ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

চোর সন্দেহে ভ্যান চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর মৃত্যুর অভিযোগ

চোর সন্দেহে ভ্যান চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর মৃত্যুর অভিযোগ
×

ননী বিশ্বাস

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২২ | ০৭:১৮ | আপডেট: ২১ জুন ২০২২ | ০৭:২০

গোপালগঞ্জে চোর সন্দেহে ভ্যানচালক ননী বিশ্বাসকে (৪২) গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ননী বিশ্বাসের স্ত্রী রেভা বিশ্বাস গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেছেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। আমার মেয়ে বড়, তাকে বিয়ে দিয়েছি। দুই ছেলে ছোট। তাদের নিয়ে আমি এখন অথৈ সাগরে পড়েছি। 

তিনি তার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেছেন।এ ব্যাপারে তিনি টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন।

হত্যার শিকার ননী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মহারাজ বিশ্বাসের ছেলে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বেলেডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

রেভা বিশ্বাস বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির মানুষ। এলাকার মানুষ তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানত। ভ্যান চালিয়েই তিনি সংসার চালাতেন। গত ১১ জুন আমার স্বামী তার ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের আত্মীয় দুলাল বাড়ৈর বাড়িতে বেড়াতে যান। পরের দিন ১২ জুন আমার স্বমীর গ্রামের বাড়িতে জরুরি কাজ ছিল। এ কারণে তিনি ভোর ৪টার দিকে হিরণ গ্রামের আত্মীয়র বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে চলে আসেন। পথে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বেলে ডাঙ্গা পৌঁছালে স্থানীয় রবিন বালা, সান্তনু বালা, বিপিন বালা, দিকজয় মজুমদার সহ ২০/২৫ তার গতি রোধ করে। তারা তাকে ভ্যান চোর আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। কিল ঘুষি, লাঠি ও রড দিয়ে পেটায়। পরে মৃত ভেবে সেখানে ফেলে রেখে যায় তারা।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পলাশ মজুমদার আমার স্বামীর পকেট থেকে আমাদের মেবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফেন দেয়। আমরা তাকে উদ্ধার করে  গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু ১৪ জুন ভোর ৪ টার দিকে তিনি মারা যান। বেলেডাঙ্গা গ্রামের রবিন বালাসহ অন্যান্যদের পিটুনিতে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী টুটুল বলেন, আমি ননীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সে খুবই সরল সোজা মানুষ ছিল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাত। তার স্ত্রী রেভা ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে খণ্ডকালীন শ্রমিকের কাজ করে। ননী চোর নয়। আমি তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর বিশ্বাস বলেন, শুনেছি বেলেডাঙ্গা গ্রামে চোর সন্দেহে এক ভ্যান চালককে মারপিট করেছে। ওই সময় রাস্তা দিয়ে যেই চলাচল করেছে সেই তাকে মেরেছে। তাকে ব্যাপক মারপিট করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ওই ভ্যান চালকের নাকি মাথায় সমস্যা ছিলো। তাই তাকে স্থানীরা চোর হিসেবে সন্দেহ করে। মারপিটের কয়দিন পর সে নাকি মারা গেছে । আমি চেয়ারম্যান হিসেবে এ টুকুই জানতে পেরেছি।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) তন্ময় মন্ডল বলেন, স্রেফ সন্দেহের করণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ১৪ জুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মমলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ সহ ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×