ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

প্রেমের জেরে খুনের পর লাশ পুড়িয়ে ভস্ম?

প্রেমের জেরে খুনের পর লাশ পুড়িয়ে ভস্ম?
×

প্রতীকী ছবি

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:২৪ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৩৯

বগুড়ায় প্রেমের জেরে এক যুবককে গলাকেটে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে লাশ ভস্ম করে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের নাম সেলিম প্রামানিক (৩২)।ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দুপঁচাচিয়া উপজেলার বড়কোল এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য, যুবকের প্রেমিকা ও তার বাবা মিলে বর্বর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত সেলিম প্রামানিক উপজেলার খিদিরপাড়া এলাকার কফিল উদ্দনের ছেলে।

এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তার মেয়ে রূপালী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাড়িও উপজেলার খিদিরপাড়া এলাকায়।

শনিবার বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রূপালী বেগমের স্বামী একরামুল হক কয়েক বছর ধরে বিদেশ আছেন। এরই মধ্যে রূপালী তার বাল্যবন্ধু একই এলাকার সেলিমের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে রূপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সেলিম। এতে রূপালী রাজি হননি।

পুলিশ সুপার বলেন, রূপালীর সঙ্গে স্পর্শকাতর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও গোপনে ভিডিও করে রেখেছিলেন সেলিম। বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সেলিম ভিডিওগুলো রূপালীর স্বামী একরামুলের কাছে পাঠান। এতে রূপালী সেলিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পুলিশের ভাষ্য, এর পরই রূপালী হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন।পরিকল্পনায় রূপালী সামিল করেন তার বাবাকেও। বাবা-মেয়ে মিলে ৩ জন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে চুক্তি করে সেলিমকে হত্যার বিষয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রয়ারি রাতে রূপালী সেলিমকে বিয়ে করবে বলে আগ্রহের কথা জানায়। সেলিম পাঞ্চাবী পরে রাতে রূপালীর সঙ্গে দেখা করতে বড়কোল এলাকায় ফসলের মাঠে যান। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা খুনিরা সেলিমকে গলাকেটে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহতের পরিচয় যেন জানতে না পারে এ কারণেই হত্যার পর লাশ ভস্ম করা হয়। কিন্তু খুনিরা যতই চতুরতার সঙ্গে খুন করুক না কেন কিছু ক্লু থেকেই যায়। আর এই ক্লু থেকেই খুনের রহস্য উৎঘাটন হয়ে থাকে। এমনইটাই হয়েছে এই খুনের ক্ষেত্রেও। আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাওয়া লাশের পরিচয় উদ্ধার করতে না পেরে পুলিশ বিভাগ লাশ নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। এরই এক পর্যায়ে আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয় লাশের পাশে পড়ে থাকা এক টুকরো কাপড়। যেটি ছিল সেলিমের পরিধেয় পাঞ্জাবীর কাপড়ের একটি টুকরো। এরই জেরে তদন্ত করে ঘাতক বাবা-মেয়েকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ভাড়াটে খুনিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×