চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুই থানা কমিটি ঘোষণা
পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ সড়কে তুলকালাম
চট্টগ্রামের ডবলমুরিং ও চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে শুক্রবার আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড়ে পদবঞ্চিতদের সড়ক অবরোধ- সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪:৪৯ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:৪৭
মহানগরীতে ছাত্রলীগের থানা কমিটি অনুমোদন নিয়ে সংগঠনে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে চান্দগাঁও ও ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর অন্তত পাঁচটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নগর ছাত্রলীগের এই অংশের নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠনের সহসভাপতি সৌমেন বড়ূয়া, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ ও ফারুক ইসলাম।
এদিকে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা এনে তা কেন্দ্রে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা নগর ছাত্রলীগের একাংশের নেতারা। গতকাল সড়ক অবরোধ কর্মসূচির পর নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে নগর ছাত্রলীগের এক নেতার বাসায় বৈঠক করে তারা অনাস্থা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। ওই বৈঠকে ২৯৩ সদস্যের নগর ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই নেতার প্রতি অনাস্থা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সমকালকে জানান সংগঠনটির সহসভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদ ও ফারুক ইসলাম।
চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের নতুন ঘোষিত কমিটি থেকে বাদ পড়া এবং যথাযথ পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের একটি অংশ গতকাল বিকেলে চান্দগাঁও থানার আওতাধীন বহদ্দারহাট মোড়ের অদূরে জামান হোটেলের সামনে এবং আরেকটি অংশের নেতাকর্মীরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা নামক স্থানে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। অন্যদিকে প্রায় অভিন্ন সময়ে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের একটি অংশ নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে এবং আরেকটি অংশের নেতাকর্মীরা চৌমুহনী ও আগ্রাবাদ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাট-বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদ সড়ক এবং বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ যানজটে আটকা পড়েন। এক পর্যায়ে প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদ ও ফারুক ইসলাম সমকালকে বলেন, নগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সংগঠনের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর কাউন্সিল না করে তাদের ইচ্ছেমতো একের পর এক থানা কমিটি অনুমোদন দিচ্ছেন। এসব কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। মূলত তাদের পছন্দের পাত্রদের দিয়েই কমিটিগুলো করছেন। ফলে কমিটি ঘোষণার পর বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এর আগে নগরীর বন্দর থানা, আকবর শাহ থানা এবং পতেঙ্গা থানা কমিটি অনুমোদনের পর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ ডবলমুরিং ও চান্দগাঁও থানা কমিটিও সেভাবে করা হয়েছে। তাই বঞ্চিত নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুমোদন দেওয়া চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে নুরুন্নবী শাহেদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. শহীদুল আলমকে। কমিটিতে আটজনকে সহসভাপতি, পাঁচজনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দু'জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ সায়েমকে সভাপতি ও রাকিব হায়দারকে সাধারণ সম্পাদক করে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে ১৩ জনকে সহসভাপতি, সাতজনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নয়জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগ নেতা এম হাসান আলী, কপিল কর, ইমরান হোসেন জনি এবং ডবলমুরিং থানা থেকে জহুরুল কাইয়ুম ফয়সাল ও শুভ ঘোষকে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে সহসম্পাদক পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- ছাত্রলীগ
- কমিটি ঘোষণা
- থানা কমিটি
