ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

জাতীয় স্কুল ক্রিকেট

সব বাধা পেরিয়ে দেশসেরা

সব বাধা পেরিয়ে দেশসেরা
×

শিরোপা নিয়ে পিকআপে করে বুধবার রংপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে বেড়ায় উল্লসিত খুদে ক্রিকেটাররা - সমকাল

মেরিনা লাভলী, রংপুর

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২২ | ২৩:৫৪

রংপুরের শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের এবারের চ্যাম্পিয়ন। দেশসেরার খেতাব অর্জনে আনন্দে ভাসছেন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

ক্রিকেটে প্রতি বছরই সাফল্য পেয়েছে বিদ্যালয়টি। প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২২-এর রংপুর জেলা পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হয় নগরীর ক্রিকেট গার্ডেন ভেন্যুতে। এতে রবার্টসনগঞ্জ স্কুলকে হারিয়ে জেলা পর্যায়ে এবং পঞ্চগড় বিপি উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর জাতীয় পর্যায়ে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে ৫৯ রানে হারিয়ে শিরোপা নিজ ঘরে আনে তারা।

ক্রিকেটারদের বরণ :গত সোমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সবাইকে মিষ্টিমুখ করান তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ক্রিকেট দলটি রংপুরে এসে পৌঁছায়। নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন দেশসেরা তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে স্কুল গেটের সামনে হাজির হয় ক্রিকেটাররা। এ সময় শিক্ষকরা ফুলের মালা গলায় দিয়ে বরণসহ তাদের জড়িয়ে ধরেন এবং মিষ্টিমুখ করান। গতকাল বুধবার দুপুরে পিকআপে করে ক্রিকেট দলের শিক্ষার্থীরা ট্রফি নিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রংপুরবাসীও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাদের হাত নেড়ে স্বাগত জানান।

শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনের গল্প :রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে আদালতের বিপরীতে অবস্থিত শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে ছোট্ট একটি মাঠ রয়েছে। সেখানে হাত খুলে অনুশীলনের সুযোগ নেই। তবু প্রতিষ্ঠানের ক্রিকেট দলের কোচ নাসির খান আকাশ, ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম শাওন, শরীরচর্চা শিক্ষক আনোয়ারুচ্ছাদিক সুমনের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং প্রধান শিক্ষক বিমল কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয় ছুটির পর স্কুল মাঠেই হয় অনুশীলন। এতে অংশ নেয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাইখ ইমতিয়াজ শিহাব, প্রিতম, সৈকত, শ্রাবণ, আবির, মোরসালিন, শাকিব, সাদ, শুভ, রিশাদ, অয়ন, আমান, রিয়ন, শাহেদ, বিশেষ, আল-আমিন ও জাইফরা। মাঠ সমস্যার কারণে পরে বিভিন্ন মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয় ক্রিকেটারদের। মাঠের পর আর্থিক সংকটও ভুগিয়েছে খেলোয়াড়দের। খেলার সরঞ্জামাদি সরবরাহে টানাপোড়েন ছিল প্রতিষ্ঠানের। তবু হাল ছাড়েনি ক্রিকেটাররা। সব বাধা অতিক্রম করে তারা কঠোর অনুশীলন করে গেছে।

খেলাধুলায় সাফল্যের আলো :খেলাধুলার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের অর্জনের শেষ নেই। ক্রিকেট, ফুটবল, টেবিল টেনিস, হকিসহ বিভিন্ন খেলায় জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে অর্জন রয়েছে ভূরি ভূরি। প্রাইম ব্যাংক ইয়ং টাইগার ক্রিকেটে ২০১৮-১৯ সালে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৯ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উদ্যোগে উপ-আঞ্চলিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্ফ্মকালীন ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হকিতে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৯ সালে মাদকবিরোধী ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, টেবিল টেনিসে রাজশাহী আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নসহ অসংখ্য অর্জন রয়েছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুলিতে।

যা বলছেন সংশ্নিষ্টরা :দলের অধিনায়ক সাইখ ইমতিয়াজ শিহাবের ভাষ্য, তাদের পরিকল্পনা ছিল এ রকম বড় একটা ইভেন্টে ভালো খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। মাঠে অ্যাকটিভ থাকতে ও খেলাকে উপভোগ করতে বলেছিলেন কোচ। খেলোয়াড়েরা তা-ই করেছে। শিহাব বলে, 'আমি যেহেতু অধিনায়ক, টিমকে ফাইনালে নিয়ে যেতে আমার ওপর অনেক চাপ ছিল। চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। দেশসেরা দল হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।'

দলের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম শাওন বলেন, 'আমরা সাধ্য মতো সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের চেষ্টা করেছি, তাদের উৎসাহ দিয়েছি। অনুশীলনের জন্য একটি স্থায়ী মাঠ হলে খেলোয়াড়রা স্বাচ্ছন্দ্যে অনুশীলন করতে পারত। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের দল দেশসেরা হয়েছে, এটি রংপুর বিভাগবাসীর জন্য গর্বের।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল কুমার রায় বলেন, 'আমরা জেলা পর্যায়ে টানা চারবার ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এ ছাড়া হকি, ফুটবল, টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। আমরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চাসহ শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করেছি। এতে করে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মেধার বিকাশ হচ্ছে।'

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, 'শিক্ষকদের আন্তরিকতা, খেলোয়াড় ও কোচদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।'

আরও পড়ুন

×