আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ
পিনোন-হাদি বিক্রি করে চলছে জীবন
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র পিনোন-হাদি বিক্রি করছেন পাহাড়ি নারীরা। ছবিটি রাঙামাটির বনরূপা বাজার থেকে তোলা- সমকাল
সত্রং চাকমা, রাঙামাটি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২২ | ০০:১০ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২২ | ০০:১০
জয়ন্তী চাকমা। পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র পিনোন-হাদি বিক্রি করে সংসার চলে তাঁর। জয়ন্তী চাকমার মতো আরও অনেক আদিবাসী নারী এই পিনোন-হাদি বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাসহ সংসারের ব্যয় মিটিয়ে যাচ্ছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে রয়েছে ১১ ভাষাভাষির ১৫ জাতিসত্তা- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তংচংগ্যা, ম্রো, খেয়াং, চাক, খুমি, পাংখোয়া, বম, গোর্খা, লুসাই, আহমিয়া, রাখাইন ও সাঁওতাল।
এসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস, কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি। রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক-আশাকও। পোশাকগুলো নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পরিচয়ও বহন করে। চাকমা ভাষায় নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাককে বলে পিনোন-হাদি, ত্রিপুরা ভাষায় রিনাই-রিসা। এ পোশাক ছাড়াও তাঁরা শাল, ব্যাগ, বুরগি (কম্বল) মাফলারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা কিছু তৈরি করে থাকেন। কিন্তু এ কাজে জড়িত নারীরা সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। কয়েকটি বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তাঁরা এগুলো তৈরি করে থাকেন।
এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই পরিধেয় বস্ত্রের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ডিজাইনের এই পরিচ্ছদের বেশ কদর রয়েছে।
জানা গেছে, রাঙামাটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপা বাজারে প্রতি শনি, মঙ্গল ও বুধবার বসে পিনোন-হাদির হাট। আধুনিক ডিজাইনের নানা ধরনের এ পোশাক বিক্রি করতে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পাহাড়ি নারী। এসবের দাম ডিজাইন ও সুতার গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রেশম ও সিল্ক্কের সুতায় তৈরি প্রতি সেট বিক্রি করা হয়ে থাকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। সবচেয়ে কম দামেরটি ৩ হাজার টাকা।
পোশাক বিক্রেতা জয়ন্তী চাকমা জানান, এ পোশাক বিক্রি করে তাঁদের সংসারের খরচ মেটানো ছাড়াও ছেলেমেয়ের লেখাপড়া চালাচ্ছেন। কিন্তু সুতার দাম বেশি হওয়ায় বেশি পোশাক তৈরি করতে পারেন না। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছেন। সরকারি সংস্থা বা ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত কোনো ঋণ পাননি।
বিক্রেতা নিশা চাকমা জানান, একজন নারীর এক জোড়া পিনন-হাদি তৈরিতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। পাহাড়ের বেশিরভাগ নারী নিজ উদ্যোগে এর ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনামূলক বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে সেই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রাঙামাটির যে কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। যদি ব্যাংক থেকে ঋণ দিতে না চায় তাহলে জেলা প্রশাসককে জানাতে তিনি অনুরোধ জানান।
