ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মায়ের সঙ্গে সেলুন কর্মচারীর প্রেম, দেখে ফেলায় শিশুকে খুন করে লাশ গুম

মায়ের সঙ্গে সেলুন কর্মচারীর প্রেম, দেখে ফেলায় শিশুকে খুন করে লাশ গুম
×

বস্তাবন্দি শিশু দীপ্ত মণ্ডলের লাশ- সমকাল

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২২ | ০২:৪৫ | আপডেট: ৩১ মে ২০২২ | ০৩:০২

বরিশালের উজিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর মঙ্গলবার সকালে বস্তাবন্দি অবস্থায় খাল থেকে আট বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার হারতা ইউনিয়নের কাজিরবাড়ি গ্রামের এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এলাকার রাকেশ সেলুনের কর্মচারী নয়ন শীল, সেলুনের মালিক রতন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী ইভা বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে শিশুকে হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।

নিহত শিশুর নাম দীপ্ত মণ্ডল। সে কাজিরবাড়ি গ্রামের দীপক মণ্ডলের ছেলে ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আর্শাদ মঙ্গলবার দুপুরে সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ মে রাতে বাড়ি থেকে দীপ্ত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় দীপ্তর বাবা দীপক মণ্ডল ওইদিন রাতেই উজিরপুর মডেল থানায় জিডি করেন। নিখোঁজের ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিন্দ্রনাথ বড়াল ও কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ নিখোঁজের বিষয়ে সন্দেহ করে রাকেশ সেলুনের কর্মচারী নয়ন শীলকে। মঙ্গলবার রাতে দীপ্তকে উদ্ধার করার জন্য একটি মিটিং করেন স্থানীয়রা। এসময় নয়ন শীলও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সভা শেষে ইউপি সদস্য রবিন্দ্র নাথ ও কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ সেলুনের কর্মচারী নয়ন শীলকে নজরে রাখার জন্য এলাকার কয়েকজনকে বলে রাখেন। এর কিছুক্ষণ পরেই নয়ন সেলুনে গিয়ে ফ্লোরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করা শুরু করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় দীপ্তকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে। তার স্বীকাররোক্তি অনুযায়ী ওই সেলুনের মালিক রতন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী ইভা বিশ্বাসকে ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ এসে তিনজনকে নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে পাশের একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দীপ্তর মরদেহ উদ্ধার করে।

সেলুন মালিকের স্ত্রী ইভা বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সেলুনের কর্মচারী নয়ন শীলের সঙ্গে দীপ্ত মণ্ডলের মা সীমা মণ্ডলের দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের প্রেম ও মেলামেশা ছেলে দেখতে পাওয়ায় শিশু দীপ্তকে গলাটিপে হত্যা করে নয়ন ও সীমা। হত্যার পরে লাশ বস্তাবন্দি করে আমাদের সেলুনের বাথরুমে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় নয়ন শীল ও সীমা মণ্ডল। আমার স্বামী দোকনে গিয়ে বস্তাবন্দি লাশ দেখে নয়নকে ফোন দেয়। নয়ন হত্যার কথা স্বীকার করে।  তখন আমরা ভয়ে সোমবার দুপুরে ড্রামে করে বস্তাবন্দি লাশ নিয়ে কাজিরবাড়ির পাশে একটি খালে ফেলে দিয়ে আসি।’

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আর্শাদ জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞেসাবাদ করার পর বিস্তারিত বলতে পারবো।  

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শাজাহান জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতার। ইতোমধ্যে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে প্রাথমিকভাবে থানায় এনে জিজ্ঞেসাবাদ চলছে।

এ ঘটনায় বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. আখতারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। ডিআইজিকে দেখে বিক্ষুব্ধ জনতা বিচারের দাবি জানালে, এসময় তিনি উপস্থিত জনতাকে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

×