ঢাকা রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

এসএসসির ২৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে ডিসির চিঠি

সঙ্গে বই, ফুল ও মিষ্টি উপহার

এসএসসির ২৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে ডিসির চিঠি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৫

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল করা ঢাকা জেলার ২৫ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। চিঠির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠিয়েছেন বই, ফুল ও মিষ্টি। জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। শনিবার দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে জেলা প্রশাসক বলেছেন, ‘তোমার মধ্যে আমি শুধু আজকের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকেই নয়, আগামী দিনের একজন আলোকিত মানুষকে দেখতে পাচ্ছি।’ এসএসসিতে তাদের সাফল্যের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন ও নিজের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি। চিঠিতে ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন শুধু তাদের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল নয়; এর পেছনে রয়েছে বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবিচল আস্থা এবং ত্যাগ। তাদের সাফল্য ঢাকা জেলার জন্যও গৌরবের।

‘জিপিএ-৫-এর ফ্রেমে নিজেকে আটকে রেখো না’
মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক লিখেছেন, ‘এটি কোনো গন্তব্য নয়, বরং এক মহাজাগতিক যাত্রার শুরু মাত্র।’ 

তিনি শিক্ষার্থীদের আরও কৌতূহলী, সাহসী ও জ্ঞানপিপাসু হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শুধু ভালো ফলের পেছনে না ছুটে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও গভীর দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমানের এই আধুনিক যুগে কেবল জিপিএ-৫-এর ফ্রেমে নিজেকে আটকে না রেখে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও গভীর দেশপ্রেমে বলীয়ান হও।’ 

শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে এমন মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যারা শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়বে না, বরং মেধা দিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবে। চিঠির শেষাংশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি লিখেছেন, হয়তো অনেক বছর পর তারা আবার এই চিঠি পড়বে। তখন তাদের ঘিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, জীবনের পথও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

সেই সময়ে যেন তারা ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে—‘আমি আমার স্বপ্নকে সম্মান করেছি, আমার মেধার মর্যাদা রেখেছি এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি।’ শিক্ষার্থীদের পথচলা অব্যাহত থাকা এবং সাফল্যের প্রতিটি শিখরে তাদের বিজয় কামনা করে চিঠির ইতি টেনেছেন ফরিদা খানম।

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সরাসরি অভিনন্দনপত্রের পাশাপাশি বই, ফুল ও মিষ্টি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কৃতী শিক্ষার্থীরা। আকস্মিক এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও। 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের সাফল্য শুধু তাদের পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গর্ব নয়, এটি ঢাকা জেলারও গর্ব।’ 

তিনি বলেন, ছোট্ট উপহার ও চিঠির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানাতে চেয়েছেন, তাদের মেধা ও স্বপ্নের প্রতি জেলা প্রশাসনের আন্তরিক শুভকামনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে—এটাই প্রত্যাশা জেলা প্রশাসনের। 

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে পুরোনো একটি স্মৃতিও সামনে এসেছে। এর আগে ২০০২ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সরাসরি চিঠি লিখেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই চিঠির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি করে বইও উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

এবার ঢাকা জেলার ২৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের অভিনন্দনপত্র, বই, ফুল ও মিষ্টি দেওয়ার উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

×