শঙ্কার মেঘ কেটে আলো
পটুয়াখালীতে রোপা আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষক
মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২২:১৩
মৌসুমের শুরু থেকেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় যথাসময়ে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করতে পারেননি অনেক কৃষক। ফলে এ বছর চাষে বিলম্ব হয়। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তবে ভাদ্রের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত বাড়ায় শঙ্কা অনেকটাই কেটেছে। মাঠে মাঠে ধান চাষে নেমেছেন কৃষক।
মৌসুমের শুরু থেকে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এতে হতাশ হয়ে পড়েন কৃষকরা। তবে মৌসুমের শেষে এসে অনুকূল আবহাওয়া পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
পটুয়াখালীতে পুরোদমে চলছে রোপা আমন আবাদ। এ ধান চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে জেলার ৮৭টি ইউনিয়নের ২ লাখ ৬০ হাজার ২২৫ কৃষক পরিবার। মাত্র কয়েক দিনেই আবাদ হয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ দশমিক ১ ভাগ। যা ২০ দিন আগেও ছিল ১ দশমিক ৪ ভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শ্রাবণের শেষ ও ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে রোপা আমন চাষ শুরু হয়। মৌসুমের শুরু থেকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় যথাসময়ে বীজতলা তৈরি করা যায়নি। ফলে এ বছর চাষে বিলম্ব হয় এবং আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে ভাদ্রের শুরু থেকে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা রোপা আমন আবাদ করছেন।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মাহবুবা সুখি জানান, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে আগস্টে ৩২৮ মিলিমিটার। মার্চে কোনো বৃষ্টি হয়নি। এ ছাড়া জুলাইয়ে ২৭৪, জুনে ২৩৬, মে মাসে ২০৯, এপ্রিলে ১৪, ফেব্রুয়ারিতে ১৯ এবং জানুয়ারিতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৩ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ২১৫ হেক্টর, স্থানীয় ৮৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ৭০ হেক্টর। মৌসুমের প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে রোপা আমন আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বাকি ৩৭ হাজার ৮৫৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কৃষকসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
এদিকে উপজেলাভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, জেলার মির্জাগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার ৪৮ শতাংশ, বাউফলে ৮৪ দশমিক ৯, গলাচিপায় ৯৭ দশমিক ৯, কলাপাড়ায় ৯৫ দশমিক ৮, দশমিনায় ৮৯ দশমিক ৯, দুমকিতে ৫৫ দশমিক ৮, রাঙ্গাবালীতে ৭৩ দশমিক ৯ ও সদর উপজেলায় ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে আমন আবাদের মৌসুম শুরু হয় এবং ভাদ্র-আশ্বিন পর্যন্ত চলে। কিন্তু শ্রাবণ মাসের শেষ সপ্তাহে এবং ভাদ্রের প্রথম দিকে রোপা আমন আবাদের জন্য আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসে। দেরি হলেও মাঠজুড়ে চলছে রোপা আমন আবাদে কৃষকের তৎপরতা।
জেলার রাঙ্গাবালীর বাহেরচরের কৃষক হাসান মাহমুদ (৫২) বলেন, এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে বিরূপ আবহাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে তাঁরা সঠিক সময়ে রোপা আমনের বীজতলাও তৈরি করতে পারেননি। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে কিছুটা বৃষ্টি হওয়ায় রোপা আমন চাষ শুরু করেন। বিলম্বে হলেও এ ধান চাষ পুরোটাই করতে পারবেন।
দুমকির দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার নূরুল ইসলাম মৃধা (৫৫) বলেন, 'সময়মতো বৃষ্টি হইলে এতদিনে রোপা আমন চাষ হয়ে যাইত। সবে বৃষ্টিপাত হইছে, এই তো ১৮-২০ দিন হয় চাষ শুরু করছি। আশা করি, ভাদ্র মাসের মধ্যেই আবাদ শেষ করতে পারমু।'
রাঙ্গাবালীর ভূঁইয়াকান্দার আবুল কাসেম (৬২) বলেন, 'বৃষ্টি না হওনে মোরা তো ধইরাই নিছিলাম এই বছর রোপা আমন চাষ করতে পারমু না। এখন বৃষ্টি হওয়ায় বাকি ক'দিনের মধ্যেই সব চাষ কইর্যা হালাইতে পারমু।'
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন বলেন, কাছাকাছি সময়ে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে দেরিতে হলেও রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
