসি মো. খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আসামির অনুসারী সন্ত্রাসীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তার সামনে মামলার সাক্ষী আলিম নামের যুবককে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা আক্তার মিলিকে প্রধান করে ৩ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার ওই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর ওসিকে (তদন্ত) ক্লোজ করা হয়। পুলিশ এ ঘটনার প্রধান আসামি আরিফসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামের মো. পাঞ্জাব প্রাংয়ের ছেলে মো. ফিরোজ প্রাং ও তার সহযোগীরা মালিগাছা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে এক যুবতীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে ফিরোজকে আটক করে। এ সময় ফিরোজের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়। এদিকে ফিরোজকে ছাড়িয়ে নিতে তার বাবাসহ মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধর্ষিতার বাড়িতে উপস্থিত হয়। এ সময় চেয়ারম্যান শরীফ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলে ফিরোজকে নিজ জিম্মায় নেয়। ধর্ষিতার বাবা সন্ত্রাসী বাহিনীর চাপের মুখে চেয়ারম্যান শরিফুলের কাছে ফিরোজকে হস্তান্তর করেন। এরপর ফিরোজকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেন চেয়ারম্যান শরিফুল। এ ঘটনায় ধর্ষিতা পরের দিন (২১ ডিসেম্বর) রাতে ধর্ষকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করে। এ সময় ধর্ষক ফিরোজসহ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীরা তাকে গণধর্ষণ ও মারধর করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে এলাকার একটা ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে ২১ ডিসেম্বর রাতে ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।
ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলিমকে মুঠোফোনে ডেকে নেন সদর থানার ওসি তদন্ত খাইরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলো স্থানীয় চেয়ারম্যান শরীফের ভাই আরিফের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ওসির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাপোকথনের পরেই চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আরিফুলের সন্ত্রাসী বাহিনী আলিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে তাকে পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর
জখম করে মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আলিমকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
- বিষয় :
- ধর্ষণ
- সাক্ষীর ওপর হামলা
- পাবনা
- ওসি ক্লোজড
