৭ কোটি মানুষ এখনো ২জি ফোনে, কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪৭
দেশের প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭ কোটি মানুষ এখনো বাটন ফোন বা টুজি (২জি) সেট ব্যবহার করেন। এসব মানুষকে ধীরে ধীরে স্মার্টফোন ও মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এসব মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর আ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এ কথা বলেন।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোন এখনো টুজি। প্রায় ১৪ কোটি সেটের হিসাবে এ সংখ্যা ৭ কোটির মতো। এসব মানুষকে রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এ পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাজেটের দুই সপ্তাহ আগে কম দামের স্মার্টফোন তৈরির বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়। দেশীয় নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ফোন তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরির চিন্তা করা হলেও নির্মাতারা জানিয়েছেন, ওই দামে ফোন তৈরি সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারের উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ভারতের রিলায়েন্স প্রায় ৩৯ ডলারে একটি কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি করছে। ফোনটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড। স্ক্রিনের আকার ছোট করে ফোনটির উৎপাদন খরচ প্রায় ৬ ডলার কমানো হয়েছে। একই ধরনের মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন।
মোবাইল অপারেটরদেরও এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান রেহান আসিফ আসাদ। নির্মাতাদের সঙ্গে যৌথভাবে কম দামের ফোনের সঙ্গে ভয়েস ও ডাটা প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
স্পেকট্রামের দাম কমানোর দাবি
গোলটেবিল বৈঠকে স্পেকট্রামের দাম কমিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, স্পেকট্রামকে শুধু সরকারি রাজস্বের উৎস হিসেবে দেখলে হবে না। সাশ্রয়ী মূল্যে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম দেওয়া হলে অপারেটররা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতে সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতিও গতি পাবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) সভাপতি জিয়াদ সাতারা বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের মোট রাজস্বের প্রায় ১৬ শতাংশ স্পেকট্রাম ফি হিসেবে দিতে হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এ হার গড়ে ১০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক গড় ৮ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের অপারেটরদের স্পেকট্রাম ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে শুধু গ্রাহক বা অপারেটরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। মানুষ, ব্যবসা ও সরকার- তিন পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের বদলে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে।
বৈঠকে টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে এবং এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকারসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
- বিষয় :
- মোবাইল
- স্মার্টফোন